অসুস্থ শিশুকে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে একদল তরুণ

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : পৃথিবীর প্রত্যেক মা-বাবার কাছে তার সন্তানটি বড় আদরের। সাধের সাথে সাধ্যের সমন্বয় ঘটুক আর না ঘটুক পিতার কাছে তার মেয়ে পরম ভালবাসার সম্পদ। আদরের সেই সোনামনিকে নিয়ে বাবার চোখে-মুখে থাকে রাজ্যের স্বপ্ন।
হৈ-হুল্লোড় আর দুষ্টুমিতে যে মেয়েটি একদা সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতো সে যদি হঠাৎ আনমনা হয়ে উঠে, খেলার সাথীদের সঙ্গ ত্যাগ করে প্রহর গুনতে থাকে মৃত্যুর, তাহলে সেই মেয়েকে নিয়ে বাবা-মায়ের সব স্বপ্নই ধূসর হয়ে যায়, স্বপ্ন দেখার সেই চোখগুলোতে জায়গা করে নেয় বেদনার নোনাজল। চোখের সামনে ধুঁকে ধুঁকে মরে সন্তান, কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল, অক্ষম বাবা তার কিছুই করতে পারছেন না। বিনা চিকিৎসায় সন্তান মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে-একজন বাবার জন্য এরচেয়ে বেদনার আর কী হতে পারে?
বলছিলাম চাঁদপুরের কচুয়ার নিভৃতপল্লীর দরিদ্র দিনমজুর ইকবাল হোসেনের অসুস্থ শিশু জান্নাতের গল্প। সবেমাত্র পাঁচ বছরে পা দিয়েছে মেয়েটি। নতুন বছরের শুরুতে তাকে স্কুলে ভর্তির কথাই ভাবছিলেন দিনমজুর ইকবাল। সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিল। কিন্তু দূরারোগ্য হৃদরোগ এসে তার সবকিছু যেন উলটপালট করে দিলো। হঠাৎ কালবৈশাখীর দমকা ঝড়ে সাজানো গোছানো সবকিছু যেমন হয়ে যায় লন্ডভন্ড তেমনটি হয়েছে ফুটফুটে এ মেয়েটির ক্ষেত্রেও। ডাক্তাররা জানিয়েছে জান্নাতের হৃদযন্ত্র ফুটো হয়ে গেছে।
সদা-হাস্যোজ্জ্বল বাড়ি–ঘর মাতিয়ে রাখা মেয়েটি কঠিন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার পর নিজের সবকিছু দিয়েই চেষ্টা করছিলেন বাবা। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে শুরু করে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও চিকিৎসা কয়িয়েছেন তিনি। কিন্তু আর যেন কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। নুন আনতে যার পান্তা ফুরায় সেই দিনমজুর বাবার আর কি-ই বা করার আছে। বেশ কিছুদিনের চিকিৎসায় ইতিমধ্যে তিনি নিজের সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব এই বাবার পক্ষে ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ বহন করা সত্যিই অসম্ভব।
মেয়ের চিকিৎসার হাল ছেড়ে দিয়ে যখন অঝোরে জল ঝরছিল এই অভাগী জান্নাতের বাবার দু’গণ্ড বেয়ে তখন এগিয়ে এলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার রূপসা এলাকার কয়েকজন উদ্যমী–ত্যাগী তরুণ। এখন শিশু জান্নাতের চিকিৎসা সহায়তার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দু’হাত পেতে অর্থ সংগ্রহ শুরু করছেন তারা।
ঢাকার বনানীর রয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র পারভেজ মোশাররফ তন্ময় ও কিছু বন্ধু তাদের ক্লাস বাদ দিয়ে শিশু জান্নাতের চিকিৎসা সহায়তায় তহবিল গঠনে ব্যস্ত রয়েছেন। এলাকার বিভিন্ন স্কুল,কলেজ, হাট, বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি ‘চিকিৎসার অভাবে জান্নাতের মৃত্যু হতে পারে না’ শিরোনামের একটি ফেসবুক পেইজও চালু করেছেন তারা।
যেখানে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন সেখানে এ কয়জন তরুণ আর কত টাকাই বা সংগ্রহ করতে পারবেন। তাই জান্নাতের চিকিৎসায় সহায়তায় আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। যদি কেউ সাহায্য পাঠাতে চান তাহলে উল্লেখিত বিকাশ নম্বরে পাঠাতে পারেন- পারভেজ- ০১৬৮৯-২৮০৬১১,০১৮৪৩-৫৪৯০২২ রিয়াজ – ০১৯৫২-০১১৫০৫।
জানতে চাইলে পারভেজ মোশাররফ তন্ময় বলেন, চিকিৎসার অভাবে পাঁচ বছরের একটি ফুটফুটে শিশু ধুঁকে ধুকে মারা যাবে, তা হতে পারে না। বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তোলে। তাই মানবিক বোধ থেকেই বন্ধুদের নিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করছি। জানিনা কতটুকু পারবো। তবে আমরা শেষ চেষ্টাটা চালিয়ে যাবো। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’
তিনি বলেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসেন তাহলে এ শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভব বলেই আমি মনে করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জান্নাতের বাবা ইকবাল হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে আমার একমাত্র মেয়ে জান্নাতের হার্টে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এলাকার হাসপাতালে দেখানোর পর তারা ঢাকায় আনার জন্য বলছে। তাই শাহবাগের পিজি (বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে মেয়েকে নিয়ে আসি। এখানকার ডাক্তাররা বলছেন জান্নাতের হার্টে ফুটা আছে। অপারেশন করা লাগবে।
তিনি বলেন, অপারেশনের জন্য দরকার আড়াই লাখ টাকা। ডাক্তাররা একমাসের সময় দিয়েছে। নিজের যেটুকু জায়গা-সম্পত্তি ছিল তা বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা জমা করেছি। এছাড়াও পারভেজ ভাইরাও জান্নাতের চিকিৎসার জন্যে অনেক চেষ্টা করছেন। জানি না কি হয়।
যারা জানাতের চিকিৎসার জন্য সাহায্য পাঠাতে চান তারা জান্নাতের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেও অর্থ সহায়তা পাঠাতে পারেন। ইকবাল হোসেনের ফোন নম্বর -০১৯১৯-৪৬৩৪৯৩।
‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য’ ভূপেন হাজারিকাও গানে গানে এই আবেদন জানিয়েছিলেন মানুষের কাছে। তাই পাঠকদের একটু সহানুভূতি, একটু ভালোবাসা আর একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো ফুটফুটে জান্নাত আবারও সুস্থ হয়ে উঠবে। দরিদ্র বাবাও হয়তো নতুন করে রঙিন স্বপ্নের বীজ বুনবেন তার আদরের মেয়েকে নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here