ড্রেন থেকে ময়লা অপসারণের পর তার ঠাঁই হচ্ছে ড্রেনেই

0
6

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করেও রাজধানী ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার তেমন একটা উন্নতি ঘটাতে পারছে না। ফলে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায়ই ড্রেন পরিষ্কার করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ড্রেন পরিষ্কার করার পর ময়লা ড্রেনের পাশেই রাখা হচ্ছে। ফলে তা যথাসময়ে অপসারণ না করায় ফের তার ঠাঁই হচ্ছে ড্রেনেই। এর জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ও ঢাকা ওয়াসার ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন নগরবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা, প্রতি বর্ষা মৌসুমের আগে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি হয় সেসব এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, ড্রেন পরিষ্কার হলেও ময়লা-আবর্জনা তুলে রাখা হয় ড্রেনের পাশেই। এর মধ্যে কিছু ময়লা যানবাহনের চাকার সঙ্গে মিশে শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বাকি ময়লার বেশির ভাগ বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিলে আবারো ড্রেন ফিরে যাচ্ছে। আর রোদ পেলে শুকিয়ে ধুলা হয়ে উড়তে থাকে। ড্রেনের ময়লা তুলে এভাবে সড়কের ওপর ফেলে রাখা এবং বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে ওই ময়লার ড্রেনে ফেরত যাওয়ার ঘটনা ঢাকা শহরে প্রায়ই চোখে পড়ছে। বছরের পর বছর ধরে এমনটা চলে আসছে। কিন্তু এ নিয়ে যেন কারো মাথাব্যথা নেই। ফলে এ খাতে ব্যায় করা অর্থ অনেকটা জলে যাচ্ছে।
জানা গেছে, বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত সড়ক থেকে সরে যেতে পারে সে জন্য প্রতি বছর ঢাকা ওয়াসা এবং দুই সিটি করপোরেশন ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কারের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ জন্য ব্যয় করা হয় কোটি কোটি টাকা। কিন্তু ফলাফল থাকে শূন্যই। সঠিক নজরদারি না থাকায় ড্রেনের ময়লা ড্রেনে গিয়ে আবারো আবদ্ধ হচ্ছে। ফলে একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ড্রেনেজ লাইনগুলো পানি সরাতে পারে না। তখন বলা হয়, ড্রেনেজ লাইনের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ডিসিসি ও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ড্রেন প্রসারিত করার উদ্যোগও নিচ্ছে না। অন্যদিকে, রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় নির্মাণসামগ্রী রাখা হচ্ছে ড্রেনের ওপর। এ নিয়ে ডিসিসিও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরেজমিন রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, সিদ্ধেশ্বরী, শান্তিনগর, মিরপুর রোড, টিকাটুলী, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, নাখালপাড়া, আমবাগান, আজিমপুর, মাদারটেকসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ড্রেনের অব্যবস্থাপনার কারণে এসব এলাকায় বৃষ্টি হলে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এতে এলাকাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হয়।
জানা যায়, ঢাকা ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির নর্দমা লাইন ও দুই ডিসিসি ভূউপরিস্থ (সারফেস) ড্রেন প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগের বেশি ড্রেন নানা কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী। এর মধ্যে ওয়াসার ড্রেনগুলোর চিত্র এখন অনেকটাই বেহাল অবস্থা। গত অর্থবছরে ড্রেনেজ বিভাগে ১০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ থাকলেও কাজের তেমন একটা অগ্রগতি চোখে পড়েনি। এদিকে ঢাকা ওয়াসার ২৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ড্রেনেজ লাইন ঘণ্টায় মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করতে পারে। ফলে বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। গত কয়েক বছর ধরে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। তবে এর মূল কারণ পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা এবং এটি সম্পূর্ণরূপে মানুষের সৃষ্টি। এক সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ৪৩টি ছোটবড় খাল প্রবাহিত হতো, যা এ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যাপকভাবে সহায়তা করত। কিন্তু এসব খাল ভরাট হওয়ায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
দক্ষিণ ডিসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুল আমীন বলেন, ঢাকার ড্রেনেজ লাইনগুলো ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশন মিলে প্রতি বছর পরিষ্কার করে থাকে। ঠিকাদারদের দিয়ে এ কাজটি করানো হচ্ছে। এ সময় কেউ কেউ ড্রেনের ময়লা তোলার সঙ্গে সঙ্গে অপসারণ না করে ম্যানহোলের সামনে ফেলে রাখে বলে অভিযোগ আমরাও পেয়ে থাকি। তখন ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়ে কাজটি করানো হয়। এ বিষয়ে যাতে আর কোনো গাফিলতি না করা হয় এ জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here