নেপাল চায় রেলপথ ও স্থল ভিসা, বাংলাদেশের প্রয়োজন জলবিদ্যুৎ

0
6

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন নেপালের বাণিজ্যমন্ত্রী রোমি গাওচান তাসাকালির। গতকাল রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিবিআইএন চুক্তির আওতায় নেপাল চেয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে মংলা থেকে ভারতের সিনবাদ হয়ে নেপালের বীরগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ এবং তাদের নাগরিকদের জন্য স্থল ভিসা আর বাংলাদেশ প্রত্যাশা করছে নেপালে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ। বৈঠকে নেপালে যৌথভাবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ঐক্যমতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও নেপাল। প্রাথমিকভাবে ২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, বৈঠকে মোট ৩টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে। কারণ নেপাল ও বাংলাদেশের মাঝখানে ভারতের অবস্থান। তাই ভারতকে বাদ দিয়ে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব না।
তিনি আরো বলেন, যদিও বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষাধীন রয়েছে। কারণ নেপালে বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। আগামী ১/২ বছরের মধ্যে নেপাল যদি তাদের ঘাটতি মেটাতে পারে তবে আমরা সে দেশ থেকে এ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারব।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ২ দেশের মধ্যে রেললাইন চালু করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নেপাল মংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী। তাই মংলা থেকে খুলনা পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ শেষ হলেই ২ দেশের মধ্যে স্থলপথে পণ্য আনা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। রেল ট্রানজিটটি বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগর দিয়ে পণ্য আমদানি করে মংলা নৌবন্দরে তা খালাসের পর মংলা-খুলনা হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোহানপুর স্থলবন্দরে তা নিতে চায় নেপাল। এরপর ভারতের সিনবাদ রুট ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে তা নেপালের বীরগঞ্জে প্রবেশ করানো সহজ হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে রেল পথে পণ্য আনা নেয়া শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে নেপালের নাগরিকদের বিমানপথে ভিসা দেয়া হয়। বাংলাবান্ধা ও রোহানপুর স্থলবন্দর দিয়ে নেপালিদের স্থল ভিসা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী। যদিও ভিসার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তারপরও ২ দেশের সচিব পর্যায়ের একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ভিসা দেয়ার বিষয়টি চিন্তা করা হবে।
রেলপথ কোন চুক্তির আওতায় করা হবে? এ এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিবিআইএন কানেক্টিভিটি চুক্তির আওতায় এটা করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করা হলেই নেপালের সঙ্গে সড়ক পথে পণ্য আনা নেয়া করতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৬ সালে নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য শুরু হয়। এরপর থেকে বাণিজ্য কখনো আমাদের অনুকূলে কখনো নেপালের অনুকূলে ছিল। বর্তমানে ৪০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমাদানি-রফতানি করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here