সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

0
5

নাটোর (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নাটোরের বড়াইগ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে শিশু ফারদিন আহম্মেদকে গলাটিপে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন মা সেলিনা বেগম। সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের ভান্ডারদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সেলিনা বেগম উপজেলার ভান্ডারদহ গ্রামের আব্দুল হালিমের মেয়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে থানায় নেয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে সেলিনা বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল আলীমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তারা ঢাকায় বসবাস করতেন। বিয়ের তিন বছর পর তাদের ঘরে যমজ সন্তান ফারদিন ও তাহসিনের জন্ম হয়।

সম্প্রতি তাদের পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়ায় এক সপ্তাহ আগে সেলিনা ও তার দুই সন্তানকে নাটোরের বড়াইগ্রামের ভান্ডারদহ গ্রামে রেখে যান আব্দুল আলীম। কিন্তু আব্দুল আলীমের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি সেলিনা বেগম। ফলে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে সোমবার ফারদিনকে গলাটিপে হত্যার পর সেলিনা বেগম গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সেলিনা বেগমের স্বামী আব্দুল আলীম জানান, বর্তমানে চাকরিতে ওভারটাইম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই সে বউ ছেলেদের কিছু দিনের জন্য বাড়িতে রেখে ছিলাম। এর মধ্যে সেলিনা যে এমন ঘটনা ঘটাবে তা বিশ্বাস করতে তার কষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চান্দাই ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, অভাবের সংসারে পারিবারিক কলহ তৈরি হয়। তাই বলে নিজের শিশু সন্তানকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যার বিষয়টি দুঃখজনক।

বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেলিনার বাবা আব্দুল হালিম বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

রিপোর্ট পেলে তদন্তের মাধ্যমে আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে হত্যা এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here