নড়াইলে মধুমতি ভাঙ্গনে তিন শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে, পালটে যাচ্ছে মান চিএ

0
8

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল  প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): প্রায় ৫০ বছর ধরে ভাঙ্গছে মধুমতি নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ব্রিটিশ আমলের শিয়েরবর বাজার। নড়াইলের মধুমতি ভাংছে আতংকে এলাকাবাসি এই বিশাল বাজার টি একটু একটু করে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে প্রায় শেষ। গত কয়েকদিনের তীব্র ভাঙ্গনে বাজারের অবশিষ্ট অংশ ভাঙ্গনের মুখে।এক সময়ের এলাকার সর্ববৃহৎ এই বাজারের প্রায় ৫ একর জমির কয়েকশ দোকান, রাইস মিল, মসজিদ, রেষ্ট হাউস ,পাঠাগার আর প্রাইমারী স্কুল গত কয়েক বছরে মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৪ বার। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় পাঠানো তহ্য ও ছবির ভিতিতে জানাজায়।এবছরও একই ভাবে ভাঙ্গছে শিয়েরবর বাজার, ঘাঘা বাজার, মহিষাপাড়া, মল্লিকপুর সহ ১৫ কিলোমিটার এলাকা।মধুমতি নদীর শিয়েরবর, তেতুলিয়া ও কামঠানা অংশে এ বছর তীব্র ভাঙ্গনে এলাকার নারায়ন চৌধুরী, কার্তিক চৌধুরী, বাসুদেব চৌধুরী, কুতুব মোল্যা, আতিয়ার শেখ এর মধ্যে আলতাফ মোল্লা, লুৎফর মোল্লা, খায়ের মোল্লা, আনোয়ার মোল্লা, তোরাফ মোল্লা, হামিদ মোল্লা, কুদ্দুস মোল্লা, মনি মিয়া, আলী মিয়া, আজগর মোল্লা, ইউনুছ ফকির, পারভীন, সাইফুল মোল্লা, আলেক মোল্লা,তারা আলী, আতর আলী ও ইলিয়াছ ফকিরের বাড়িসহ অন্ততঃ ১শ টি পরিবারের বসত ভিটা বিলীন হয়ে গেছে। এয়াড়াও নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার তেতুলিয়া ও কামঠানা গ্রামে মধুমতী নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে তেতুলিয়া ও কামঠানা গ্রামে মধুমতী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ২৮টি বসতবাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক ঘরবাড়ি। ভাঙনকবলিত পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।ভাঙ্গন আতঙ্কে পরিবার গুলোর লোকেরা দিনরাত কাজ করছেন শেষ সম্বল টুকু বাচানোর জন্য । আর আশ্রয় খুজছেন নতুন ভাবে বাচার জন্য । বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙ্গনের মধ্যে বাস করা এ সব মানুষেরা এবারের ভাঙ্গনের পরে আর নতুন কোন জায়গা খুজে না পেয়ে উদ্বাস্তুদের মতো আশ্রয় খুজছেন। গত কয়েক বছরে ভিটেবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার পরিবার।স্থানীয় বাসিন্দদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে মধুমতীতে বিলীন হয়েছে লোহাগড়া উপজেলার শিয়েরবর, রামকান্তপুর, ঘাঘা, শামুবখোলা, তেতুলিয়া ও কামঠানা গ্রামসহ ৮টি গ্রামের শতাধিক বসতভিটা। এছাড়া কয়েক শত এশর ফসলি জমি ও শত শত গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েক শত শত বসতবাড়ি ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন গতবছর বর্ষা মৌসুমে নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীর তীরে ছাপড়াঘর তুলে কোনোমতে চলছে শিশুশিক্ষার্থীদের পাঠদান। গত দুই যুগ ধরে এ দুই গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলিজমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে অন্তত ১৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৩-৪ বারও ভাঙনের শিকার হয়েছে গ্রামের অনেক পরিবার। গতকাল (২৩ আগস্ট) ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনের মুখে পড়ে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের ঘরবাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ভাঙন-আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে কেউ প্রতিবেশি বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কেউবা রাস্তার পাশে ছাপড়া তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। তাঁরা মানবেতর দিন যাপন করছেন। তেতুলিয়া গ্রামের জয়তুন বেগমের বাড়ি ভাঙনের মুখে। তিনি বলেন, ১৫ বছর বয়সে বউ হয়ে এখানে আসি। জমিজমাসহ শ্বশুর বাড়িতে সুখের সংসার ছিল। নদীর ভাঙনে সব হারিয়েছি। দুইবার বসতঘর সরাতে হয়েছে। এখন এই ঘরটি বিলীন হয়ে কোথায় যাব ? এ গ্রামের হামিদ মোল্লা জানান, তাঁদের প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি ছিল। সব এখন নদীতে। এ বছরসহ তিনবার বসতবাড়ি নদীতে গেছে। এখন তাঁরা নিঃস্ব। পথের ফকির। স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. চান মিয়া মোল্লা জানান, এখনো সরকারি কোনো সাহায্য ক্ষতিগ্রস্তরা পাননি। গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল শিকদার বলেন, ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এভাবে দিনে দিনে এসব জনপদ বিলীন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে এবং আর্থিক সহযোগিতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছি।এত বছরে ও ভাঙ্গন ঠেকাতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ এগিয়ে আসেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙ্গন পিড়ীত এলাকার মানুষের আশা নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে সরকারী ভাবে উদ্যোগ নেয়া হবে। এলাকা বাসীর অভিযোগ রাজনৈতিক দলের লোকেরা ভোট নেয় আর নদী ভাঙ্গন এলাকার নিপীড়িত মানুষের কোন খোজ নেয় না । লোহাগড়া উপজেলার ইউএনও মো. সেলিম রেজা জানান, সাহয্যের জন্য আবেদন করতে বলেছি। আর ভাঙন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের নজরে আনা হবে।দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী ভাঙ্গন কবলিত শিয়েরবর বাজার ও এলাকা রক্ষায় নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোন আশার কথা শোনাতে না পেরে প্রকল্প জমা দেয়া হয়েছে বলে জানালেন নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরীফুল ইসলাম আদৌ কোন দিন মধুমতি পাড়ের মানুষদের আতঙ্ক দূর হবে কিনা তা জানেনা এলাকার মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here