২ হাজার বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ফেলপস

0
4

ক্রীড়া ডেস্ক (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : জলদানব হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল ফেলপস। তার সুইমিংপুলে নামা মানেই একের পর এক রেকর্ড গড়ে সোনার পদক নিজের গলায় ঝুলানো। তার ধারে কাছেও কেউ নেই। অলিম্পিক হলো বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ক্রীড়া আসর। প্রাচীন অলিম্পিক শুরু সেই ২০০০, সুনির্দিষ্ট করে বললে ২১৬৮ বছর আগে। রেকর্ড গড়াই নাকি হয় ভাঙার জন্য। ভাঙেও। তাই বলে এত বছর পুরোনো রেকর্ড কেউ কখনো ভেঙেছে নাকি! মাইকেল ফেলপসের সৌজন্যে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনারও সাক্ষী হলো পৃথিবীবাসী। প্রাচীন অলিম্পিকে লিওনিদাস অব রোডস খ্রিস্টপূর্ব ১৫২ সালের অলিম্পিকে ১২তম ব্যক্তিগত সোনা জিতেছিলেন। আধুনিক অলিম্পিকে ১৩টি ব্যক্তিগত সোনা জিতে সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন জলদানব ফেলপস। এবারের অলিম্পিকে চতুর্থ সোনাটিও ফেল?প্স জিতে নিলেন ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে। সব মিলিয়ে তার সোনার সংখ্যা হলো ২২টি। মোট পদকের সংখ্যা ২৬। দুটি করে ব্রোঞ্জ আর রুপাও যে আছে। এদিকে সর্বকালের সেরা সাঁতারু হিসেবে নাম লেখালেন যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল ফেলপস। ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে সবার আগে দেয়াল ছুঁয়ে হাতের চারটা আঙুল দেখালেন মাইকেল ফেলপস। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাঁতারু গড়লেন অবিশ্বাস্য আরেকটি রেকর্ড; টানা চার আসরে কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। পেয়ে গেলেন অলিম্পিকের ২২তম স্বর্ণপদক! অলিম্পিক ইতিহাসে আর কোনো সাঁতারু কোনো ব্যক্তিগত ইভেন্টে টানা চারটি সোনা জিততে পারেনি।
রিও গেমসের ষষ্ঠ দিনে বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার সকালে ১ মিনিট ৫৪.৬৬ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করেন। ৩১ বছর বয়সী ফেলপসের রিও অলিম্পিকে দুটি ব্যক্তিগত ও দুটি দলীয় সোনা জেতা হলো। লন্ডনে গত অলিম্পিকেও চারটি সোনার পদক গলায় ঝুলিয়েছিলেন তিনি। এর আগে ২০০৪ সালে এথেন্সে ৬টি আর বেইজিংয়ে আটটি সোনা জেতেন সর্বকালের সেরা এই অলিম্পিয়ান। অলিম্পিকের সব ক্রীড়া মিলিয়ে ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে টানা চারটি সোনা আছে আর ২ জনের। ২ জনই ফেলপসের স্বদেশি। লং জাম্পে কার্ল লুইস আর ডিসকাস থ্রোতে অ্যাল অর্টার। রিও অলিম্পিকে নিজের প্রথম সোনাটি ফেলপস পেয়েছিলেন গেমসের দ্বিতীয় দিনে সতীর্থদের সঙ্গে ৪*১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলেতে। এতে প্রথম সাঁতারু হিসেবে অলিম্পিকের চারটি আসরে সোনা জেতা হয়ে যায় তার। চতুর্থ দিন ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ের সোনার পদকটা গলায় ঝুলিয়েই আবার সুইমিংপুলে নেমে জেতেন ৪*২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলের সোনা। টানা চার অলিম্পিকে এই ইভেন্টে সোনাজয়ী যুক্তরাষ্ট্র দলের সদস্য হিসেবে থেকে আরেকটি রেকর্ড গড়েন ফেলপস ও তার সতীর্থ রায়ান লোকটি। আর কোনো সাঁতারু অলিম্পিকে এক ইভেন্টে চারটি সোনা জেতেননি। তবে ওই রেকর্ডটি ছিল দলীয়। এবার ষষ্ঠ দিন ২০০ ব্যক্তিগত মিডলেতে সেরা হয়ে ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে চারটি সোনা জেতা প্রথম সাঁতারু হলেন ফেলপস। অবসর ভেঙে পঞ্চম অলিম্পিকে এসেছেন এই জলদানব। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে ৩১ বছর বয়সী ফেলপসের ঝুলিতে এখন অলিম্পিকের ২২টি সোনা, ২টি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ২৬টি পদক! সব পদক মেলালে ১৮টি পদক নিয়ে ফেলপসের পরে আছেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জিমন্যাস্ট লারিসা লাতিনিনা। আর সোনার পদকের হিসেবে তো তার ধারেকাছেই কেউ নেই। ৯টি করে সোনা লাতিনিনা, ফিনল্যান্ডের দূরপাল্লার দৌড়বিদ পাভো নুরমি, যুক্তরাষ্ট্রের সাঁতারু মার্ক স্পিতস ও স্প্রিন্টার কার্ল লুইসের। তবে ফেলপসের ২২টি সোনার ৯টি দলীয় অর্জন, রিলে সাঁতারে পাওয়া। দ্বিতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দে দলীয় লড়াইয়ের ধারণাটিই ছিল না। সে সময় লিওনিদাস ১৫৪, ১৫৫, ১৫৬ ও ১৫৭তম অলিম্পিকে টানা চার আসরে ১২টি ব্যক্তিগত সোনা জেতেন। এত বছরেও যে কীর্তি ভাঙতে পারেনি কেউ। অবশেষে লাকি থারটিনতম সোনা জিতে ২০০০ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙলেন কেউ। এও যেন সেই বার্তা, মানুষ কী না পারে! সে সময় লিওনিদাস স্তাদিওন আর দিয়াউলস নামের ইভেন্টে লড়তেন। যেগুলো আধুনিক কালের ২০০ ও ৪০০ মিটার দৌড়ের মতো ছিল। আরেকটি ইভেন্ট ছিল, হপলিতদরোমস, যেটা দিয়াউলস ইভেন্টটির মতো হলেও এখানে একটা ব্রোঞ্জের অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে দৌড়াতে হতো। ১৬৪ থেকে ১৫২ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে লিওনিদাস এই তিন ইভেন্টের প্রত্যেকটিতেই সোনা জিতেছিলেন। চার আসরে জেতেন মোট ১২টি সোনা। সেই রেকর্ডটা ভাঙতেই ২ হাজার বছর সময় লেগে গেল। এবার ফেলপসের এই কীর্তি ভাঙতে কি অপেক্ষা করতে হবে আরো ২০০০ বছর? তখন মানুষই কি অলিম্পিকে লড়বে, নাকি রোবট!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here