১৫ বছরেও বিচার হয়নি চাষাঢ়া আ’লীগ অফিসে বোমা হামলার

0
4

 নারায়ণগঞ্জ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলার আজ ১৫ বছর। দীর্ঘ এ সময়ে নারকীয় এ হত্যাযজ্ঞের বিচার আজও হয়নি। হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা হলেও বিচার কাজ চলছে ঢিমেতালে। অন্যদিকে বোমা হামলার ঘটনার প্রধান আসামী হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে সারাদেশে অনেক মামলা থাকায় যথা সময়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। এতে করে বার বার সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাচ্ছে। আর এতে করে মামলার দীর্ঘসূত্রিতাও বাড়ছে।
এদিকে ১৫ বছর ধরে নিহতদের স্বজনরা চোখের পানি ফেলে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক কুট কৌশলের ফাঁদে মামলা পাল্টা মামলায় আপনজন হারিয়েও মামলা করতে পারেনি স্বজনরা। ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘাতকদের বিচার কাজটি সম্পন্ন হয়নি আজও। কবে এ বিচার শেষ হবে তাও তারা জানেন না। জীবনদশায় বিচার দেখে যেতে পারবেন কী না তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে অনেকের মধ্যে।
নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কে এম ফজলুর রহমান জানান, মুফতি হান্নানের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৫১টি মামলা রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে তাকে হাজির না করায় সাক্ষ্য গ্রহণ কখনো কখনো বিলম্ব হচ্ছে। তবে সঠিকভাবেই মামলার বিচার কাজ শেষ হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ভয়াবহ বোমা হামলার ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০১৩ সালের ২ মে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এ দুটি মামলায় বাদীসহ ৭জনকে স্বাক্ষী করা হলেও গত ২১ জানুয়ারী বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্পূরক চার্জশিটে আগের চার্জশিটভূক্ত আসামি অভিন্ন রেখে শুধুমাত্র সাক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সম্পূরক চার্জশিটে ৮জন তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি ৩৭জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। চার্জশীটভুক্ত ৬ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল ক্যাডার মমিন উল্লাহ ডেভিডের ভোট ভাই শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল ও হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান গ্রেপ্তার রয়েছেন। ভারতের দিল্লী কারাগারে আটক রয়েছেন সহোদর আনিসুল মোরসালিন ও মুহিবুল মুত্তাকিন। পলাতক রয়েছে ওবায়দুল্লাহ রহমান। আর জামিনে রয়েছেন নাসিক ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।
২০০১ সালের ১৬ জুন শহরের চাষাঢ়াস্থ আওয়ামীলীগ অফিসে দেশের ভয়াবহ নৃশংস বোমা হামলায় মারা যান ২০ জন। শামীম ওসমানসহ আহত হয় অর্ধ শতাধিক। এরমধ্যে অনেকেই বরণ করে নিয়েছে পঙ্গুত্ব। ঘটনাস্থলে ১১ জন ও বাকীরা হাতপাতালে নেয়ার পর। নিহতদের ১৯ জনের পরিচয় সনাক্ত হলেও পরিচয় মেলেনি নিহত ১ মহিলার। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এই ভয়াবহ বোমা হামলার স্মৃতি মনে করে আজও শিহরিত হয়ে উঠে এখানকার মানুষ।
সেদিন যারা নিহত হয়েছিল
বোমা হামলায় নিহতরা হলো, শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল হাসান বাপ্পী, সহোদর সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের জিএস আকতার হোসেন ও সঙ্গীত শিল্পী মোশাররফ হোসেন মশু, সঙ্গীত শিল্পী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাসানী, নারায়ণগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এ বি এম নজরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাইদুর রহমান সবুজ মোল্লা, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী পলি বেগম, ছাত্রলীগ কর্মী স্বপন দাস, কবি শওকত হোসেন মোক্তার, পান সিগারেট বিক্রেতা হালিমা বেগম, সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড মেম্বার রাজিয়া বেগম, যুবলীগ কর্মী নিধু রাম বিশ্বাস, আব্দুস সাত্তার, আবু হানিফ, এনায়েতউল্লাহ স্বপন, আব্দুল আলীম, শুক্কুর আলী, স্বপন রায় ও অজ্ঞাত এক মহিলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here