৭০ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগাভাগি

0
4

লক্ষীপুর (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও রাজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিলের প্রায় ৭০ লাখ টাকার ঠিকাদারি কাজ ভাগবাটোয়ারা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

কাজ পাইয়ে দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের শতকরা ১০ টাকা হারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) নিয়ম রক্ষার্থে পাতানো ২৬টি প্যাকেজে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র দাখিল করা হয়। এ নিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রতিনিধি আনোয়ারুল হকের নামে এ টেন্ডারটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

তার পক্ষে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি সহযোগীদের নিয়ে এডিপির এ টেন্ডারটি নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের প্রভাবে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র সংগ্রহ করতে পারেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও রাজস্ব উদ্বৃত্ত তহবিলের আওতায় ২৬টি প্যাকেজে ৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

গত ৯ মার্চ উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৬৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৮৫ টাকার এই দরপত্র আহ্বান করেন। দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিল সোমবার (১৭ মার্চ) ও দাখিলের শেষ সময় ছিল মঙ্গলবার (২৮ মার্চ)।

এসব প্রকল্পে উপজেলার ব্রিজ, কালভার্ট, নলকূপ স্থাপন, সীমানাপ্রাচীর ও টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ রয়েছে।

তিনজন সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ, দরপত্র বিক্রির শেষ সময় মঙ্গলবার থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে একটিও বিক্রি করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে কার্যালয়ে বারবার গিয়ে রহস্যজনক কারণে ফরম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতারা সিন্ডিকেট করে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করেছেন। নেতারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে শতকরা ১০ টাকা হারে হাতিয়ে নিয়ে কাজ ভাগাভাগি করে দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতা মঙ্গলবার নিয়মরক্ষার জন্য পাতানো টেন্ডার দাখিল করা হয়েছে।

কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে টেন্ডারবাজি পছন্দ করি না। কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকলে তার দায়ভার দল বহন করবে না।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলেন, আমার কার্যালয় থেকে দরপত্র বিক্রি করা হয়েছে। কাজ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে কিনা আমার কিছুই জানা নেই।

বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও ফোন ধরেননি তিনি।

কমলনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ শামসুল আলম বলেন, এ টেন্ডার নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আমার সঙ্গে পরামর্শ করেননি। আওয়ামী লীগ নেতারা কাজগুলো ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে কিনা তাও বলতে পারবো না। তবে উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি, নিয়মের বাইরে কিছু করা যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here