ঝুঁকিতে ২২০ কোটি মানুষ : এশিয়াজুড়ে জিকা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা

0
4

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : এশিয়াজুড়ে মশাবাহিত জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মশাবাহিত জিকা ভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা অনেক বেশি। ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় ডব্লিউএইচওর এক আঞ্চলিক বৈঠকে এ সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে জিকা ভাইরাসে কয়েক শ’ লোক আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই অঞ্চলের আরেক দেশ থাইল্যান্ডে জিকাবাহিত রোগ মাইক্রোসিফালিতে (ছোট মাথা নিয়ে জন্মানো) দুই শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। সারা বিশ্বে ৭০টি দেশে জিকায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কমপক্ষে ১৯টি দেশে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর পরিচালক মার্গারেট চ্যান বলেন, এখনো এ ভাইরাস প্রতিরোধের উপায় খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো জটিল অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই।’ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা কম। তবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ, জিকায় আক্রান্ত শিশুর জন্মগত নানা ত্রুটি থাকে। এমনকি শিশু ছোট মাথা নিয়ে জন্মাতে পারে। এশিয়ায় বহু আগে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে সর্বশেষ ব্রাজিলে এটি মহামারি আকারে দেখা দেয়।
এর আগে গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী ই-লাইফ শো জানিয়েছিল, বিশ্বের ২২০ কোটি মানুষ জিকা ভাইরাস ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানচিত্রে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিবিসি জানায়, এডিস এজিপটি মশার মাধ্যমে ছড়ায় জিকার ভাইরাসের জীবাণু, যা এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে হুমকির বিষয় ছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কোন কোন জায়গায় মশা বাস করতে পারে, এটা খুঁজে বের করার চেয়ে জিকা আক্রান্ত হওয়ার স্থানগুলো চিহ্নিত করা অনেক কঠিন। গবেষকদের একজন ড. অলিভার ব্র্যাডি বিবিসিকে জানান, প্রথমবারের মতো তারা এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মানচিত্র তৈরি করেছেন। কোন ধরনের স্থানে জিকা ভাইরাস বিস্তার লাভ করতে পারে এবং কোন এলাকার মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, গবেষণার মাধ্যমে তাই দেখিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকরা বলছেন, দক্ষিণ আমেরিকা এ মুহূর্তে জিকা আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার তালিকার শীর্ষে রয়েছে। সব মিলিয়ে ২২০ কোটি মানুষ আছেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। অ্যামাজন নদী ও এর আশপাশের এলাকাও রয়েছে ঝুঁকিতে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে আসছে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা বাড়ার সময়ও জিকা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জিকা ভাইরাসের কারণে হাজারো শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাবে বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ড. ব্র্যাডি আরো বলেন, জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মশার কেবল একটি মাত্র শর্ত পূরণ প্রয়োজন। আর এটা হলো, মশার শরীরে পর্যাপ্ত উষ্ণতা পাওয়া। এর পর মানবদেহে ব্যবহার করে এটি সহজেই সংক্রমিত হয়। আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলও জিকার সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here