ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহকে বৈধ ঘোষণা

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : নাগরিকদের স্বাধীনতা ব্যাহত না করে এবং কোনো হয়রানি না করে বাড়িওয়ালার মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ডিএমপি বিধিমালার এ সংক্রান্ত ধারাকেও বৈধ বলেছেন আদালত। এ সংক্রান্ত পূর্বে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আদালত এই রায় দেন।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
এ রায়ের ফলে তথ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারাও বৈধই থাকল বলে জানিয়েছেন মোতাহার হোসেন সাজু।
রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা যা বলেছি তার সঙ্গে একমত হয়েছেন। আদালত বলেছেন, পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। তবে নাগরিকরা গোপনীয়তার স্বার্থে কোনো কলাম পূরণ করতে না চাইলে তাকে জোর করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা বিধিমালা ২০০৬)-এর ৪ (খ) ধারায় বলা হয়েছে মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই ‘যে কোনো’ কথাটা অবাধ নয়। সংবিধান ও আইনের আলোকে এর প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া তথ্য সংরক্ষণে ডিএমপি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা বিধি প্রণয়নের কথা বলেছে। আদালত সেই বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহে আরো কঠোর হতে বলেছেন।
তবে রিটকারী আইনজীবী অনিক আর হক বলেন, আদালতের রায়ে আমরা বুঝতে পারিনি পুলিশের কাজকে সরাসরি বৈধ বা অবৈধ বলা হয়েছে কি না। তাই রায়ের কপি পাওয়ার পরই আমরা বিষয়টি বুঝতে পারব।
এর আগে ভাড়াটিয়াদের ব্যক্তিগত তথ্য বাড়ির মালিকদের মাধ্যমে নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট করা হলে গত ১৩ মার্চ তা খারিজ হয়। সেই রিট ডিএমপি বিধিমালার ৪ (খ) ধারা অনুযায়ী খারিজ করেছিলেন আদালত।
পরে ডিএমপির বিধিমালার সেই ধারা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছর ২০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকীসহ তিনজন আরেকটি রিট করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের শুনানি ৮ আগস্ট শেষ হয়েছে। এরপর আদালত রায়ের জন্য ১৭ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করলেও সেদিন তা কার্যতালিকায় আসেনি। পরে আজকের কার্যতালিকায় আসলে আদালত এই রায় দেন।
রিট দায়েরের পর এ বিষয়ে আইনজীবী অনিক আর হক বলেছিলেন, ডিএমপি বিধিমালার ৪ (খ) ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। সে হিসেবে পুলিশ রাজধানীর বাসার মালিক ও বাসার ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে একটি ফরম বিতরণ করেছে। যেখানে পুলিশ অনেক ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য চেয়েছে। বিষয়টি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এই ধারাটি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here