রূপগঞ্জে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটাকারী নারী ইউপি সদস্যের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

0
6

নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একজন শিক্ষককে জুতাপেটাকারী নারী ইউপি সদস্যের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ, সহকারী শিক্ষক ফরাদ হোসেন, কাউছার আহমেদ, খাদিজা, জায়েদা, ইয়াসমিন আক্তার, শরিফাসহ স্কুলের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
গত ২৯ মে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ‘আল আমীন মডেল একাডেমীর’ প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠে স্থানীয় নারী ইউপি মেম্বার বিউটি আক্তার কুট্টির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি মেম্বার বিউটি আক্তার বলেন, আমি ওই শিক্ষককে জুতা পেটা করিনি। জুতা পেটা করবো বলে বলেছি। কারণ সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছিল। অভিযুক্ত বিউটি আক্তার কুট্টি গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কায়েতপাড়া ইউয়িনের ৭, ৮ ও ৯নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী মেম্বার পদে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় মেম্বার নির্বাচিত হন।
মানববন্ধনে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘গত ২৯ মে সকাল সাড়ে ১০টায় কায়েতপাড়া ইউপি সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার বিউটি আক্তার কুট্টি তার দুই নাতনীকে সম্পুর্ন বিনা বেতনে পড়ালেখার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতির অনুরোধে বিদ্যালয়ের বেতন মওকুফ করিয়ে দিলেও বিউটি আক্তার কুট্টি কোচিং ফিও মওকুফের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তিনি ৫ম শ্রেনীর কোচিং ফি মওকুফ করতে রাজী না হওয়ায় তাঁকে গালাগাল ও জুতাপেটা করে। ওই সময় স্কুলের দুই সহকারী শিক্ষিকা মেম্বার বিউটিকে জোর করে রুমের বাইরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিউটির বড় ভাই, মেয়ে জামাইসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক এসে প্রধান শিক্ষকের রুমের আসবাব পত্র ও বই ফেলে দেয় এবং প্রধান শিক্ষককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।’
তবে বিউটি আক্তার কুট্টি জুতাপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই শিক্ষক অবৈধভাবে স্কুলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ১২০ টাকার বেতন ১৬০ টাকা করেছেন এবং ৫ম শ্রেণীর ২৫০ টাকার বেতন ৫০০ টাকা করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করলে তার প্রেক্ষিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বেতন কমাতে অনুরোধ করি। ওই দিনই স্কুলের বেতন ও কোচিং ফি’র জন্য ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা নামে আমার এক নাতনীকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফারুক আহমেদের সঙ্গে আমার বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। যার প্রেক্ষিতে আমি ওই শিক্ষককে জুতাপেটা করবো বলে বলি। তবে আমি তাকে জুতাপেটা করি নাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here