গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অসঙ্গতিপূর্ণ ও অযৌক্তিক

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অসঙ্গতিপূর্ণ এবং অযৌক্তিক বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা (এমসিসিআই)। সোমবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহাম্মদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রগতির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি বিইআরসির মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করার জন্যে বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সর্বোচ্চ ১৫% মূল্য বৃদ্ধি করতে সরকারকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানায় চেম্বার।
শুধুমাত্র মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে গ্যাস সেক্টরে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব নয় দাবি করে চেম্বার জানায়, এক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু সমস্যা যেমন মিটারে গরমিল, গ্যাস সংযোগের অসাধু ব্যবহার, অসাধু উপায়ে বিল কমিয়ে দেওয়া বা অবৈধ সংযোগ- এ বিষয়গুলো রোধ করার জন্যে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি না ঘটিয়েও এ পরিস্থিতির সুরাহা করা সম্ভব হতে পারে।
বক্তব্যে আরও জানানো হয়, আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ সীমিত, এবং তা আহরিত হয় ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এই সম্পদের সঠিক ব্যবহার আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। এই চেম্বার মনে করে যে, ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের জ্বালানি মিশ্রণে নানা বিকল্প জ্বালানির পরিমাণ বাড়াতে হবে। গৃহস্থালিসহ শ্রেণিভেদে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত জ্বালানির বিলি-বণ্টন ও মূল্যহার কীভাবে সুষম ও স্বল্প হতে পারে সরকারকে তা খুঁজে বের করতে হবে।
চেম্বার জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাস ক্ষেত্রে রাষ্ট্র-পরিচালিত পরিবেশকদের কাছ থেকে একটি মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পেয়েছে। মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা মনে করে, প্রস্তাবিত এই মূল্যবৃদ্ধি গৃহীত হলে আমাদের পরিবহন খরচ, বাণিজ্য ক্ষেত্রে উৎপাদন ও আনুষঙ্গিক সব খরচ, বিদ্যুৎ ও সারসহ সকল উৎপাদন খরচ, কৃষিপণ্য এবং সর্বোপরি নিত্যপণ্যের খরচসহ নানাবিধ খরচ বেড়ে যাবে। এমন অপরিকল্পিত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের খাতসহ অনেক খাতেরই প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ব্যাহত করবে। ভিশন ২০২১ কে সামনে রেখে সরকার যে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করার যে লক্ষ্য স্থির করেছে, গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি তার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বিইআরসি প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির প্রকাশ্যে গণশুনানির সময় হিসেবে আগামী ৭-১৮ আগস্টকে ধার্য করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের দাম বাড়ায়, যাতে গড় বৃদ্ধি ২৬.২৯% পর্যন্ত হয়েছে। এখন এক বছরের মধ্যেই আবারো গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি প্রস্তাব বিইআরসি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। এ প্রস্তাবে দেখা যায় যে, গৃহস্থালি মিটারযুক্ত গ্রাহক শ্রেণির জন্যে গ্যাসের দাম প্রতি ঘন মিটারে ৭ টাকা থেকে ১৪০% বাড়িয়ে একবারে ১৬.৮০ টাকায় ধার্য করার জন্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, এক বার্নারের মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৬০০ টাকা থেকে ৮৩% বাড়িয়ে ১১০০ টাকায় ও দুই বার্নারে জন্যে প্রতি ঘন মিটারে ৬৫০ টাকা থেকে ৮৫% বাড়িয়ে ১২০০ টাকায় ধার্য করার জন্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবের মাঝে রয়েছে বিদ্যুত-কেপটিভের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৮.৩৬ টাকা থেকে ১৩০% বাড়িয়ে ১৯.২৬ টাকায় উন্নীত করা, শিল্পের জন্যে বিদ্যুতের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৬.৭৪ টাকা থেকে ৬২% বাড়িয়ে ১০.৯৫ এ উন্নীত করা, বাণিজ্যিক (চা বাগানসহ) বিদ্যুতের দাম প্রতি ঘনমিটারে ১১.৩৬ টাকা থেকে ৭২% বাড়িয়ে ১৯.৫০ টাকায় উন্নীত করা, সিএনজি ফিড গ্যাসের দাম ২৭ টাকা থেকে ৮৩% বাড়িয়ে ৪৯.৫০ টাকায় উন্নীত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘন মিটারে ২.৮২ টাকা থেকে ৬৩% বাড়িয়ে ৪.৬০ টাকায় উন্নীত করা ও সার কারখানার জন্যে বিদ্যুতের দাম প্রতি ঘনমিটারে ২.৫৮ টাকা থেকে ৭১% বাড়িয়ে ৪.৪১ টাকায় উন্নীত করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here