১৩১ উপজেলা পাচ্ছে মিনি স্টেডিয়াম

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৩১ উপজেলা পাচ্ছে এ মিনি স্টেডিয়াম। জায়গা নির্বাচন ও দরপত্র আহ্বান শেষ। ডিসেম্বরে স্টেডিয়ামগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছে এনএসসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। প্রথম ধাপের ১৩১ টি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সব স্টেডিয়াম নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা।

একটি প্রকল্পের অধীনেই ৪৯০ উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমি অধিগ্রহণ না করে উপযুক্ত স্থানে খাস জমি খুঁজে স্টেডিয়াম নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন, তাই প্রকল্পটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা পাওয়ার পরই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জমি খোঁজার অনুরোধ করে। মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উপযুক্ত খাস জমি পাওয়া গেছে ৫০ জেলার ১৩১ উপজেলায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলার তালিকা অনুমোদন দেন গত ২৫ মে।

প্রকল্পের নাম ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম-প্রথম ধাপ’ হলেও কোনো স্টেডিয়ামে গ্যালারি থাকছে না। প্রকৃতপক্ষে এগুলো হবে মাঠ। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে স্টেডিয়ামগুলো। এক পাশে কেবল একটি একতলা ভবন থাকবে। দুটি ড্রেসিং রুম, একটি অফিস রুম এবং নারী-পুরুষদের জন্য আলাদা ৩টি করে ৬ টি টয়লেট থাকবে এ ভবনে। ভবনের সামনে ৩৫ টি আরসিসি বেঞ্চ থাকবে। বাকিটা উন্মুক্ত।

সব উপজেলায় সমান পরিমাণ জমি না পাওয়ার কারণে এ মিনি স্টেডিয়ামগুলো করা হচ্ছে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ -এই ৩ ক্যাটাগোরিতে। জমির পরিমাণ ৪ একরের বেশি, ৩ একরের বেশি ও ৩ একরের কম-এভাবে স্টেডিয়ামগুলো তিন ক্যাটাগোরিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। আকার ভিত্তিতে মিনি স্টেডিয়ামগুলোর নির্মাণ ব্যয়ও বিভিন্ন রকম। তবে গড়ে প্রতিটি স্টেডিয়ামের জন্য খরচ হবে প্রায় ৪১ লাখ টাকা। স্টেডিয়ামগুলোর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ১৪ টি জোনে। এক জেলার কিংবা পার্শ্ববর্তী জেলার কাছাকাছি উপজেলাগুলোকে রাখা হয়েছে এক একটি জোনে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) এ বছর ২৮ জুন প্রকল্পটির প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। চূড়ান্ত অনুমোদন হয় ১৮ জুলাই। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) সুকুমার সাহা বলেছেন, ‘২০ নভেম্বরের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সব কিছু চূড়ান্ত করবে। এ মাসেই কার্যাদেশ প্রদান সম্ভব হবে। আশা করছি, ঠিকাদাররা ডিসেম্বরে কাজ শুরু করতে পারবে।’

প্রথম ধাপে ১৩১ টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ হচ্ছে। বাকি ৩৫৯ টি উপজেলাবাসীর মন খারাপের কারণ নেই। জমি পাওয়া সাপেক্ষে ধাপে ধাপে সব উপজেলাতেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। তবে বাকি স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণের জন্য কোনো কোনো উপজেলায় জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে। কারণ সব উপজেলাতে স্টেডিয়াম তৈরির উপযুক্ত খাস জমি নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে যেভাবেই হোক পর্যায়ক্রমে ৪৯০ উপজেলাতেই তৈরি হবে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত এ মিনি স্টেডিয়াম।

কোনো নির্দিষ্ট খেলার জন্য নির্ধারিত থাকবে না উপজেলা পর্যায়ের এ মিনি স্টেডিয়াম বা মাঠগুলো। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামগুলো বুঝিয়ে দেবে উপজেলা পরিষদকে। তারা স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে বসে মাঠ ব্যবহারের নীতিমালা তৈরি করবে। ক্রীড়া প্রশাসন প্রথমে চেয়েছিল মাঠের চারিদিকে অন্তত কাটাতার দিতে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here