১০ টাকার চাল নিয়ে নৈরাজ্য

0
5

ডেস্ক সংবাদ (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও থেমে নেই হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে অতিদরিদ্র পরিবার বাছাই করে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে ৫ মাস চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সরকার। এজন্য ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে বাছাই কমিটি করা হয়।
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, দশ টাকা মূল্যের অতিদরিদ্রদের চাল বিক্রির কার্যক্রম বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ৫ উপজেলায় এখনো পুরোটা শুরু করা যায়নি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা নেতাদের সুপারিশে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মনক্ষুণ্ন হওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সেপ্টেম্বর পেরিয়ে নভেম্বর মাসের চাল এখনো পাননি সংকট সৃষ্টি হওয়া পাঁচ উপজেলার কার্ডধারী অতিদরিদ্ররা।
এ বিষয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সময় পেরিয়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসের চাল বিক্রির আর কোন সুযোগ নেই। তবে বিভাগের অন্য জেলাগুলোয় ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ রীতিমতই চলছে।’
বরিশালের বাছাই কমিটি প্রথম পর্বে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এই ৩ মাস এবং দ্বিতীয় পর্বে মার্চ ও এপ্রিল মাসে কার্ডধারীদের চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ জেলায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ জন চাল পাবার তালিকাভুক্ত হন। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৯৬ জন, পটুয়াখালী জেলায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪ জন, বরগুনা জেলায় ৫৪ হাজার ৬১৮ জন, ভোলা জেলায় ৮২ হাজার ৯৯৯ জন, পিরোজপুর জেলায় ৩৩ হাজার ৪২১ জন এবং ঝালকাঠী জেলায় ৩০ হাজার ৭৬৪ জন। ‘ইউনিয়ন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি’র এই চাল বিক্রির জন্য বরিশালে ২৮২, পটুয়াখালীতে ২৫৮, ভোলায় ১৫৬, বরগুনায় ১০৯, পিরোজপুরে ৮৫ এবং ঝালকাঠী জেলাতে ৬০ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে চাল বিক্রি শুরু হলেও বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলা, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ ও উজিরপুরের সিংহভাগ ইউনিয়নে চাল পায়নি তালিকাভুক্তরা।
চলমান সংকটের বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ভোক্তাদের তালিকার পর চাল বিক্রির ডিলারদের তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জমা দিতে বলেন। সবকিছু ঠিক হবার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আর উপজেলা চেয়ারম্যানের সুপারিশে সেই তালিকা বদলে দিয়ে তাদের পছন্দের ডিলার নিয়োগ করেন। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর বুধবারে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বলেছেন, আমাদের তালিকা যখন বদলে দেওয়া হয়েছে তখন চাল বিক্রিতে অনিয়ম হলে এর দায়ভার আমরা নেব না। আপনাদেরই চাল বিক্রির তদারকি করতে হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে তার ইউনিয়নে অন্তত আড়াই থেকে তিন হাজার কার্ডধারী দশ টাকা কেজি চালের সুবিধা পেতেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সরকারের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমস্যা চলমান। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় কেবল একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে মাত্র এই চাল বিক্রি করা গেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্ব এমন কথা শোনা গেলেও অস্বীকার করেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘তারা অতিদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করেছেন তবে ডিলাদের তালিকা এখনো সম্পন্ন করতে পারেননি। এই মাসের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।’
বিলম্বের কারণে সরকার ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির দশ টাকা কেজি দরের চাল দরিদ্র জনতা পাচ্ছেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
