ঘোরতর অনিশ্চয়তায় সার্ক

0
3

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন সংক্ষেপে (সার্ক)-এর ১৮টি শীর্ষ সম্মেলন সম্পন্ন করার পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় ঘোরতর অনিশ্চয়তায় রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহৎ আঞ্চলিক জোট সার্ক। ১৯৮৫ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকার প্রধানদের সর্বসম্মতিতে সার্ক সনদ গৃহীত হয়। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে ঢাকা ঘোষণাও প্রকাশিত হয়। সার্কের সনদ অনুযায়ী বছরে কমপক্ষে একবার সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এর ব্যাত্যয় ঘটিয়ে ১৮ মাসের ব্যবধানে অনেকগুলো সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় সার্কের পর্দা উন্মোচনের পর ১৯৯৩ সালে ৭ ও ২০০৫ সালে ত্রয়োদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়।
ঢাকায় ১৯৮৫ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধি, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইউম, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র বিক্রম শাহদের, ভুটানের রাজা জিংগে সিংমে ওয়াংচু ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট জেআর জয়বর্ধন। এর পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অঞ্চলিক জোট সার্কের ১৮টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও পাকিস্তানে আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন পাক-ভারত সাম্প্রতিক যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়ায় এখন সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশে ভারত ও পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জোট গঠনের উদ্যোগও শুরু হয়েছে। প্রথমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপ এই ৭টি দেশ নিয়ে সার্ক গঠিত হলেও পরবর্তিতে আফগানিস্তানকে সার্কের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সার্কের পর্দা উন্মোচিত হওয়ার পর দ্বিতীয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে ১৯৮৬ সালের নভেম্বর মাসে। এর পরের বছর ২ থেকে ৪ নভেম্বর নেপালের রাজধানী কাঠমা ুতে তৃতীয় এবং ১৯৮৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চতুর্থ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পর ১৯৮৯ সালে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৯০ সালে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত হয় সার্কের পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলন। এরপর ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে ষষ্ঠ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সপ্তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১০ ও ১১ এপ্রিল।
প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সপ্তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সপ্তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং ভুটানের রাজা ও মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট যোগদেন। এরপর ৮ম থেকে অষ্টোদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন যথাক্রমে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি, নবম মালদ্বীপের রাজধানী মালে, দশম শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো, একাদশ নেপালের রাজধানী কাঠমা ু, দ্বাদশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, ত্রয়োদশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, চতুর্দশ ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লি, পঞ্চদশ শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো, ষষ্ঠদশ ভুটানের রাজধানী থিম্পু, সপ্তদশ মালদ্বীপের আদদু নগরীতে ১০ ও ১১ নভেম্বর এবং সর্বশেষ অষ্টাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় নেপালের রাজধানী কাঠমা ুতে ২০১৪ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর। দু’বছর পর অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ৯ ও ১০ নভেম্বর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হলেও ভারতের কাশ্মির রাজ্যের উরি গ্রামে পাকিস্তানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমে ভারত এবং এরপর একে একে আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা সম্মেলনে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শেষ পর্যন্ত সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেছে স্বাগতিক দেশ পাকিস্তান। সার্কের বর্তমান চেয়ারপার্সন নেপাল কৌশলগত কারণে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান বর্জন না করলেও তারা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের বিকল্প আয়োজক দেশ নির্ধারণের পক্ষে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফ ঘোষণা করেছেন যে সার্ক সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের পরবর্তি তারিখ ঘোষণা করা হবে। পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক গঠন সম্পর্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি, বরং সার্কের বিদ্যমান কাঠামোকে বহাল রেখেই সার্কের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখার পক্ষে মতামত দেয়া হয়েছে সরকারের শীর্ষ মহলের পক্ষ থেকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে দ্বি-পাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগ না থাকার কারণে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশেষ করে পাকিস্তান-ভারতের মধ্যেকার দ্বি-পাক্ষিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সংঘাত ও যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায় যেটা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে দ্বি-পাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার ন্যূনতম সুযোগ থাকলে হয়তো সেগুলো এড়ানোর পথ দ্রুততম সময়ে বের হয়ে আসতে পারত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here