নারায়ণগঞ্জে সাতখুন: আরো দুই র‌্যাব সদস্যের সাক্ষ্য গ্রহন

0
6

নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডারের মামলায় আরো দুই র‌্যাব সদস্য আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। তারা হলেন, র‌্যাব-১১’র সৈনিক মিলন হোসেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে ২০ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত। অপরজন নায়েক নাজিম উদ্দিন। বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে র‌্যাব-১৩ এর অধিনে নীলফামারিতে কর্মরত রয়েছেন। সোমবার সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। এসময় আদালতের কাঠগড়ায় ২৩ আসামী উপস্থিত ছিলেন। শুনানী শেষে আদালত পরবর্তী মামলার শুনানী দিন ধার্য করেন আগামী ১১ জুলাই।
আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে সৈনিক মিলন হোসেন বলেন, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় একটি ব্লু রঙের মাইক্রোবাসে মেজর আরিফ স্যার ও তার লোকজন সাদা পোশাকে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যায়। ওইদিন বিকেল ৩টায় হাবিলদার এমদাদ ও ল্যান্স নায়েক বেলাল ক্যাম্পে ফিরে আসে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ব্যারাকের পেছন দিকের ফাঁকা জায়গায় হাবিলদার এমদাদ ও ল্যান্স নায়েক বেলালকে রশি পাকাতে দেখি। সন্ধ্যা ৭টায় রোল কলের সময় হাবিলদার এমদাদ ও ল্যান্স নায়েক বেলাল হাজির হয়নি। রাতে সাড়ে ৯টার দিকে আমি অফিসের কাজ শেষ করে ব্যারাকে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
অপর সাক্ষী হাবিলদার নাজিম উদ্দিন আদালতকে বলেন, সাতজনকে অপহরনের সময় তিনি মেজর আরিফ স্যারের গাড়িতে ছিলেন। অপহরনের পর মেজর আরিফ স্যারের নির্দেশে তিনি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারটি ডেমরা হয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় রাস্তায় পাশে ফেলে রেখে বাস ও সিএনজি যোগে রাত ১০টায় ক্যাম্পে ফিরে আসি।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, সোমবার র‌্যাব-১১’র সাবেক ২ সদস্য আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। পরে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য প্রদানের তারিখ ধার্য করেছেন আগামী ১১ জুলাই।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাসহ সাত জনকে অপহরণ করে র‌্যাব। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল ৬ জনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১ মে আরো একজনের লাশ একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে ৩৫ জনকে আসামি করে গত বছরের ৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ২৩জন। এখনো পলাতক ১২জন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here