হজ যাত্রায় অনিয়ম অব্যবস্থাপনা

0
3

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : যাত্রী সঙ্কটে একের পর এক বাতিল করতে হচ্ছে বিমানের হজ ফ্লাইট। প্রতিদিনই কিছু আসন খালি রেখেই উড়তে হচ্ছে বিমানকে। এ অবস্থায় ইতিমধ্যে ১৬টি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজীরা। এ জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে হজ কর্তৃপক্ষ ও হজ এজেন্সি। এরই মধ্যে পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেছে হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন হাব। তবে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির অভিযোগ, কিছু অসাধু এজেন্সির কারণে ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জন্য ফ্লাইট বিলম্বে হজ পরিচালক ও ধর্ম সচিবকে দায়ী করে তার অপসারণ দাবি করেছে হাব। অপরদিকে হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন বলেন, কিছু অসাধু হজ এজেন্সির কারণে হাজীদের রিপ্লেসমেন্ট জনিত সমস্যার কারণে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।
এদিকে বিমানের টিকিট সংগ্রহের বিলম্বের কারণে হজযাত্রী পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে বহন করতে হবে বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত শুক্রবার গভীর রাতে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৬ সালের হজ গমনেচ্ছুদের জানানো যাচ্ছে যে, ভিসাপ্রাপ্ত হজযাত্রীদের তালিকা ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে অনতিবিলম্বে বিমানের টিকিট সংগ্রহ করে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। এতে আরো বলা হয়, বিমানের টিকিট সংগ্রহে বিলম্বের কারণে হজযাত্রী পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে বহন করতে হবে। অপরদিকে আসন্ন পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবের ভিসাপ্রাপ্ত ও ভিসার জন্য অপেক্ষমাণ প্রায় ৮৪ হাজার যাত্রীর নামের তালিকা প্রকাশ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, প্রকাশিত তালিকার শতকরা ৯৯ ভাগ যাত্রীরই ভিসা হয়ে গেছে। কিছু কিছু হজযাত্রীর ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের (হজ অফিস, ঢাকা) পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলছেন, এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার হজযাত্রীর ভিসার আবেদন করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৭০ হাজার ভিসা হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই শতকরা ৪৫ ভাগ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন।
সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা এবার ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়া প্রথম ফ্লাইট গত ৪ আগস্ট শুরু হয়েছে। ফ্লাইট শেষ হবে ৫ সেপ্টেম্বর। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে তা শেষ হবে ১৭ অক্টোবর। কিন্তু হজ এজেন্সিগুলো টিকিট সংগ্রহে বিলম্ব করায় বিমান বাংলাদেশ এয়াররাইন্সের অনেক হজ ফ্লাইট খালি যাচ্ছে। এ অবস্থায় সৌদি আরবে হজযাত্রী পাঠাতে শেষের দিকে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছে বিমান। জানা যায়, যাত্রী সঙ্কটের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একের পর এক হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৬টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। এভাবে যাত্রী সঙ্কট চলতে থাকলে বিমানের এই লোকসানের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) খান মোশাররফ হোসেন জানান, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানের হজযাত্রী পরিবহনে ৫ থেকে ৬ হাজার আসনের ক্যাপাসিটি খোয়া গেছে।
এদিকে হাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আশকোনা হজ ক্যাম্পের পরিচালক ধীরগতিতে কাজ করছেন। তার অফিসের মূল কাজ শুরু হয় রাতে। তিনি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে মেডিকেল অফিসারের সার্টিফিকেট গ্রহণ করছেন না। বলে দিচ্ছেন, অধ্যাপকের সার্টিফিকেট ছাড়া রিপ্লেসমেন্ট দেয়া হবে না। ফলে এজেন্সিগুলো ফ্লাইট নিশ্চিত করছে না। এতে ফ্লাইটে আসন খালি যাচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলও হচ্ছে। বড় বিষয় হলো, ফ্লাইট বাতিল হওয়া বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীকে পরবর্তী সময়ে হজে পাঠানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হাব সভাপতি ইব্রাহীম বাহার দাবি তুলে বলেন, সৌদি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদিত ১১ হাজার কোটায় অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া সিটি চেক ইনের নামে হজ এজেন্সির অ্যাকাউন্ট থেকে এজেন্সির অনুমতি ব্যতীত টাকা স্থানান্তর পত্রের কার্যকারিতা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থগিত করতে হবে। কেননা এবার সাউদিয়া এয়ারলাইন্স সিটি চেক ইন করবে না। আর বিমান গত বছর ১০ ডলারে সিটি চেক ইন করেছে। এবার অন্যায়ভাবে ৫০ ডলার নেয়ার বিষয়টি বাতিল করতে হবে। মোয়াজ্জেম সমস্যা দ্রুত সমাধান করা, এজেন্সির হাজি স্থানান্তর করা এবং মাহরাম সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে দ্রুত রিপ্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করলে বিমানের ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় ঠেকানো যাবে বলে মনে করেন হাব সভাপতি। তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও মক্কা-মদিনার মধ্যে কাজে সমন্বয়হীনতা দূর করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। হাব মহাসচিব শেখ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, দুর্নীতিবাজ হজ অফিসার আমাদের প্রকৃত রিপ্লেসমেন্ট করছেন না। অধ্যাপকের সার্টিফিকেটের অজুহাত দেখাচ্ছেন। অথচ অনেক ভুয়া রিপ্লেসমেন্ট করছেন টাকার বিনিময়ে। এদিকে হজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাবের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, হাবের অভিযোগ সত্য নয়। রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সত্যতা অবশ্যই যাচাই করতে হবে। হজ নীতিমালা অনুযায়ী ৫ শতাংশের বেশি কেউ রিপ্লেসমেন্ট করতে পারবে না। অথচ একেক এজেন্সি ৪০ থেকে ৫০ জনের রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে আসছে। আবার তারা রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে নতুন হজযাত্রী পাঠাতে চায়। সেটা তো সম্ভব নয়। এজেন্সিগুলোর অনেকের ভিসা হওয়া সত্ত্বেও তারা হজযাত্রীদের ফ্লাইট দিচ্ছে না। এ কারণে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে এবং বিমানের আসন খালি যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here