প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলামে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ

0
3

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলামে বড় রকমের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমানো হবে। আধুনিক কারিকুলাম, স্বল্প সময়ে পরীক্ষা নেয়া, পরীক্ষার মূল্যায়ন ব্যবস্থাসহ পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করা হবে। বিজ্ঞান, ব্যবসা ও মানবিক এই ৩ বিভাগের পাঠ্যবইয়ের মানের পরিবর্তন ও ভাষা সহজীকরণ করা হবে। এ ছাড়া সৃজনশীল বিষয়ে মানসম্মত প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষকদের জন্য এ বিষয়ে প্রশ্নব্যাংক তৈরি করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ গতকাল সোমবার ভোরের ডাককে বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের যে দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি জানান, আলাদা ৪টি সাব-কমিটি এ ক’টি বিষয় নিয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি কমিটি শিক্ষকদের প্রশ্ন তৈরির সুবিধার্থে একটি ‘প্রশ্নব্যাংক’ করবে। যাতে শিক্ষকরা সৃজনশীলের মতো কঠিন বিষয়ে সহজভাবে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে পারেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান-এ চারটি বইয়ের ভাষা অনেক কঠিন। গত রোববার শিক্ষার মানোন্নয়নে পরামর্শক কমিটির সভায় এসব পাঠ্যপুস্তক সহজীকরণ ও প্রাঞ্জলভাবে তৈরি করতে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, পাঠ্যবই ও পড়ানোর পদ্ধতি সহজ করা হবে। তবে বই সহজ করার স্বার্থে আগে কারিকুলাম সংশোধন করা হবে। পক্ষান্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে অল্প সময়ের মধ্যে কিভাবে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া যায়, সে বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে একটি স্টান্ডার্ড মানদ নির্বাচন করা হবে। এসব বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে কারিকুলাম, পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্ব এখন পর্যন্ত বণ্টন হয়নি।
অতিরিক্ত সচিব আরো জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে ২০১৮ সালের শিক্ষাবর্ষে নতুন সংস্করণের বই তুলে দেয়া হবে। এই দুই স্তরের বই সংশোধিত কারিকুলামে দেয়ার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসব কাজ চূড়ান্ত করার আগে শিক্ষা ও প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সভা করা হবে। এরপর দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কর্মশালায় বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।
নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে কেজি (কিন্ডার গার্টেন) স্কুলে বাড়তি সহায়ক বই পড়ানো বন্ধ, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা, সিলেবাস সহজীকরণ করতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবিদ, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়েছেন আসছেন। এরই প্রেক্ষাপটে বাড়তি বইয়ের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের বাড়তি বইয়ের বোঝা কমাতে গত ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মুক্ত আলাচনায় ডিসিরা বিষয়টি বন্ধের প্রস্তাব করেন। সম্মেলনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন, কোনো কোনো কেজি স্কুলে এনসিটিবি নির্ধারিত পুস্তকের বাইরেও সহায়ক বই হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ও নানা মানের গড়ে ৮টি করে সহায়ক বই পড়ানো হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ এবং তাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যহত হচ্ছে। তখন প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে; দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ দাবি জানিয়ে আসছিলাম। তবে দেরিতে হলেও মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে কী ধরনের সমন্বয় করা হবে এসব বিষয়ে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। এরপর কারিকুলার সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকরা সৃজনশীল প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হিমশিম খেয়ে যান, তাদের একটি প্রশ্ন ভা ার করা যায় কিনা বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কারিকুলাম আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করার বিষয়টি ভেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যদি কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে তবে সেগুলো সমন্বয় করেই কারিকুলাম তৈরি করা হবে। যার ভিত্তিতে একটা সহজ, সুন্দর ও চমৎকার পাঠ্যপুস্তক তৈরি হবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করছেন। এরপরই চূড়ান্তকরণ করা হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা নিতে এবং ছেলেমেয়েরা যাতে সহজে পরীক্ষা দিতে পারে, সে বিষয়টিও ভেবে দেখা হচ্ছে। যাতে ছেলেমেয়েরা চাপ অনুভব না করে। শিক্ষকদের পরামর্শে অনেক কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পরিবর্তন করতে পারব। সব মিলিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতির বড় ধরনের সংস্কার করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here