গ্রিন ঢাকা গড়ার উদ্যোগে ভাটা

0
6

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী গ্রিন ঢাকা গড়ার পরিকল্পনা সফল হচ্ছে না। এর ফলে নগরবাসী পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না। এদিকে গ্রিন ঢাকা বাস্তবায়নে প্রতিটি ভবনের মালিকের কাছে গাছের চারা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকার ২ সিটি করপোরেশন। কিন্তু ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ৫ হাজার গাছ পৌঁছানোর পর এর অগ্রগতি থেমে গেছে। ফলে গ্রিন ঢাকা গড়ার উদ্যোগে ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ভবনের ছাদে বাগান করার জন্য একটি আইন করে তা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর এ বিষয়ে পুরোপুরিভাবে সহযোগিতা করার কথা ছিল সিটি করপোরেশনের। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও রাজউক ও ডিসিসির যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রিন ঢাকা গড়ার যে প্রতিশ্র“তি ২ মেয়র দিয়েছিল, তা অনেকটাই ভেস্তে যেতে বসছে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় দিন দিন নানা কারণে সবুজায়ন কমে যাচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।
অন্যদিকে, নগরবাসী পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না। ফলে রাজধানীর বহুতল ভবনের ছাদ বাগানের (রুফ গার্ডেন) জন্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ বিষয়ে বাড়িওয়ালাদের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আর করা হয়নি। এরমধ্যে ডিসিসি উত্তর গ্রিন ঢাকা গড়ার লক্ষে শুধু ৫ হাজার গাছ বাড়িওয়ালাদের কাছে পাঠিয়েছে। আর ডিসিসি দক্ষিণ সম্প্রতি ভবনের ছাদে গাছ লাগালে শতকরা ১০ ভাগ হোল্ডিং কর মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এতেও ভবনের ছাদে গাছ লাগিয়ে গ্রিন ঢাকা গড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকরা ডিসিসিকে সহযোগিতা করছে না।
জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক এক মিটিংয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষকে গ্রিন ঢাকা গড়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজউক বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। বোর্ড সদস্যরা মনে করছেন, উদ্যোগটি নিলে খুবই ভালো হবে। আর এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে রাজধানীতে সবুজায়ন বাড়বে। এ জন্য আগামীতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধন করে রুফ গার্ডেনের বিষয়টি সংযোজন করতে হবে। কারণ আইনে না থাকলে কেউ সেটা মানবে না। তবে কবে নাগাদ এই কার্যক্রম শুরু করা হবে তার সঠিক জবাব দিতে পারেনি রাজউক।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, গ্রিন ঢাকা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীর তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনা সম্ভব। আর রুফ গার্ডেন করলে ওই ভবনের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি কমবে। তিনি বলেন, রাজধানীকে গ্রিন করতে তার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। রুফ গার্ডেন তারই একটি অংশ। অন্যগুলো করা গেলে তাপমাত্রা আরো কমে আসবে। এদিকে, দায়িত্ব নেয়ার পর এক অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন, গ্রিন ঢাকা গড়তে প্রয়োজনে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রতিটি বাড়িতে গাছ পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু ৫ হাজার গাছ পৌঁছে দেয়ার পর আর এ বিষয়ে কোন খবর নেই তার।
জানা গেছে, রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোর ছাদের অর্ধেক জায়গা বাগানের (রুফ গার্ডেন) জন্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা গেলে ভবনের উষ্ণতা যেমন কমবে, তেমনি নগরবাসীও বুকভরে অক্সিজেন নিতে পারবে। রাজউকের বোর্ড মিটিংয়েও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। বোর্ড সদস্যরা মনে করছেন, এটা করতে হলে বিদ্যমান ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজন। নগর উন্নয়ন কমিটি সম্মতি দিলে বিধিমালা সংশোধন করে রুফ গার্ডেনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে। এর পরপরই রাজউক বাড়ির ছাদে বাগান করার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। আর এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী স্বাচ্ছন্দে বসবাস করতে পারবে।
রাজউক সূত্র জানায়, বর্তমানে চালু থাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮-এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। এ জন্য এ বিধিমালা সংশোধন করে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০১৬ তৈরি করার কথা ভাবছে রাজউক। শিগগিরই তারা নগর উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করবেন।
রাজউক মনে করে, নতুন বিধিমালায় এ নিয়ম ভঙ্গকারীর ভবনের নকশা বাতিল বা আর্থিক দে র ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। এটা করা হলে ৬ তলার অনুমোদন নিয়ে ৯ তলা ভবন নির্মাণ ও নকশা বরখেলাপের প্রবণতাও কমবে বলে মনে করে রাজউক।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরঃকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সেকেন্দার আলী বলেন, বাড়ির ছাদে তো সুপারি-নারিকেল গাছ কেউ লাগাবে না। পেয়ারা, লেবু, বাউকুল, সবজি, ফুল বা ছোট ছোট গাছপালা লাগাবেন। এমনকি আমও লাগানো যাবে। তবে রুফ গার্ডেন করতে হলে টপ ফ্লোরটা নির্মাণের সময় কেয়ারফুলি থাকতে হবে। বাগানের মাটির লোড অনুযায়ী ছাদের ডিজাইন করতে হবে। যাতে পানি চুইয়ে না পড়ে, সে জন্য ছাদে একটি ছোট পাইপ ড্রেন রাখতে হবে।
ড. সেকেন্দার আলী রও বলেন, অনেকেরই গাছ লাগানো পছন্দ। কিন্তু ইট-কংক্রিটের এই শহরে সেটা করতে পারেন না। তার পরও অনেকে বাড়ির ছাদে-বারান্দায় গাছ লাগান। এগুলো করলে নগরীর তাপমাত্রা কমবে এবং অক্সিজেনের প্রবাহও বাড়বে।
তবে রাজউকের এক কর্মকর্তা বলেন, ইতমধ্যে রাজধানীতে গড়ে ওঠা ভবনগুলোতে এ নিয়ম কার্যকর করা কঠিন। ওই সব ভবনের বেশির ভাগ রুফ গার্ডেনের মতো করে নির্মিত হয়নি। কাজেই সব ভবনে বাগান স্থাপন করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। নতুন যেগুলোর অনুমোদন দেয়া হবে, সেগুলোয় এটা চালু করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here