বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি ‘কাজি ক্যাসল’

0
7

সিলেট (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : বাংলাদেশের এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেটের ‘কাজি ক্যাসল’। সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় নির্মিত বাড়ির মালিক মাহতাবুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। লোক দেখানোর জন্য নয়, বাড়িটি তিনি নির্মাণ করেছেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে থাকার উদ্দেশ্যে। চার দেশের প্রকৌশলীর ছোঁয়া আর প্রায় আড়াই শ নির্মাণ শ্রমিকের ৮ বছরের পরিশ্রমে নির্মিত বাড়িটির দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সবাই।
প্রাসাদোপম এই বাড়িটির নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধতার পাশাপাশি বাড়িটির প্রতি সাধারণ মানুষের কৌতুহল বেড়েই চলেছে। প্রায় আট একর জায়গার ওপর নির্মিত এই বাড়িটির ছাদে আছে হেলিপ্যাড, সুইমিংপুল, স্টিমবাথ, লিফটসহ আধুনিক স্নানাগার। ২৯টি মাস্টার বেডের ডিজাইন করা হয়েছে ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে। ২০০৮ সালে সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় তিনতলাবিশিষ্ট এই বাড়ির কাজ শুরু করা হয়। দুবাই, ফ্রান্স, লেবানন ও জার্মানি- এই চার দেশের প্রকৌশলী দ্বারা বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে মাহতাবুর রহমান বলেন, প্রথমে আমি দুবাই থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসেছিলাম, উনি প্রথমে ডিজাইনটা করেছিলেন, পরবর্তীতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনটা দিয়েছিলাম একজন লেবানিজকে। পুরো বাড়িটির লাইটিং-এর কাজ করেছেন জার্মানের কম্পানি টিফেনি লাইটিং। আর ফ্লোরগুলো করে দিয়েছে ফ্রান্সের একটি কম্পানি।
জানা যায় প্রায় তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে বিলাসবহুল এই বাড়িটি। নির্মাণব্যয় নিয়ে বাড়ির মালিক মাহতাবুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”আমি নিজের ব্যবহারের জন্য বাড়ি করেছি, তাই এইটা নির্মাণে কত ব্যয় হয়েছে আমি তা হিসেবে করে দেখিনি।
তিনি বলেন, এইটা যদি আমার ব্যবসা হতো তাহলে আমি হিসাব রাখতাম। কত দিয়ে কিনেছি আর কত বিক্রি করবো, লাভক্ষতির হিসাব রাখতাম। বাড়ির প্রয়োজনে যখন যা লেগেছে আমি তা খরচ করেছি।
গত আট বছর ২৫০ জন শ্রমিক নিরলস কাজ করে তৈরি করেছেন বাড়িটি। বর্তমানে বাড়ির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। তিনতলা এই বাড়িটির বিল্ডার এরিয়া প্রায় ৮০ হাজার স্কয়ার ফিট। পাঁচ হাজার মানুষের অনুষ্ঠান করার বন্দোবস্ত আছে এই বাড়িতেই। পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক কক্ষ।
মাহতাবুর রহমান জানান, ২৯টি মাস্টার বেডের ডিজাইন করা হয়েছে ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে। ভবনের শুধু নিচতলায় রয়েছে ৯টি ডায়নিং রুম, ১৪টি ড্রইং রুম, আছে দুটি লিফট, অভিজাত ইতালিয়ান বুক ম্যাচিং ওয়ান প্লেট মার্বেলের আধিক্য আছে পুরো বাড়িজুড়ে।
বাড়ির ভেতরে সৌদি আরবের ওয়াকফ মিনিস্ট্রির উপহার দেওয়া পবিত্র কাবা শরিফের দরজার রেপ্লিকাও রাখা হয়েছে অতি যত্ন করে। কেউ সরাসরি না দেখলে বুঝানো যাবে না এই বাড়ির সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য। ‘কাজি ক্যাসল’ নামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ঢুকলেও জানা যাবে এই বাড়ির খুটিনাটি। রাত হলেই লাইটিং দিয়ে একটার পর একটা রংয়ের খেলায় মেতে ওঠে পুরো বাড়িটি। আলোর এমন ঝলকানি আগে কখনো দেখেননি সিলেটের মানুষ।
লোক দেখানোর জন্য নয় একান্নবর্তী পরিবারের সকলকে নিয়ে একসাথে থাকার জন্যই এই বাড়িটি নির্মাণ করেছেন বলে জানালেন মাহতাবুর রহমান।
একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আমি থাকার জন্য বাড়িটি তৈরি করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমি বাংলাদেশের মধ্যে বড় বাড়ি বানাবো এইটা কখনোই আমার স্বপ্ন ছিল না। আমার স্বপ্ন ছিল আমার ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাই কোনো একটা প্রোগ্রামে একসাথে থাকবো। সে জন্যই বাড়িটি বানানো।
উল্লেখ্য, ‘কাজি ক্যাসল’-এর স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড আল-হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ অব কম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক টানা তিনবার সিআইপি নির্বাচিত হন। মাহতাবুর রহমান ২০১৩ ও ১৪ সালে বাংলাদেশে সর্বাধিক রেমিটেন্স পাঠানোর স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংক র‌েমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here