না’গঞ্জে সাতখুন: কাঠগড়ায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলো সাক্ষী

0
13

নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় পুলিশের এএসপিসহ ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেফতার নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিনজন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, এমএম রানা ও আরিফ হোসেনসহ ২৩ জনের উপস্থিতিতে ওই ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তারা হলেন, সাত খুনের ঘটনায় আইনজীবী চন্দন সরকারের স্ত্রী অর্চনা সরকার, তার ভাগ্নে মাধব কুমার দেব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিম-উল আহসান, কনস্টেবল আবদুল লতিফ, নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের, নিহত সিরাজুল ইসলাম লিটনের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম, ডা. জলিল আহমেদ, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান, ডা. শেখ ফরহাদ, ডা. মাঈনউদ্দিন ও লাশের সুরতহাল তৈরি করা আকতার হোসেন।

এদিকে সাত খুনের সাক্ষ্য গ্রহণের সময় কনস্টেবল আবদুল লতিফ মাথা ঘুরে কাঠগড়ায় পড়ে যান। ওই সময়ে আইনজীবীরা সাক্ষী আবদুল লতিফকে জিজ্ঞেস করেন আপনি কী ‘তারেক সাঈদকে চেনেন। চিনলে কীভাবে চেনেন।’ তখন আবদুল লতিফ ২৩ আসামির মধ্যে তারেক সাঈদকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘উনি তারেক সাঈদ।’ এ কথা বলেই তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে অন্যরা তাকে উঠিয়ে মাথায় পানি দেওয়ার পর সুস্থ হন। পরে তিনি পুনরায় সাক্ষ্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার সহযোগি মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয় জনের ও ১ মে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ এপ্রিল কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাবের চাকরিচ্যুত ৩ কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় পুলিশ। এরমধ্যে ২৩জন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ১২জন পলাতক রয়েছে। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে ১২৭জনকে। ্এবং ১৬২ প্রকারের আলামত জমা দেয়া হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দু’টি মামলায় নূর হোসেনসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। পলাতক ১২ জনের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ চলছে। তাদের পক্ষে রাষ্ট্র ৪জন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here