খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যে জামায়াতকে চায় না কেউ

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট শিগগির রাজধানীতে জঙ্গিবিরোধী জাতীয় কনভেনশন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বুধবার জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে এই কনভেনশনে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতকে রাখা হবে কী না সে প্রশ্নে নীরব রয়েছেন খোদ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। জোটের বৈঠকেও তিনি জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে জামায়াত যে বাধা তা   দলটির প্রতিনিধিকে বলেছেন। বিএনপিসহ জোটের শরিকরাও বলছেন, খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যে জামায়াত থাকলে সেই ঐক্যে অনেক প্রগতিশীল দল আসবে না। ক্ষমতাসীনরাও এমন ঐক্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করবে। তাই জামায়াতকে বাদ দিয়ে কিভাবে জাতীয় কনভেনশন সফল করা যায় সে ব্যাপারেও বিএনপির একটি অংশ চিন্তা-ভাবনা করছে। গত বুধবার খালেদা জিয়ার সাথে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়। গত ১ জুলাই রাতে গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় বিদেশিসহ পুলিশ কর্মকর্তা খুনের ঘটনার একদিন পরই জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন খালেদা জিয়া। এরপর ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পাশে জঙ্গিদের হামলায় পুলিশসহ ৪ জন নিহত হওয়ার পরও বিএনপি চেয়ারপারসন দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহ্বান জানান। দেশের ক্রান্তিকালে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে সরকারের দুজন প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বাগত জানান। সর্বশেষ জাতীয় ঐক্যের ধরন কী হবে এবং তা কীভাবে তৈরি করা যায় সে ব্যাপারে কথা বলতে গত বুধবার রাতে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন বিএনপিপ্রধান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জোটের এমন একটি প্রভাবশালী শরিক দলের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জোটের বৈঠকে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে ২০ দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয় এবং সব দল-মত নিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরিতে জোটের পক্ষ থেকে শরিক দলের নেতারা জোটপ্রধানকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এক পর্যায়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা রাজধানীতে জাতীয় কনভেনশনের ব্যাপারে একমত হলে সেই কনভেনশনে কারা থাকতে পারেন সে আলোচনা আসে। তখনই বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ‘অতীতেও বিভিন্ন সময় ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মের ক্ষেত্রে জামায়াতের কারণে বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা, ড. কামালের গণফোরাম, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং আ স ম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জেএসডি-রব) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবীরা বিএনপির পাশে দাঁড়ায়নি। এবারো জাতীয় কনভেনশনে জামায়াত থাকলে ওই দলগুলো এবং সুশীল সমাজের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন না। যদি ২০ দলের বাইরে কোনো দল উপস্থিত না থাকে তাহলে জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ ভেস্তে যাবে।’ এ সময় বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত দলটির কর্মপরিষদের সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘জামায়াতের কারণে যেসব দল কনভেনশনে আসবে না তাদের ভোটব্যাংক নেই। নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে এসব দলের কোনো গুরুত্ব থাকে না।’ তখন তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এখন জাতির ক্রান্তিকালে ভোটের হিসাব আসছে কেন? ওই সব দলের ভোটব্যাংক না থাকলেও জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অবদান আছে। জাতীয় রাজনীতিতে ওই নেতাদের উপস্থিতির গুরুত্ব অনেক।’ এ সময় খালেদা জিয়া ক্ষোভের সাথে জামায়াতের ওই নেতাকে বলেন, ‘আপনারা (জামায়াত) যে ১৯৯১-১৯৯৬ সালে বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের সাথে মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন সে কথা জাতির সামনে কেন স্পষ্ট করছেন না?’ তখন আব্দুল হালিম চুপ থাকেন। বৈঠকের বেশির ভাগ সময় জামায়াতের ওই প্রতিনিধি নীরব ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের পরও জোটের শরিক দুইটি দলের শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুলকে বলেন, ‘জাতীয় কনভেনশনে জামায়াত থাকলে অনেক দলই এতে যোগ দেবে না।’ তবে বৈঠকের পর ওই নেতাদের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বৈঠকে এই বিষয়টি কেন স্পষ্ট করেননি?’ এরপর কোনো কথা না বলেই শরিক দলের দুই নেতা ধীরে ধীরে গুলশান কার্যালয় ত্যাগ করেন।
জোটের বৈঠকের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাদের সাথে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিল রাজধানীতে জঙ্গিবিরোধী জাতীয় কনভেনশন সফল করা। সেই কনভেনশনে কোন কোন দলকে আমন্ত্রণ জানানো যায় সে ব্যাপারে নেতারা খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দেন। এ সময় জাতীয় ঐক্য তৈরির লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ দেশের সব রাজনৈতিক দলকে বিএনপির জাতীয় কনভেনশনে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপরই জাতীয় ঐক্যে জামায়াতের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য। তার এই আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্য নেতারা জানান, অতীতেও নির্দলীয় সরকার ইস্যুসহ বিভিন্ন দাবিতে যখনই জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তখনই জামায়াতের কারণে তা সফল হয়নি। বিকল্পধারা, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জেএসডি-রব, বিভিন্ন বাম ঘারানার রাজনৈতিক দল এবং চরামোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন ও আহমদুল্লাহ আশরাফের খেলাফত আন্দোলনসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জামায়াতের সাথে তারা কোনো ঐক্য করবে না। বিভিন্ন পেশাজীবী নেতাও জামায়াতের কারনেই বিএনপির সাথে একই মঞ্চে উঠতে চান না। ফলে অতীতে কোনো জাতীয় প্লাটফর্ম তৈরি করা যায়নি। এবারোও জাতীয় ঐক্যের সাথে জামায়াত থাকলে তা কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে নেতারা সংশয় প্রকাশ করেন। খালেদা জিয়াও তাদের সংশয়ের সাথে একমত পোষণ করেন বলে জানা গেছে। এ সময় স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনকে জামায়াতকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ নেয়া কথা বলেন। তার প্রস্তাবে অন্য নেতারা নীরব থাকলেও তিনি নিজেই বলেন, জামায়াতের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা ভালো। এতে তারাও বিকল্প উদ্যোগ নিতে পারে। তখনো নীরব ছিলেন বিএনপিপ্রধান। এদিকে জামায়াতকে সাথে নিয়ে খালেদা জিয়া যে জাতীয় ঐক্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তার সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। গতকাল তিনি বলেন, জঙ্গিদের পাশে রেখে জাতীয় ঐক্য হয় না। জামায়াতকে বাদ দিয়ে জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ করতে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রতি আহ্বান জানান। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সব দল-মত নিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরি করা হবে। আমরা কোনো দলকেই বাদ দিতে চাই না। জামায়াতের ব্যাপারে তিনি বলেন, কনভেনশনে কারা থাকবে না থাকবে তা কনভেনশনের আগে স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। – See more at: http://bhorer-dak.com/details.php?id=23095#sthash.uWr4afrG.dpuf

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here