মাঝপথে থমকে আছে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টা

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ থেমে আছে। ঈদের পর অভিন্ন প্লাটফর্ম তৈরির যে কল্পনা ছিল তাও নেই। বরং বিএনপির এখন পুনর্গঠন ও জোটগত কর্মসূচি নিয়েই ভাবছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, বিএনপির চেয়ারপারসনের সাথে কাদের সিদ্দিকীর বৈঠক পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়েছিল বলে জানি। এরপর তা আর অগ্রসর হয়নি। তবে যতটুকু আলোচনা হয়েছে তা সামনের দিনে জাতীয় ঐক্য গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় এবং ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পাশের আবাসিক এলাকায় জঙ্গি হামলার পর উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রথমে সরকারকেই এই উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। তবে ‘জাতীয় ঐক্য আছে’-সরকারের অবস্থানের বিপরীতে বিএনপি ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে বিভিন্ন দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরির উদ্যোগ নেয়। উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে সে সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর বাইরে ঐক্য গঠন প্রক্রিয়ায় বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সংগঠন শত নাগরিকের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মূল ভমিকা রাখেন। তবে দৃশ্যত খালেদা জিয়ার সাথে কাদের সিদ্দিকীর বৈঠক ছাড়া জাতীয় ঐক্য গঠনে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলেন এমন নেতারা জানান, ঐক্য প্রক্রিয়া আপাতত থেমে গেলেও বিভিন্ন দলের সাথে বিএনপির যে আলোচনা হয়েছে তাকে তারা ইতিবাচক দেখছেন। ভবিষ্যতে যে কোনো ইস্যুতে বৃহৎ প্লাটফরম তৈরির ক্ষেত্রে এই আলোচনাও গুরুত্ব বহন করবে। বিএনপির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দল এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের বাইরে দেশের অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দলের সাথে বিভিন্নভাবে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আলোচনা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সাথেও কথাবার্তা হয়েছে। সবাই খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়ে তা সমর্থন করেছেন। তবে এই মুহূর্তে তারা এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে পৃথক প্লাটফরমে দাঁড়াতে রাজি হননি। বিশেষ করে ডান ও বাম ঘরানার ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের এখনো প্রায় আড়াই বছর বাকি। তা ছাড়া সরকার একতরফা নির্বাচন করেও শক্তভাবে দেশ পরিচালনা করছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোণঠাসা করে রেখেছে। এমন অবস্থায় তারা বিএনপির সাথে একই প্লাটফরমে গিয়ে সরকারের রোষানলে পড়তে চান না। মামলা-হামলা মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও দলগুলোর নেতারা জানিয়েছে। একই সাথে তারা বিএনপিকে আপাতত দলগতভাবে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার কথা বলেছেন। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থে দলগুলো বিএনপির ডাকে সাড়া দেবে বলেও বিএনপির নেতাদের আশ্বস্ত করেছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য একটি দলের শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল আমাদের সাথে জাতীয় ঐক্য নিয়ে মাস খানেক আগে বৈঠক করেছে। তবে আমরা তাদেরকে জানিয়েছি এখনই সরকারবিরোধী প্লাটফরমে যাওয়ার ইচ্ছা আমাদের নেই। বরং আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করব। রাজধানী ও কিছু অঞ্চলকেন্দ্রিক একটি ডানপন্থী দলের নেতা জানান, আমাদের দলটি ছোট। তবুও বিএনপির নেতারা আমাদের সাথে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা তাদেরকে বলেছি, বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে অভিন্ন প্লাটফরমে গেলে সরকার আমাদের টার্গেট করবে। সরকারের রোষানলে পড়ব। সরকারের হামলা-মামলা মোকাবিলা করার সামর্থ ও জনবল আমাদের নেই। ফলে এখনই এসব না করে বিএনপির নেতাদের সময় নিয়ে ভবিষ্যতে এ রকম উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here