শেভরনের ৩ গ্যাসক্ষেত্র কেনার কথা ভাবছে বাংলাদেশ

0
3

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন করপোরেশনের ৩টি প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের স্থানীয় স্থাবর সম্পত্তি কেনার কথা বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এ ৩টি গ্যাস ক্ষেত্রের সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। এ সম্পদ ক্রয় করতে পারলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করেন পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে এ কথা জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তর তেল কোম্পানি শেভরন জানিয়েছে, ২০১৭ সালের মধ্যে তারা তাদের ১০ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি বিক্রি করে দেবে। জ্বালানির দাম পড়ে যাওয়ার কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শেভরনের ৩টি গ্যাসক্ষেত্রও রয়েছে। বাংলাদেশ এই গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে ‘জাতীয় স্বার্থে’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচনা করছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ রয়টার্সকে বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে এই সম্পদ ক্রয়ের কথা বিবেচনা করছে। তবে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’ ইশতিয়াক আহমেদ জানান, পেট্রোবাংলা চাইছিল যেন শেভরনই এই বিষয়ে একটি নিলাম ডাকে। এ সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করতে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও নিয়োগ দিয়েছে পেট্রোবাংলা।
শেভরনের মুখপাত্র জানান, এই সম্পদের বাণিজ্যিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে তা বিক্রির বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সোমবার ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো দাম পেলে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেব।’
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চায়। ফলে জ্বালানি উৎপাদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের জ্বালানিমন্ত্রীর দাবি মতে, বাংলাদেশে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হয়। বাংলাদেশ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমেই এই সম্পদ কিনতে চায় বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এটা আমরা অন্যদের কাছে হস্তান্তর করব কেন?’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই আগ্রহের ফলে তৃতীয় কোনো পক্ষের এ সম্পদ কেনা কঠিন হতে পারে। শেভরন উৎপাদিত জ্বালানি ভাগাভাগির ভিত্তিতেই পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রয় করে আসছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই সম্পত্তির উপর অধিকার আছে বলে দাবি করেন পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হুসাইন মনসুর। তিনি বলেন, এ সম্পত্তি ক্রয় করতে বাংলাদেশের তহবিলের সমস্যা হবে না। কেননা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকের মধ্যে জ্বালানি তেলের দরপতনের ফলে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এ বছর তাদের ৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইক্সন মবিল করপোরেশনের পর সবচেয়ে বড় কোম্পানি শেভরন। তেলের দরপতনের ফলে চলতি বছরের জুলাইয়ে সবচেয়ে বড় আর্থিক সঙ্কটে পড়ে শেভরন। ২০০১ সালের আগে লোকসানের মুখে পড়তে হয়নি কোম্পানিটিকে। শেভরন এশিয়ায় থাকা তাদের সম্পদ বিক্রি করে ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে থাকা গ্যাস সম্পদ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে থাকা সম্পদও বিক্রি করতে আগ্রহী কোম্পানিটি। সূত্র : রয়টার্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here