আন্ধারমানিক নদীতে ইলিশের অভয়াশ্রম নিয়ে শঙ্কা

0
5

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় তৈরি হচ্ছে পায়রা ১,৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে নদীর পানি, যা গরম অবস্থায় আবার নদীতেই গিয়ে পড়বে। এতে ইলিশের চলাচল ও প্রজনন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।
দেশের মোট মৎস্য সম্পদের ১১ ভাগ আর জিডিপির ১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে ইলিশের জন্য দেশে ৫টি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। তার একটি পটুয়াখালীর এই আন্ধারমানিক নদী। যেখানে সমুদ্র থেকে আক্টোবরের পূর্ণিমায় ইলিশ আসে ডিম পাড়ার জন্য। তাই ইলিশের চলাচল ও বংশ বৃদ্ধির সুযোগ দিতে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি এখানে সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধ। সমুদ্র থেকে যেসব পথ ধরে ইলিশ পদ্মা-মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে ঢোকে আন্ধারমানিক ও তেঁতুলিয়া নদী তার অন্যতম। কিন্তু এই দুই নদীর সংযোগস্থল আন্ধারমানিকের তীরে স্থাপন করা হচ্ছে পায়রা ১,৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। যেখানে প্রতিদিন ব্যবহার করা হবে প্রায় ১২ কোটি লিটার নদীর পানি। প্রকল্পের পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবহৃত পানি স্বাভাবিকের চেয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি গরম হবে, যা আবার নদীতে গিয়ে পড়বে। ইলিশের ক্ষতি হবে এ কথা জেনেও, নির্বিকার মৎস্য অধিদফতর। তাদের অভিব্যক্তি অনেকটা এমন যে, ৫টার মধ্যে একটা অভয়াশ্রমের ক্ষতি হলেও ইলিশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এই প্রকল্পে যা পরিবেশবান্ধব। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা পানি নদীর পানিকে সামান্যই গরম করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পরও যদি পরিবেশগত ক্ষতির প্রমাণ মেলে সে ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গরম পানি নদীতে যাবে এবং ইলিশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। সরকার জেনেশুনেই এই ক্ষতি করতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে হয়তো আন্ধারমানিক নদীর আন্ধার শব্দটির আর কোনো মানে থাকবে না আলোয় ভরে যাবে। কিন্তু হারিয়ে যেতে পারে এই নদীর মানিক ইলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here