রাজধানীর ৪ প্রবেশ দ্বার থেকে নগরীতে ঢোকার পথ উন্নয়নের উদ্যোগ নেই

0
4

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ লাখ লোক আসছে ঢাকায়। এসব মানুষ তাদের গন্তব্যস্থান থেকে আসার পর ঢাকায় প্রবেশ করেই পড়ছে নানা বিড়ম্বনায়। কারণ ৪৫ বছরেও ঢাকার প্রবেশমুখের জন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় ঢোকার জন্য ৪টি প্রবেশ পথ রয়েছে। নৌ পথ, সড়ক পথ, রেল পথ ও বিমান পথ। এ প্রবেশ পথগুলোর মধ্যেও নেই কোনো সমন্বয়। এ পথগুলোর পরিকল্পিত ও বহুমাত্রিক ব্যবহার না থাকায় ঢাকায় আগত মানুষ-জন নানা দুর্ভোগে পড়ছেন। সড়ক, নৌ ও বিমান পথে রাজধানীতে প্রবেশের জন্য বর্তমান প্রবেশপথের বাইরে বিকল্প কোনো বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এমনকি প্রবেশপথ থেকে নিজের গন্তব্যে যেতে যাত্রী পরিবহনের জন্য কোনো আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বিমান ও রেল পথের যাত্রীরা। সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ২০ বছর মেয়াদি ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান ২০১৬-৩৫-এর প্রকাশিত খসড়ায়ও এ চিত্র উঠে এসেছে।
জানা গেছে, প্রতিদিন সবচেয়ে বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন নৌপথ দিয়েই। এর একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সদরঘাট টার্মিনাল। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৪৫টি রুটে দৈনিক ৪০৪টি বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে এ টার্মিনাল দিয়ে। এসব নৌযান দিয়ে টার্মিনাল হয়ে দৈনিক প্রায় পৌনে ২ লাখ যাত্রী ঢাকায় প্রবেশ বা প্রস্থান করেন। সদরঘাটের পর রাজধানীতে বেশি যাত্রী আসা-যাওয়া করেন রেলপথে। রাজধানীর কমলাপুর ও টঙ্গী স্টেশন থেকে ৩৯টি রুটে ১০১টি ট্রেন পরিচালনা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। রেলস্টেশন কিছুটা ডিজিটাল প্রযুক্তির সেবা প্রদান করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি নগণ্য। রেলস্টেশনে কোন ট্রেন কখন ছাড়বে কিংবা কোন ট্রেন সর্বশেষ কোথায় অবস্থান করছে তা জানার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রচার না থাকায় যাত্রীরা এর সুফল ভোগ করতে পারছেন না। এদিকে, ঢাকার একমাত্র বিমানবন্দর হচ্ছে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক বলা হলেও প্রবেশ বা প্রস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ৩৭টি রুট থেকে ১৬০টি ফ্লাইট ওঠা-নামা করে। এতে প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী প্রতিদিন ঢাকায় প্রবেশ বা প্রস্থান করেন। তার উপর বিমানবন্দরটিতে নানা সমস্যা রয়েছে। এতে কোনো ধরনের আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ নেই। সরকারি বা বেসরকারী কোনো এয়ারলাইন্স স্বল্প দূরের যাত্রীদের আনা নেয়ার জন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থাই গড়ে তোলেনি। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অনেক আগেই বাংলাদেশ বিমান যাত্রী পরিবহনের পাশপাশি যাত্রীকে শহর থেকে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার কথা বললেও আজও তা করেনি। ফলে যাত্রীকে ঢাকায় নেমেই রেন্ট-এ কার সার্ভিসের শরণাপন্ন হতে হয়। এসব রেন্ট-এ কার সার্ভিসের চার্জ অনেক বেশি। যা অনেক যাত্রীর পক্ষেই যাতায়াত ব্যয় বহন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ ছাড়া, যাত্রীদের যথাস্থানে ঠিকমতো এসব বাহন যেতেও চায় না।
