এটা আমাদের জন্য লজ্জার : হাইকোর্ট

0
3

আদালত প্রতিবেদক (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ):  দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে মো. শিপন নামের এক ব্যক্তি বিনাবিচারে কারাগারে থাকার ঘটনাকে রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাকর বলে অভিহিত করেছেন হাইকোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা এ সংক্রান্ত রুল শুনানিকালে আদালত বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও আদালত ব্যর্থ হয়েছে। এটা আমাদের সকলের জন্য লজ্জাকর। এই দায় রাষ্ট্রের ও বিচারকের। এ ঘটনা সবার নজরে আনার জন্য চ্যানেল-২৪ ও অন্যদের ধন্যবাদ জানান হাইকোর্ট।

এই ঘটনায় আদালত বিনাবিচারে ১৭ বছর ধরে কারাগারে আটক শিপনকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি জে বি এম হাসানের আদালত মঙ্গলবার (০৮ নভেম্বর) এ আদেশ দেন।

আদালতে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম জহিরুল হক।

এছাড়াও হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়া সাপেক্ষে বিচারিক আদালতকে (ঢাকার পরিবেশ আদালত) ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পিপি মামলা নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগ নিবেন।

যদি নতুন করে কোনো তথ্য প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে যে তথ্য-প্রমাণ আছে তার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করতে বলেছে হাইকোর্ট। মামলার যাবতীয় সহায়তা করার জন্য ঢাকা লিগ্যাল এইড অফিসকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদেশের আগে আদালত শিপনের কাছে জানতে চান, জামিন দিলে সে কোথায় যাবে। তখন শিপন আদালতকে বলেন, বাড়ি যাব। আদালত জানতে চান, বাবা-মা মারা গেলে তো জানতাম। আদালতকে সে তার কাটা হাত দেখায়।

চ্যানেল-২৪ এ সম্প্রচারিত একটি প্রতিবেদন গত ৩০ অক্টোবর আইনজীবী কুমার দেবুল দে আদালতের নজরে আনলে শিপনের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বর শিপনকে আদালতে হাজিরের জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকার আদালতে বিচারাধীন হত্যা মামলার এক আসামি শিপন ১৬ বছর ধরে বিনাবিচারে কারাগারে আটক রয়েছেন। ২২ বছর আগের এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাটি ঢাকার আদালতে বিচারাধীন।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে দুই মহল্লার মধ্যে মারামারিতে মাহতাব নামে এক ব্যক্তি খুন হন। এ খুনের ঘটনায় মো. জাবেদ বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুই নম্বর আসামি করা হয় মো. শিপনকে। মামলার এজাহারে তার পিতার নাম ছিল অজ্ঞাত। পরে ১৯৯৫ সালে দেওয়া অভিযোগপত্রে বাবার নাম উল্লেখ করা হয় মো. রফিক। ঠিকানা উল্লেখ করা হয় ৫৯, গোয়ালঘাট লেন, সূত্রাপুর।

১৯৯৫ সালে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালের ৭ নভেম্বর শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে সে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অভিযোগপত্র দাখিলের ৫ বছর পর ২০০১ সালে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। অভিযোগ গঠনের পর এ পর্যন্ত সাক্ষী নেওয়া হয়েছে দুজনের। মোট সাক্ষী রয়েছেন ১২ জন। আগামী ১১ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here