ইলিশ প্রকল্পের সুফল আরও বিস্তৃত করতে চায় মৎস্য অধিদফতর

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : ইলিশ নিয়ে মৎস্য অধিদফতর যে কর্মসূচি চালু করেছিল তা আজ অনেকটাই সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে। ইলিশ শুধু হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষাই নয়, উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের মানুষের পাতে বেশি বেশি করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য অধিদফতর।
কিছুদিন ধরে বাজারে ইলিশের জোয়ার তার প্রমাণ দিচ্ছে। এমনটাই দাবি মৎস্য অধিদফতরের ইলিশ প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সাগর-নদীবিধৌত উপকূলীয় এলাকা চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, পটুয়াখালীর ২১ উপজেলার জাটকা নিধন বন্ধ, মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের বংশ বিস্তারের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। পরবর্তীতে এ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেয়া হয় দেশের ২৫ জেলার ১৩৬টি উপজেলায়। তার সুফল এখন আমাদের হাতে। ভোলা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ইলিশ বিচরণ ক্ষেত্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২১ দিন দেশের সব নদীতে মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এ সময় ইলিশ শুধু শিকারই নয়, বিক্রির জন্য হাট-বাজারে তোলা বা সংরক্ষণ করা আইনত দ নীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। জাহিদ হাসান বলেন, ইলিশ অভয়ারণ্য ঘোষণা ও নতুন প্রকল্প গ্রহণ সংক্রান্ত একটি সভা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কাকরাইলের মৎস্য অধিদফতরে অনুষ্ঠিত হবে। আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাস অভয়াশ্রমের ঘোষণা দিয়ে জাটকাসহ (ইলিশের পোনা- ২৫ সে.মি. দৈর্ঘ্য পর্যন্ত) সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকরণের। এসব কার্যক্রমের ফলে দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ মেট্রিকটন।
২০১৪-১৫ সালে সে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টনে। এ বছরের হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময়সহ কর্মহীন মৎস্যজীবীদের ক্ষতিপূরণ/প্রণোদনা হিসেবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি মৎস্যজীবী পরিবারে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হিসেবে ৪ মাস চাল দেয়া হচ্ছে। এবার তাদের ৮০ কেজি করে চাল দেয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য অধিদফতরের জাটকা সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে হতদরিদ্র মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান করা হচ্ছে বলেও জানান জাহিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here