জঙ্গি রাব্বির আমলনামা : ‘হাসরের ময়দানে দেখা হবে’

0
5

যশোর (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ফিজিক্সের ছাত্র কাজী ফজলে রাব্বি। গত ৫ এপ্রিল তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন। এর পর তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার বাবা যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কাজী হাবিবুল্লাহ। গত মাসে যশোর পুলিশ যে পাঁচজনকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে পোস্টার ছেপেছিল, ফজলে রাব্বির নাম ও ছবি সেই তালিকায় দ্বিতীয় নাম্বারে ছিল। শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালায় পুলিশ ও পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট। সেখানে তিন জঙ্গি নিহত হন তাদের মধ্যে একজন যশোরের রাব্বি। রাব্বির কাছে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে, যা থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। শনিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
রাব্বির পিতা কাজী হাবিবুল্লাহ জানান, গত ৫ এপ্রিল সকালে তার ছেলে জামা-কাপড় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। বাড়িছাড়ার আগে তিনি কলেজ থেকে সমস্ত কাগজপত্র তুলে নেন। কাজী হাবিবুল্লাহ ছেলে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে গত ৭ এপ্রিল যশোর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর- ৩৬০/০৭-০৪-২০১৬। ছেলেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ছেলে রাব্বি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনজিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু বিপুল টাকা খরচের সামর্থ না থাকায় রাব্বির এই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এ কারণে রাগ করে রাব্বি বাড়ি ছাড়েন।’
ফজলে রাব্বির ব্যাপারে শনিবার রাতে খোঁজ নেওয়া হয় তার বাড়ির এলাকায়। প্রতিবেশীরা জানান, কাজী ফজলে রাব্বি এলাকার ছেলেদের সঙ্গে খুবএকটা মিশতেন না। শুধু স্থানীয় মসজিদের ইমামের সঙ্গে তার সখ্য ছিল।
যশোর এম এম কলেজ সুত্রে জানা যায়, কাজী ফজলে রাব্বি মাগুরার বিরইল এলাকার কাজী হাবিবুল্লার ছেলে। বারর চাকিরির সুত্রে সে যশোর সদরের নিউ টাউন এলাকার কিসমত নওয়াপাড়াতে বসবাস করতেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সে ১০ দিনের জন্য তার এইচএসসির মার্কসীটটি মুসলেকা দিয়ে ফেরত নেয়। সেখানে তিনি অঙ্গিকার করেন, আমি যদি আমার মার্কসীটটি ফেরত দিতে না পারি তাহলে আমার ছাত্রত্ত্ব বাতিল হবে। তার পর থেকে রাব্বি নিখোঁজ হয়।
এ ব্যাপারে যশোর এম এম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাজী ফজলে রাব্বি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১১ সালে এস এস সি তে জিপিএ-৫ এবং ২০১৩ সালে এইচ এস সিতে জিপিএ-৪.৬০ পেয়ে যশোর এম এম কলেজে ফিজিক্সে ভর্তি হয়। খারাপ মানুষের প্ররোচনায় পড়ে সে বিপথগামী হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের ছাত্রছাত্রীদের ডাটাবেজ তৈরি করব। কেউ ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এমন ঘটনা জাতীর জন্য কলঙ্কজনক।’
রাব্বির পিতা উপশহর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কাজী হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘শনিবার বিকেলে আমার ছেলে মারা গেছে- এটা আমি জানি। তার বিষয়ে রিপোর্ট করেন, আমার কোনও সমস্যা নেই। তবে, আমার ছেলেকে যারা জঙ্গি বানিয়েছে, বিষ খাইয়েছে- সরকার তাদের কেন ধরছে না।’
লাশ নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমার ছেলের মরদেহ আনবো।’
এসব বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘এই ছেলেটা যাওয়ার পরে তার বাবা জিডি করেন। প্রথমদিকে তিনি বলেছিলেন, বাড়ি থেকে না বলে চলে যায়। কিন্তু ডিএসবি থেকে আমরা রিপোর্ট পেয়েছি, সে জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে চলে যাওয়ার বিষয়ে বাড়িতে বলে যায়। তার বোনকে সে বলেছিল, হাসরের ময়দানে দেখা হবে। তার বাবা-মা পরবর্তীতে তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার বহু চেষ্টা করেও তাকে আনতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘রাব্বির পেছনে যারা মদদদাতা, ইন্ধনদাতা, আশ্রয়দাতা, কিংবা অর্থ সহায়তা করেছেন- তাদের সবার বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এদের সকলকেই আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here