রফিউর রাব্বিকে গ্রেপ্তারের দাবি

0
6

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বিকে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে। সমাবেশ থেকে আগামী ৭ মে’র মধ্যে রাব্বিকে গ্রেফতারে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর ডিআইটি এলাকায় নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলমান এর ব্যানারে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ চলাকালে রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নগর ভবনের সামনে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। সমাবেশ থেকে আলেম ওলামারা ‘বিসমিল্লাহ’ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় রফিউর রাব্বিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। সমাবেশে থেকে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারিদের কোন রকম ছাড় দেওয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় আলেম সমাজ।

নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলমান এর ব্যানারে সমাবেশের আয়োজন হলেও এর নেপথ্যে সাংসদ শামীম ওসমানই মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বলেন স্থানীয় নানা সূত্রে জানা গেছে। শামীম ওসমান অনুসারিদের সমাবেশ স্থলের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন নারায়ণঞ্জ মহানগর হেফাজতের আহবায়ক ও রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে করা মামলার বাদি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মুফতি সিরাজুল ইসলাম মুনীর, মুফতী জাবির হোসাইন কাসেমী, মুফতী বশিরউল্লাহ, মাওলানা কামালউদ্দিন দায়েমী, মূফতী তৈয়ব আল হোসাইনী, মুফতী আনিস আনসারী, মাওলানা আব্দুল মতিন, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সামিউল্লাহ মিলন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান ডেপুটি কামান্ডার অ্যাডভোকেট নূরুল হুদা, নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবু জাহের, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদসহ প্রমুখ। মঞ্চে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদলও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে শামীম ওসমান বলেন, আমি এসেছি একজনের মুসলমানের পুত্র হিসেবে প্রতিবাদ জানাতে। বিসমিল্লাহকে কটুক্তি করবে সেই যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে কেউ মাঠে না নামলেও আমি সবার আগে নামব। আগে দেখব প্রশাসন কি করে।

তিনি বলেন, হুজুরদের সঙ্গে বসলেই কারে কারো গা জ্বলে। কাদের জ্বলে বুঝতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ। আলেমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নাস্তিকদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে। রফিউর রাব্বি নাস্তিক হলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলো রফিউর রাব্বি আমাদের ধর্ম নিয়ে কোন কটুক্তি করতে পারবে না। আমাদের আল্লাহ, রসূল ও বিসমিল্লাহ নিয়ে কথা বলবে, আর আমি শামীম ওসমানকে যে আল্লাহ সম্মান দিয়েছে, এমপি বানিয়েছে তার প্রতিবাদ করব না এটা হতে পারে না। শুধু বিসমিল্লাহ নয়, মুসলিম হয়ে অন্য ধর্মকে সম্মান করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। মসজিদ, মন্দির ও চার্চ কোন ধর্মকে অসম্মান করা যাবে না। করলে সেখানে পাশে দাঁড়াব।  তিনি বলেন, ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করলে আমি শামীম ওসমান একা মাঠে নেমে যাব। সে যে-ই হোক।

কিশোর ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করে শামীম ওসমান বলেন, আমিও চাই ত্বকী হত্যার বিচার হোক। ত্বকীকে কারা কোথায় কিভাবে হত্যা করেছে তার সব জানি। সত্য প্রকাশ করলে অনেকের নাম প্রকাশ হয়ে পড়বে। কিন্তু সব কথা বলতে পারি না, কারণ আমি আওয়ামী লীগের এমপি। আমার গায়ে আওয়ামী লীগের সীল রয়েছে।

উপস্থিত আলেম সমাজকে ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতে ৭ মে পর্যন্ত মামলাটি তদন্তর সময় দিয়েছে। আপনারা সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ওই সময়ের মধ্যে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নিলে আপনাদের লাগবে না, আমি শামীম ওসমানই মাঠে মানবো। রাব্বিকে শায়েস্তা করার জন্য আপনাদের প্রয়োজন নেই-আমিই যথেষ্ট। কিন্তু আমার হাত-পা বাধা। কারণ আমি আওয়ামী লীগ করি। আমি আওয়ামী লীগের এমপি।

সমাবেশ বক্তব্যকালে অন্যান্য আলেমগণ অবিলম্বে রফিউর রাব্বির গ্রেফতার দাবি করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাব্বির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করারও দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল বিকেলে নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারে শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি বলেছিলেন, ‘যদি বাংলার মানুষ জানত সংবিধান শুরু হবে বিস্মিল্লাহির রহমানির রাহিম দিয়ে, দেশ হবে সাম্প্রদায়িকতার দেশ-তাহলে মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছিল তাদের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতো না। তার এ বক্তব্য পরদিন ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়। রাব্বির এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here