আওয়ামী লীগেও উদ্বেগ বাড়ছে

0
6

বিশেষ প্রতিবেদক (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): সফল সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কৌশলী রাজনীতি আর উন্নয়নের বাণী শুনিয়ে সবই এখন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে। বিরোধী জোটের শক্তি আর আমলে নেয়ারও তোয়াক্কা করে না দলটি। বিগত নির্বাচনের বৈধতার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বেশ ঐক্যবদ্ধও এখন স্বাধীনতার এই সংগঠনটি।

এমন অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও আওয়ামী লীগের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেছে। উদ্বেগ এখন দলের সর্বত্রই। জঙ্গি ইস্যু চাপা পড়তে না পড়তেই সংখ্যালঘু ইস্যুতে বেকায়দায় দলটি।

‘নির্বাচনের আগে এমন ইমেজ সংকট সরকার এবং দলের জন্য কোনোভাবেই শুভকর নয়’ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন অন্তত তাই মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই মানা যায় না। প্রধানমন্ত্রী অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা জঙ্গি দমনে সফল। সবকিছু আমাদের অনুকূলে। এই সময় সংখ্যালঘুদের ওপর এমন নির্যাতন সরকারের জন্য সুখের খবর নয়। সামনে নির্বাচন। বিরোধী পক্ষ এটি ইস্যু বানাবে এটাই স্বাভাবিক।’

নাসিরনগর থেকে গোবিন্দগঞ্জ। মানুষের হাহাকার যেন থামছেই না। দখল, জবরদখল আর ঘর জ্বালানোর ঘটনায় প্রান্তিক মানুষের হাহাকারে শামিল গোটা দেশ। সংখ্যালঘুদের কান্নায় শরিক হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠরাও। সাঁওতালদের আর্তনাদে বুক মেলাচ্ছে দূর প্রান্তের মানুষেরাও।

সাঁওতালপল্লীর আগুন মূলধারার গণমাধ্যমে যেমন ছড়াচ্ছে, তার চেয়ে বেশি জ্বালাময়ী হয়ে উঠছে সামাজিক গণমাধ্যমে। বিশ্ব গণমাধ্যমেও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা এখন গুরুত্বপূর্ণ খবর।

সঙ্গত কারণেই নাসিরনগরে হিন্দুপল্লী, আর গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালপল্লীতে হামলার ঘটনায় অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আওয়ামী লীগ নেতারা নানা বক্তব্য দিলেও ভেতরে অন্য সুর।

আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ মনে করছে এসব ঘটনায় দলের নেতাকর্মীদের নাম থাকায় চরম ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ মনে করছে, পরপর দুটি ঘটনা ভিন্ন কিছুর আলামত সৃষ্টি করছে। এখানে বিশেষ ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে, যা দলের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, ‘নাসিরনগর এবং গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় আমরা লজ্জিত, বিব্রত এবং উদ্বিঘ্ন। এমন হামলা কোনো মানুষ করতে পারে না। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা দলের জন্য চিন্তারও কারণ।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট আছে। ১৯৭৫ সালের পর থেকেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্ম। বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চূড়ান্ত রূপ নেয়। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামও একই ধরনের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠা। আর একই ধারাবাহিকতায় এখনও এমন বর্বর কাণ্ড ঘটছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমরা অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই রাজনীতি করছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা কখনও সফল হবে না। আর দলের কেউ এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here