প্রচন্ড দাবদাহে পুড়ছে উত্তরের নীলফামারী

0
6

নীলফামারী (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল যেখানে বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে সেখানে নীলফামারীর ৬টি উপজেলায় চলছে ঠিক তার উল্টো চিত্র। গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড দাবদাহ ও তীব্র গরমে এখন মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সপ্তাহ জুড়ে বেশিভাগ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার স্থান দখল করে রেখেছে এজেলায়। গত কয়েকদিনে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.৮ ডিঃ সেঃ রেকর্ড করা হয় সৈয়দপুর উপজেলায়। এছাড়া ২,৩,৪ আগষ্ট দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় ৩৬.০ ডিঃসেঃ সিলেটে রেকর্ড করা হলেও ৩৫.৬ ডিঃ সেঃ তাপমাত্রা নিয়ে সৈয়দপুর ছিল দ্বিতীয় স্থানে।
অস্বাভাবিক মাত্রায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গোটা জেলার জনজীবন অস্থির হয়ে পড়েছে। অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন অনেকেই। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের অবস্থা কাহিল। দিনমজুর শ্রমিকের অবস্থাতো আরো নাজুক। তন্মেধ্যে বিদ্যুতের ভেলকিবাজী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে করছে আরো বিঘিœত।
অসহনীয় গরমের প্রকোপে ডায়রিয়া ও গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা ভিড় করছেন জেলার হাসপাতাল গুলোসহ বিভিন্ন ঔষধের দোকান গুলোতে। তাপের তীব্রতা এতই বেশি যে দুপুরের দিকে স্থানীয় হাট-বাজার, অফিসপাড়া ও বেশিরভাগ রাস্তাগুলো হয়ে পড়ছে ফাঁকা। বেশিরভাগ দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে দুপুরের দিকে। এদিকে অতিরিক্ত তাপদাহ ও অসহ্য গরমের কারণে স্কুল-কলেজে ও মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘœ ঘটছে। সাধারণ মানুষেরা জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাড়িতেই কাটিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। আবার কেউবা গরম থেকে একটু প্রশান্তি পেতে পান করছেন ডাব, তালের শাস, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, ফান্টা, সেভেনআপ, ফ্রুটো, টাইগার, লেমনসহ বিভিন্ন রকমের ঠাণ্ডা পানিও। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিলীপ কুমার রায় বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে জ্বর ও ডায়রিয়ায় সাধারণ মানুষেরা অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশিই আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা হাসপাতালে তাদের সকল প্রকার সেবা দিচ্ছি। তিনি গরমে সুস্থ্য থাকতে বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকাসহ সবাইকে প্রচুর পরিমাণে পানি পানের পরামর্শ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here