৭৫ এর প্রেতাত্মারাই ২১ আগস্টের খলনায়ক-নূর

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):  “যারা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করেছে, তারাই একুশে আগস্টে বঙ্গবন্ধু কন্যা ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছে।” বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। যে অপশক্তিটি একাত্তরে হত্যা-ধর্ষণ-লুণ্ঠন করেছে, সেই অপশক্তিটি দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এই গ্রেনেড হামলা করেছিল।”

রোববার শিল্পকলা একাডেমির ভাস্কর্যি গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি পঁচাত্তরের পনের আগস্টকে বাঙালির জীবনে ‘সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে একুশে আগস্টের নারকীয় বোমা হামলার ঘটনাকে নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে স্থাপনাশিল্প প্রদর্শনী ‘রক্তাক্ত একুশে আগস্ট’। ভাস্কর মাহবুবুর রহমানের একক এই প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে ভয়াল হত্যাযজ্ঞের নির্মম চিত্রটি। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণনাশের ‘ঘৃণ্য প্রয়াসের’ বিরুদ্ধে শিল্পী তার ভাস্কর্যেই জানিয়েছেন প্রতিবাদ। একইসঙ্গে মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবাদীদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানও ধ্বনিত হয়েছে এ্ই প্রদশর্নীতে।

পনের আগস্টের বোমা হামলার নারকীয় ঘটনার নানা স্মৃতি স্মরণে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “সেদিন আর্জেস গ্রেনেড ছোঁড়া হয়েছিল। এসব গ্রেনেড তখন একমাত্র পাকিস্তানি সেনাবাহিনীই ব্যবহার করত। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, কারা সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করে দেশের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করতে চেয়েছিল।” পঁচাত্তরের পনের আগস্ট, একুশে আগস্টসহ দেশব্যাপী মুক্তবুদ্ধি-মুক্তচিন্তার মানুষ ও ধর্মযাজক-পুরোহিত-ইমামদের হত্যার ঘটনা ‘একই সূত্রে গাঁথা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“সমস্ত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে আমাদের এখন কর্তব্য সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলা। সাংস্কৃতিক ও মানবিক বোধ সম্পন্ন একটি জাতি গঠন করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন সত্যি হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব আক্তারী মমতাজ, ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। ভাস্কর্য গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি শুধু ভাস্কর্য দিয়েই সাজানো হয়নি, অডিও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় সেদিনের ভয়াবহতার গল্পও দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন শিল্পী মাহবুবুর রহমান।

গ্যালারিতে ঢুকতেই নাকে এসে লাগলো কর্পুরের গন্ধ, মাটিতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো আছে নয়টি ভাস্কর্যে। গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের লাশের সারি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়ে মানুষের আহাজারি-নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সাক্ষ্য দেয় এই ভাস্কর্যগুলো। অডিওতে বেজে চলেছে, শেখ হাসিনার ভাষণ আর তারপর গ্রেনেডের বিকট শব্দ। ছুটে আসা অ্যাম্বুলেন্স, প্রাণ বাঁচাতে ছুটে চলা মানুষের আর্তনাদ আর স্বেচ্ছাসেবকদের আকুতি- ভাস্কর্য গ্যালারি যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বঙ্গবন্ধু এভিনিউ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here