অন্যদিকে, রাজধানীর চারটি আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাস টার্মিনালের মধ্যে গাবতলী দিয়ে বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। এ টার্মিনাল দিয়ে ৩০টি রুটে দৈনিক ৯৬০টি বাসে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ১৯টি রুটে ৭৯০টি বাসে দৈনিক প্রায় ৩৫ হাজার যাত্রী চলাচল করেন। এছাড়া, ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড দিয়ে এক হাজারটি বাসে ৮টি রুটে দৈনিক প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী ও মহাখালীতে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দিয়ে মূল ৫টি রুটে ৪১০টি বাসে দৈনিক প্রায় ২০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। দেশের অন্যান্য শহরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ঢাকা শহরে মাত্র চারটি সংযোগ সড়ক রয়েছে। এর বাইরে বিকল্প হিসেবে কোন ধরনের প্রবেশ সংরক্ষিত সড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে বা বাইপাস সড়ক নেই। ফলে সড়কপথে ঢাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানে অনেকটা সময় অপচয় হয়। অনেক সময় ঢাকা থেকে বের হতেই ৩-৪ ঘণ্টা অপচয় হয়। ফলে নৌপথ, স্থলপথ বা আকাশপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রতিনিয়তই নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, যা দেখার যেন কেউ নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থার এ বেহাল অবস্থার কারণে কোনো আগন্তুক জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গ্রাম থেকে এসে ঢাকা শহরে প্রবেশ করেই বাধ্যতামূলকভাবে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। রাজধানীতে প্রবেশের পর টার্মিনাল বা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীর গন্তব্যস্থলে যেতে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থাই গড়ে তোলেনি সরকার। ফলে রাজধানীতে প্রবেশের মূল চারটি প্রবেশপথ আজও চরমভাবে অবহেলিতই রয়ে গেছে। মূলত যাত্রী আনা-নেয়া করলেও যাত্রীর কল্যাণে আজও মনোযোগ দেয়নি কোনো কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে প্রবেশপথ থেকে গন্তব্যে যেতে যাত্রী পরিবহনের জন্য কোনো আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। এসব প্রবেশমুখে যাত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, অপর্যাপ্ত ওয়েটিং রুম, বাসস্ট্যান্ডে কোনো যাত্রী ছাউনি গড়ে না তোলা, পর্যাপ্ত টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকা, খাবারের জন্য সুব্যবস্থা না থাকা, তথ্য জানার জন্য তথ্যকেন্দ্র না থাকা, যাত্রীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকাসহ নানা অসঙ্গতি চোখে পড়ে। রাজধানীতে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে যাত্রীর ন্যূনতম সুবিধা বিবেচনা না করার অর্থাৎ যাত্রীর কল্যাণে এমন বেহাল অবস্থা পৃথিবীর আর কোনো দেশে নোই বললেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চীন, জাপন, আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বের ন্যায় ঢাকা শহরের বাইরে থেকে কোনো আগন্তুক প্রবেশ করলে ও দ্রুত বাধাহীন শহর থেকে বের হওয়ার জন্য সড়ক, নৌ ও রেলের সমন্বয় হওয়া জরুরী। যাত্রী আসা যায়ার জন্য ঢাকার মূল চার প্রবেশপথ আজও অবহেলিত রয়েছে। যেসব পথে দৈনিক অন্তত ৪-৫ লক্ষাধিক লোক প্রবেশ করে। অথচ আজ পর্যন্ত রেল, নৌ, বিমান বা বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীকল্যাণে তেমন সুব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি কিংবা এসব স্থান থেকে যাত্রী চলাচলে কোনো আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি। এগুলোর পরিবেশও নোংরা। ঢাকার মতো একটি মেগা সিটির জন্য এ বিষয়ে দ্রুত মনোযোগ দেয়া অতি প্রয়োজন। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত শহরগুলো তা-ই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগর স্ট্রাকচার প্ল্যান ২০১৬-৩৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি তৈরি করা সার্কুলার রোড তৈরি বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে প্রবেশপথগুলো অনেকটা সুরক্ষা পাবে। পাশাপাশি রাজধানীতে দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here