‘ইউনিয়ন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি’ এই সংকট নিয়ে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। তবে জনবান্ধব এই কর্মসূচিতে অনিয়ম রোধে তারা সচেষ্ট। ইতোমধ্যে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের হিরণ হোসেন এবং রতন বেপারী নামে দুই ডিলার ১০ টন করে ২০ টন চাল খাদ্যগুদাম থেকে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়াতে তাদের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে। মাপে কম দেওয়ার অভিযোগ পেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ডিলার স্বপন বাড়ৈর অভিযোগ তদন্তে কর্মসূচির বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চলাচল ও সাইলো) চিত্তরঞ্জন বেপারী সরেজমিন তদন্ত করেছেন। এছাড়া, মঠবাড়িয়া ও বাউফল উপজেলায় একজন করে ডিলারকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ইউনিয়ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র জন্য বরিশাল বিভাগে সাড়ে ১৪ হাজার মেট্রিকটন চাল প্রয়োজন। এর যোগানে কোন অসুবিধা নেই। তবে পছন্দের ব্যক্তিদের কার্ড বা ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে সমস্যার সৃষ্টি। এজন্য পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে বিভাগের সব ইউনিয়নগুলোয় একযোগে চাল বিক্রি শুরু করা যায়নি।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান,সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নীলফামারীর ডোমারে হতদরিদ্র ব্যক্তিদের জন্য ১০টাকা কেজির চাল বিক্রির কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্ড বিতরণে টাকা গ্রহণ ছাড়ারও দলীয় নেতা, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, ধনী ও ব্যসায়ীরাও পেয়েছেন হতদরিদ্রদের জন্য নায্যমূল্যের ১০ টাকা কেজির চাল ক্রয়ের কার্ড। উপজেলার হরিণচড়া, সোনারায় এবং পাঙ্গামটুকপুর ইউনিয়নে কার্ড বিতরণে এইসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সত্যেন রায় পেয়েছেন ন্যায্যমূল্যের কার্ড। ৮নং ওয়ার্ডে পেয়েছে স্বামী ও স্ত্রী কার্ড। তাছাড়া একই বাড়িতে একাধিক ব্যক্তি কার্ড পেয়েছেন। এলাকার হতদরিদ্ররা জানান, টাকা দিতে না পারায় তাদের নামে কার্ড না হয়ে যারা স্বচ্ছল ও ২০/৩০ বিঘা জমি রয়েছে তাদের নামে হয়েছে কার্ড।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, শালমারা গ্রামের নরেশচন্দ্র রায়ের রয়েছে একাধিক ব্যবসা। তার ছেলে ওযার্ড যুবলীগের সদস্য বনমালী পেয়েছে ন্যায্যমূল্যের কার্ড। রশিদুল ইসলাম নামে এক ধান-চালের ব্যবসায়ীর নামে রয়েছে ১০ টাকা মুল্যের কার্ড।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানিয়েছে, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ রায় তার স্ত্রী পুস্প রানী এবং তারা বাবা সুরেন্দ্রনাথ রায়ের নামে রয়েছে কার্ড। অপরদিকে, পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে এলাকার বেশকিছু স্বচ্ছল ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নামেও কার্ড রয়েছে। ৯নং ওয়ার্ডে আবু তাহেরের পাকাবাড়ি থাকার পরেও তিনি কার্ড পেয়েছেন। কার্ড পেয়েছেন ডুগডুগী বাজারের সার ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সাহার উদ্দিন, ২০ বিঘা জমি থাকার পরেও ননীগোপাল পেয়েছেন এই কার্ড। পূর্ব বড়গাছা গ্রামের হরিকান্ত (১৫৩২) রায়ের রয়েছে ৩০ বিঘা জমি তিনি পেয়েছেন কার্ড। ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বসন্ত বর্মন পেয়েছেন হত দরিদ্রদের জন্য ১০টাকা কেজিতে চাল ক্রয়ের কার্ড।
এরকম একাধিক অভিযোগের পাশাপাশি চাল বিতরণে নানা অনিয়মেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। হরিণচড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ২০/৩০ বিঘা জমি রয়েছে এমন ব্যক্তিও কার্ড পেয়েছেন।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসার মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ বলেন, ‘ডোমার উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৩৩৪টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ২ হাজার ৩৫১টি কার্ড এসেছে।’
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হতদরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে বগুড়ার শাজাহানপুরের খোট্রাপাড়া ইউনিয়নের এক ডিলারকে ১৫ দিনের ও এক ফড়িয়া ব্যবসায়ীকে ৩ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে এ আদেশ দেন। কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির ওই ইউনিয়নের ডিলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আবুল বাশার ও একই এলাকার ফড়িয়া ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাফিউল ইসলাম বলেন, ১০ টাকা কেজি চাউল বিক্রিতে কেউ অনিয়ম করে ছাড় পাবে না। খোট্রাপাড়া ইউনিয়নের ডিলার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল বাশার গুরুতর অপরাধ করেছে। যে অপরাধে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্বল্পমূল্যের হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বাজারে বিক্রির অভিযোগে বিক্রেতা ও ডিলারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন তাদেরকে সেনপাড়া গ্রামের এক মুদি ব্যবসায়ীর দোকান থেকে চালসহ গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারা হলেন- বীরগঞ্জ উপজেলার লক্ষিপুর গ্রামের শরৎ চন্দ্র রায়ের ছেলে ডিলার কামিনী রায় (৫০) বিক্রেতা রুস্তুম আলী (৪৫)।
বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আক্কাস আহম্মেদ জানান, আসামিদেরকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদেরকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুর প্রতিনিধি জানান,সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০টাকা কেজি) চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জামালপুর সদর উপজেলার হাজীপুর বাজার থেকে ৪.৮৫০ মেট্রিকটন সমপরিমাণ ৯৭ বস্তা চাল জব্দ করাসহ দুই নছিমন চালককে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতিশ্বর পাল আটক নছিমন চালক নজরুল ইসলাম ও রফিককে সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে প্রত্যেককে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
খবর পেয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাসেল সাবরিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালগুলো জব্দ করে।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাসেল সাবরিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কালোবাজারে বিক্রির সময় ২টি নছিমনে ভরা ৯৭ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চালগুলো সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং ডিলার আশরাফ ফারুকীর নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের আওতায় ফেয়ার প্রাইজ কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের উদ্যোগ নানা অনিয়ন, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতর কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে খাগড়াছড়ি এলাকায়। হতদরিদ্র পরিবারের বদলে কার্ড ইস্যু হয়েছে জনপ্রতিনিধির বাবা, চাকরিজীবী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামে। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ ও কোথাও কোথাও নানা অজুহাতে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নজির দেখা যায়নি।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাটিরাঙা পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সোহেল রানার দেওয়া তালিকায় তার বাবার নামে হতদরিদ্র কার্ড ইস্যু করেছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। মাটিরাঙ্গা ইউনিয়নের অনুকূলে ৯৭নং কার্ডটি মো. আবদুল খালেকের নামে ইস্যু করা হয়।
পৌর কাউন্সিলরের বাবার নামে হতদরিদ্র পরিবারের কার্ড ইস্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে চতুর পৌর কাউন্সিলর মো. সোহেল রানা এক আবেদনের মাধ্যমে তার বাবার পরিবর্তে আমেনা বেগম স্বামী মো. ইব্রাহিম এ নামে পরিবর্তন করার আবেদন করেন। একই উপজেলার গোমতি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তালিকা প্রণয়নে নানা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্য, সরকারি চাকরিজীবী ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের নামে ইস্যু অভিযোগ রয়েছে।
মাটিরাঙা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নে ৮৭ নং কার্ডধারী মো. শহিদুল্লাহ ও ৩৩৫ নং কার্ডধারী শফিক মিয়া স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়রে সহকারী শিক্ষক। ১৩ নং কার্ডধারী শুভাশিস ত্রিপুরা সাবেক সেনাবাহিনীর সদস্য। ২নং কার্ডধারী মো. ইদ্রিস মিয়া ও ২৫ নং কার্ডধারী মো. দেলোয়ার হোসেন একই পরিবারের সদস্য। ৩ নং কার্ডধারী জাহিদুল ইসলাম, ৯ নং কার্ডধারী ও ২৪ নং কার্ডধারী মো. সেলিম, ৩৫ নং কার্ডধারী মো. জয়নাল আবেদীন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
গোমতি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দুলাল মিয়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘স্কুল শিক্ষক ও বিত্তশালী ব্যক্তির কার্ড প্রথম দফা বিতরণের সময় আটক করা হলেও পরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে চাল দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল শিক্ষক শফিক মিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
গোমতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন লিটন বলেন, ‘অভিযোগের সত্য-মিথ্যা দুটোই আছে। মেম্বার দেওয়া তালিকায় ৮/১০টি নাম অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঐসব কার্ড আটক করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে কার্ডের নাম পরিবর্তন করার জন্য বলা হয়েছে।’
ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত গোমতি ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, ‘কিছু লোক ডিলারশিপ না পেয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
মাটিরাঙা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলম বলেন, ১০ টাকায় চাল বিতরণে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকৃত হতদরিদ্রদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তালিকা প্রণয়নের কথা থাকলেও সব ইউনিয়নেই হয়েছে সরকার দলীয় নেতাদের সুপারিশের তালিকা।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিশ শারমিন বলেন, ‘প্রশাসন বসে নেই। যেখানে অভিযোগ সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অভিযোগ পেলে সামনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here