প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ

0
5

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : আজ ২৮ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার তিন ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল ও একমাত্র বোন শেখ রেহানা। শেখ হাসিনার জন্মের সময় রাজনৈতিক কাজে শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। দাদা শেখ লুৎফর রহমান এবং দাদি সায়েরা খাতুনের আদর আর সোহাগে শেখ হাসিনার শৈশবের সময় কাটে। গ্রামবাংলার নিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনার সঙ্গে ছেলেবেলা থেকেই মাটি আর মানুষের সম্পর্ক গভীর আর নিবিড়-যা তার পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনেও গভীর রেখাপাত করেছে। টুঙ্গিপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয় তার প্রাথমিক পাঠদান। শৈশব আর কৈশরে মাটি আর কাদা নিয়ে খেলতে ভালোবাসতেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনার রাজনীতির সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক ছেলেবেলা থেকে। ’৫০-এর দশকে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসা শেখ হাসিনা ১৯৫৬ সালে টিকাটুলিতে নারী শিক্ষা মন্দির গার্লস স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৯৬৫ সালে আজিমপুর গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপকার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে বেড়ে ওঠা শেখ হাসিনা ক্লাস এইটে থাকতে স্কুলের পরীক্ষার খাতায় পাকিস্তানের একনায়ক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের একনায়কতন্ত্রের সমালোচনা করে রচনা লেখায় তার স্কুলের কর্তৃপক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। আইয়ুব-মোনায়েমবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম ও ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে ছাত্রলীগের মিছিল-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক মামলা এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বার বার জেলে যাওয়া বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সঙ্গে যেতেন শেখ হাসিনা।
এ সময় শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং এরপর ইডেন গার্লস কলেজ ছাত্রী সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে। ১৯৬৬ সালে শেখ হাসিনা পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই ছেলে মেয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা হোসেন পুতুল। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১ মাস আগে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানি চলে যাওয়ায় বেঁচে যান তারা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনা তার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ ৬ বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হন এবং ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৭ মে লাখো মানুষের উত্তাল গণসংবর্ধনায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। স্বৈরাচারী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় থেকে আওয়ামী লীগের হাল ধরে এগিয়ে নিয়ে যান এবং ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ ও ‘জননেত্রী’ অভিধায় জনগণ তাকে ভূষিত করে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার দীর্ঘ ২১ বছরের কঠিন আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর ২০০৯ সাল এবং ২৯১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পর পর দুবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here