জম্মু-কাশ্মিরে সেনা দফতরে হামলা: ১৭ ভারতীয় সেনা ও ৪ হামলাকারী নিহত

0
4

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):  ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড সদর দফতরে হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ৯ সেনা সদস্য নিহতের কথা জানিয়েছে। রবিবার সকালে টানা ৬ ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে

রবিবার ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে এ সামরিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। ভোর ৪টার দিকে হামলাকারীরা প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে। এরপর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।

হামলায় অন্তত ২০ জওয়ান আহত হয়েছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। তাদের হেলিকপ্টারে করে রাজধানী শ্রীনগরে সেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর উরির দোকানপাট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো শহরে যান চলাচল বন্ধ আছে।

বার্তা সংস্থা এএনআই-এর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে হামলায় ১৭ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স সেনাসূত্রের বরাত দিয়ে, নিহত সেনা সদস্যের সংখ্যা ৯জন বলা হলেও নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হয়েছে। নিহত ও আহত সেনা সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব হামলাকারী নিহত হয়েছে। তবে এখনও চিরুনি অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ও ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল দলবির সিং কাশ্মির সফরে যাচ্ছেন।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলাকারীরা ফিদায়েন বা আত্মঘাতী বন্দুকধারীরা হতে পারে। সেনা স্থাপনাটি  বারামুল্লা জেলার শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ হাইওয়ের উরিতে অবস্থিত। এটা সেনাদের অস্ত্রাঘার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

হামলার পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেছেন। আজকেই তার রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া জরুরি একটি বৈঠকও ডেকেছেন তিনি। উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকটি দুপুর সোয়া ১২টায় রাজনাথ সিংয়ের বাসায় অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে চলতি বছর পাঞ্জাবে পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। সেখানে টানা তিনদিন বন্দুকযুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হন।

উল্লেখ্য, প্রায় তিন মাস ধরে কাশ্মিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কাশ্মির। পুলিশের ছররা গুলিতে আহত ১৫ বছরের কিশোর মোমিন আলতাফকে শুক্রবার আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তার মৃত্যুর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রীনগরের হারওয়ানের বাসিন্দারা।  তার জানাজা শেষে মানুষ হারওয়ানের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের ফলে হারওয়ানে প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জারি করা হয় কারফিউ। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট। এই বিক্ষোভের আঁচ যাতে অন্য এলাকায় ছড়িয় পড়তে না পারে তার জন্য শ্রীনগরের বেশ কিছু উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।  এ কিশোরের মৃত্যুতে ৮ জুলাই থেকে টানা বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ জনের মৃত্যু হলো।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ধরনের সহিংসতা ও বিক্ষোভ চলছে কাশ্মিরে। এ ব্যাপক বিক্ষোভের শুরু হয় কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর। ৮ জুলাই কাশ্মিরের অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে তারা নিহত হন। এর পর কাশ্মিরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মিরের দশটি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। আর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা জারি রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। আর তাতে প্রাণ হারায় অন্তত ৬৭ জন। টানা ৫২ দিন পর ২৯ আগস্ট শ্রীনগরের কয়েকটি এলাকা থেকে কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও ১৪৪ ধারা জারি থাকে।  সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি, রয়টার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here