সম্মেলনে ঘোষণাপত্রই হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি রাজনৈতিকভাবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে মোকাবেলা করতেই নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে আওয়ামী লীগে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারী পার্টি ও দলের একাধিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ইতিমধ্যেই আগামী নির্বাচনের জন্য মন্ত্রী, এমপি ও নেতা-কর্মী-সংগঠকদের এখন থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারী পার্টির সর্বশেষ বৈঠকে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন নির্বাচনের বাকি আছে আর মাত্র ২ বছর কয়েক মাস-তাই এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য গণসংযোগ, জনসম্পৃক্ততা আরো নিবিড় করা এবং নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রী-এমপি ও নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানায়, ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় কাউন্সিল থেকে আওয়ামী লীগের যে ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে- সেটাই পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে আগামী নির্বাচনের ইস্তেহার হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আওয়ামী লীগের এবারের ঘোষণাপত্রে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুত থাকবে। আওয়ামী লীগের ঘোষণা পত্রে পর পর দু’বারের নির্বাচিত সরকারের সাফল্য ও অর্জনের খাত হিসেবে বিদ্যুৎ খাতে ৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং লোড শেডিংয়ের পরিমাণ ক্রমাগতভাবে কমিয়ে নিয়ে আসা, শিক্ষা খাতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ ও পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধি, কৃষি খাতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও বিদেশে চাল রফতানি, নির্মাণ খাতে নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু চালু করা এবং রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণের কথা ছবিসহ উল্লেখ করা হবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়ন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের সাফল্য, সমুদ্র সীমানা বিজয়, বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ অবসান করে সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন, ছিটমহল হস্তান্তর ইত্যাদি বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকবে।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল থেকেই মন্ত্রী-এমপি ও নেতা-কর্মীদের যার যার এলাকার নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা প্রদান করে বলা হবে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-তবে এই নির্বাচনের জন্য রাজনীতির মাঠে এখন থেকেই সরব থাকতে হবে আওয়ামী লীগকে। জনগণের কাছাকাছি থাকতে হবে এবং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও সুখ-দুঃখের সময় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের এক যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, টানা ৭/৮ বছর ক্ষমতায় থাকার আবেগের কারণে কোনো অলসতা সৃষ্টি করলে চলবে না-আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত নীরব হয়ে বসে নেই-তাদের নানা ধরনের রাজনীতি ও বাধা-বিপত্তি রাজনৈতিকভাবে এবং আগামী নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং রাজনীতির মাঠে শুধু কথায় ও স্লোগানে নয়-কার্যক্রমে ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগকে নিজেদের নির্বাহী কমিটি নিয়ে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই দু-তিন দিনব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক কিংবা ওয়ার্কশপের আয়োজন করে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইভাবে আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের পর থেকেই জেলায় জেলায় ও থানায় থানায় কমিটিগুলোর উদ্যোগে এ ধরনের দীর্ঘ ধারাবাহিক বৈঠক এবং ওয়ার্কশপ আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে এসব বিষয়গুলো মনিটরিং করার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here