রহস্যময় তথ্যে ভরপুর লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘ভিট্রুভিয়ান ম্যান’

0
5

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চির সবচেয়ে বিখ্যাত চিত্রকর্ম “মোনালিসা” নিয়ে রহস্যের অন্ত নেই। মোনালিসার কথা মাথায় রেখেও বলা যায়, ভিঞ্চির জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর কাজটি সম্ভবত “দ্য ভিট্রুভিয়ান ম্যান”। ছবিটা ভিঞ্চি একেছিলেন ১৪৯০ সালের দিকে। ভিঞ্চি এই ছবিটি একেছিলেন খ্রিস্টপূর্ব ৭০ থেকে ৮০ এর মধ্যে জন্ম নেয়া মার্কাস ভিট্রুভিয়াস পোলিও নামের এক স্থপতির কিছু কাজের উপর ভিত্তি করে।
ভিট্রুভিয়াস “দি আর্কিটেকচুরো” নামে যে বইটি লিখেছিলেন সেটাকে স্থাপত্যকলার ভিত হিসেবে ধরা হয়। ভিট্রুভিয়াস বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর সকল স্থাপত্য অনুপাতের মূলে রয়েছে মানবশরীর। ভিট্রুভিয়াসের নাম অনুসারে এই ছবিটির নামকরণ করা হয় “ভিট্রুভিয়ান ম্যান”। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে, “ভিট্রুভিয়ান ম্যান” ছবিটিতে কোন রঙের ব্যবহার নেই। নেই কোন আহামরি তুলি বা পেন্সিলের আচড়। শুধু কলম আর কালি ব্যবহার করে সাধারণ আর্ট পেপারে আঁকা একটা ছবি এটি।
ছবিটি লম্বায় ৩৪.৬ সেমি এবং প্রস্থে ২৫.৫ সেমি (A4 কাগজের সমান)। একটি বৃত্তের ভেতরে একজন পুরুষ তার দু হাত পা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, ছবিটা এরকমই। আপাতপদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্ত, ছবির উপরে এবং নিচের লেখাগুলো আপনাকে অবাক করে দেবে। খুবই সাধারণ দেখতে এই ছবিটা দিয়ে ভিঞ্চি মানবশরীরের বিস্ময়কর জ্যামিতিক অনুপাত ব্যাখ্যা করেছেন। প্রমাণ পাওয়া গেছে, ভিঞ্চি এই ছবিটি একেছিলেন তারই এক বন্ধু গিয়াকোমো আন্দ্রে দ্য ফেরেরার কিছু কাজ দেখে। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, ফেরেরার কাজগুলোই একটু উন্নত করে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন ভিঞ্চি।
অবশ্য, ভিঞ্চি এই ছবিটি বিক্রি বা প্রদর্শনীর জন্য আকেননি। নিছক মানবশরীরের জ্যামিতি নিয়ে কৌতুহল থেকেই এই ছবিটি একেছিলেন। ভিঞ্চির মৃত্যুর পরও ছবিটা আড়ালেই ছিল। ছবিটা আবিষ্কার হয় তার মৃত্যুর অনেক বছর পরে।
ধারণা করা হয়, কোন কবরস্থান থেকে রাতেরবেলা লাশ চুরি করে এনে তার উপর গবেষণা চালিয়ে এই ছবিটি একেছিলেন লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চি। ইতিহাস তো দেখা হল। এবার চলুন দেখে আসি ভিট্রুভিয়ান অনুপাত রহস্যঃ

ভিট্রুভিয়ান ম্যান ছবিটির দুটি অংশে ব্যাখ্যা করেছেন ভিঞ্চি। একটি অংশ চিত্রের উপরের লেখা। আরেকটা অংশ ছবিরে নিচে লেখা। ছবির উপরের লেখা থেকে জানা যায়ঃ

১। এক বিঘত সমান চার আঙুল

২। এক ফুট সমান চার বিঘত

৩। ছয় বিঘত সমান এক কিউবিট

৪। চার কিউবিট সমান একজন মানুষের উচ্চতা

৫। একজন মানুষ চব্বিশ বিঘত সমান লম্বা।

ছবির নিচের অংশে লেখা আছে, যদি পা-দুটো দুপাশে এমনভাবে ছড়ানো হয়, যাতে উচ্চতা ১/১৪ কমে যাবে এবং হাতদুটো দুই পাশে এমনভাবে মেলে ধরা হয় যেন হাতের মধ্যমা আঙ্গুলটির ডগা ঠিক মাথার সমান উচ্চতায় থাকে, তাহলে হাত দুটো আর পা দুটোর অবস্থানকে স্পর্শ করে পুরোপুরি একটা বৃত্ত আঁকা যাবে আর নাভি হবে সেই বৃত্তের কেন্দ্র। এই দুই পায়ের মাঝখানের ফাঁকটি হুবহু একটি সমবাহু ত্রিভুজ তৈরি করবে।

মাথা কি গুলিয়ে গেল? হিসাব তো এখনো বাকি…। ছবির নিচের অংশে আরো লেখা আছেঃ

১। দুই হাত দুইদিকে সমানভাবে প্রসারিত করলে একহাতের আঙুলের ডগা হতে অন্যহাতের আঙুলের ডগা পর্যন্ত যে দূরত্ব পাওয়া যায় সেটা মানুষের উচ্চতার সমান।

২।মানুষের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত যে দৈর্ঘ্য হয় তাকে ১০ দিয়ে গুণ করলে আপনি মানুষটির প্রকৃত উচ্চতা পাবেন।

৩।ঠিক বুকের উপর থেকে মাথা পর্যন্ত যে দৈর্ঘ্য পাওয়া যায় তা মানুষের প্রকৃত উচ্চতার ১/৬ ভাগ।

৪।স্তন থেকে মাথার দূরত্ব হল মানুষের প্রকৃত উচ্চতার এক চতুর্থাংশ।

৫।প্রসারিত অবস্থায় কাধের যে দৈর্ঘ্য পাওয়া যায়, তা মানুষের প্রকৃত উচ্চতার এক চতুর্থাংশ।

৬।মানুষের পায়ের দৈর্ঘ্য তার প্রকৃত উচ্চতার সাত ভাগের একভাগ।

৭।কনুই থেকে আঙুলের মাথা পর্যন্ত দূরত্ব মানুষের প্রকৃত উচ্চতার এক চতুর্থাংশ।

৮। মানুষের হাতের দৈর্ঘ্য তার প্রকৃত উচ্চতার এক দশমাংশ।

মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এত্ত অনুপাত দেখে? আসল ছবিটা দেখতে কৌতুহলও হচ্ছে? আসল ছবিটি নিজের চোখে দেখতে চাইলে ঘুরে আসুন ইতালির “গ্যালারি দেল আকাদেমিয়া” থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here