ইংরেজিতে ২৯ ও গণিতে ২৩ ভাগ শিক্ষার্থীর ন্যূনতম দক্ষতা নেই

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : ষষ্ঠ শ্রেণিতে মাত্র ১৫ ভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি বিষয়ে কাক্সিক্ষত মানের দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। এর মধ্যে ১০ ভাগ ভালো দক্ষ ও ৫ ভাগ ওই শ্রেণির চেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। পক্ষান্তরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে দক্ষতার মানদণ্ডের বাকি সূচকগুলোর মধ্যে ৩৬ ভাগ শিক্ষার্থী ‘আধা দক্ষ’, ২০ ভাগ মোটামুটি ‘দক্ষ’ এবং কোনো রকম দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি এরূপ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯ ভাগ (অদক্ষ)।
‘অদক্ষ’, ‘আধা দক্ষ’, ‘দক্ষ’, ‘ভালো’ ‘দক্ষ’ এবং ‘সর্বোচ্চ’ দক্ষতার ৫টি স্তরের শিখনমান নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকারের তৈরিকৃত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের ওপর দক্ষতা নিরূপণ করা হয়। দেশের ৩২টি জেলার ৫৫ উপজেলার ৫২৭টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয়। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির ১৫ হাজার ৮১০ জন করে মোট ৩১ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থীকে এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং।
মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলা ও ইংরেজিতে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে ছাত্রীরা। আর গণিতে এগিয়ে ছাত্ররা। সবচেয়ে ভালো শিখছে রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থীরা, সবচেয়ে পিছিয়ে সিলেট বিভাগ। সাধারণ শিক্ষার চেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা খুব একটা পিছিয়ে নেই। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সমানে সমান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি ছাড়া গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অনেক নিচে আছে ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। মোটামুটি অর্থাৎ গড় মানে রয়েছে ৫৭ শতাংশ আর ২০ শতাংশ অধিক দক্ষতা অর্জন করছে। আর বাংলায় ৩০ শতাংশ প্রয়োজনের চেয়ে কম, ৬০ শতাংশ গড় মান ও ১০ শতাংশ অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে।
একইভাবে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অষ্টম শ্রেণির গণিতে ৮ শতাংশ প্রয়োজনীয় দক্ষতার নিচে, ৭৩ শতাংশ গড় মান ও ২২ শতাংশ অধিক দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। অনুরূপভাবে ইংরেজিতে ৯ শতাংশ প্রয়োজনীয় দক্ষতার নিচে, ৭২ শতাংশ গড় মান ও ১৯ শতাংশ অধিক দক্ষতা অর্জন করেছে। বাংলায় ১৩ শতাংশ প্রয়োজনীয় দক্ষতার নিচে, ৬৪ শতাংশ গড় মান ও ২২ শতাংশ অধিক দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলায় ৬৮ শতাংশ ছেলে ও ৭০ শতাংশ মেয়ে গড় মান অর্জন করেছে। ইংরেজিতে ৭১ শতাংশ ছেলে ও ৭১ শতাংশ মেয়ে গড় মান অর্জন করেছে। গণিতে ৮০ শতাংশ ছেলে ও ৭৫ শতাংশ মেয়ে গড় মান অর্জন করেছে। অষ্টম শ্রেণিতে বাংলায় ৫৫ শতাংশ ছেলে ও ৫৪ শতাংশ মেয়ে, ইংরেজিতে ৫০ শতাংশ ছেলে ও ৪৯ শতাংশ মেয়ে এবং গণিতে ৬২ শতাংশ ছেলে ও ৫২ শতাংশ মেয়ে গড় মান অর্জন করতে পেরেছে।
রাজশাহী বিভাগে বাংলায় জাতীয় গড় মানের দক্ষতার হার ৮১ ভাগ, ইংরেজিতে ৮৩ ভাগ আর গণিতে ৮৯ ভাগ। একই সঙ্গে পিছিয়ে থাকা সিলেটে জাতীয় গড় মানের দক্ষতার হারে বাংলার অবস্থান ৫৬ ভাগ, ইংরেজিতে ৫৬ ভাগ আর গণিতে ৫৫ ভাগ। তবে জাতীয় গড় মানের দক্ষতায় দ্বিতীয় শীর্ষে অবস্থান করছে বরিশাল বিভাগ। এই বিভাগে বাংলায় দক্ষতার হার ৭১ ভাগ, ইংরেজিতে ৭৯ ভাগ এবং গণিতে ৮৬ ভাগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয় গড় মানে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলায় সাধারণ শিক্ষায় দক্ষতার হার ৭১ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৬৩ শতাংশ। অনুরূপভাবে ইংরেজিতে সাধারণ শিক্ষায় ৭৩ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৬৩ শতাংশ এবং গণিতে সাধারণ শিক্ষায় ৭৭ শতাংশ ও মাদ্রাসার ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী গড় মান অর্জন করেছে। একই সঙ্গে অষ্টম শ্রেণিতে বাংলায় সাধারণ শিক্ষায় ৫৬ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৪২ শতাংশ, ইংরেজিতে সাধারণ শিক্ষায় ৫১ শতাংশ ও মাদ্রাসায় ৩৯ শতাংশ এবং গণিতে সাধারণ শিক্ষায় ৫৭ শতাংশ ও মাদ্রাসায়ও ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী গড় মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন্স (লাসি) নামক ওই প্রতিবেদন রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে প্রকাশিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান জানেন ১০ বছরেও তার প্রতিষ্ঠানে কেউ পরিদর্শনে আসবে না। এ জন্য শিখনমানের সমস্যা প্রকট হয়। তিনি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার ওপর নজর দিতে শিক্ষা কর্মকর্তাদের জোর তাগিদ দেন। নোট বই থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন না করার নির্দেশ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ নোট বই থেকে প্রশ্ন করলে তা বাতিল করা হবে এবং তাকে শাস্তি পেতে হবে। তিনি আরো বলেন, বেশির ভাগ কলেজে সকাল ১১টার পর বেশির ভাগ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায় না। আবার শিক্ষকরা মনে করেন, ক্লাসে পড়ালে কোচিং প্রাইভেটে শিক্ষার্থীরা আসবে না। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন। এতে দেশের জেলা উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার হার পরিমাণের দিক থেকে বেড়েছে কিন্তু গুণগতমান সে অনুযায়ী বাড়েনি। সে জন্য গুণগতমানের দিকে জোর দিতে হবে।
প্রতিবেদন সম্পর্কে মাউশি অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন বিভাগের উপ-পরিচালক কামাল উদ্দিন হায়দার ভোরের ডাককে বলেন, এতদিন শুধুমাত্র সেকায়েপভুক্ত প্রতিষ্ঠানে লার্নিং অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। এবার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে এই জরিপের আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের তত্ত্বাবধানে বিদেশি একটি সংস্থা এই জরিপের কাজ করেছে। মূলত এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বোঝা যাবে শিক্ষার্থীরা কেমন শিখছে। কোন বিষয়ের শিক্ষকরা কেমন পড়াচ্ছে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই কোন বিষয়ে আমাদের আরো গুরুত্ব দেয়া দরকার তা বোঝা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here