নারায়ণগঞ্জে ফোর মার্ডার মামলায় ২৩ জনের ফাঁসি

0
4

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের আলোচিত ও নৃসংশ ফোর মার্ডার মামলার রায়ে ২৩ আসামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কামরুন নাহার এ আদেশ দেন। রায় ঘোষনার সময় এ মামলায় মোট ২৩ জন আসামীর মধ্যে ১৯জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং ৪ জন আসামী পলাতক রয়েছে।
আদালতে উপস্থিত ১৯ আসামীরা হলেন, মামলার প্রধান আসামী আবুল বাশার কাশু, ডালিম, ইয়াকুব আলী, রফিক, হালিম, রুহেল, শাহাবুদ্দিন, লিয়াকত আলী মাষ্টার, সিরাজ উদ্দিন, ইদ্রিস আলী, মোহাম্মদ হোসেন, আবু কালাম, আহাদ আলী, ইউনুছ আলী, জহির উদ্দিন, ফারুক হোসেন, গোলাম আযম, আব্দুল হাই ও খোকন। এ মামলায় পলাতক রয়েছে আল-আমিন, রুহুল আমিন, তাজুল ইসলাম ও হারুন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমীন আহমেদ জানান, আসামীদের দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ২৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে।
আসামী পক্ষের আইনজীবী বারী ভূইয়া ও খোরশেদ আলম মোল্লা বলেন, আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আপিল করার ব্যাপারে আসামীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ও ফোর মার্ডার মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম জানান, ২০০২ সালের ১২ মার্চ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় জালাকান্দির মৃত আজগর আলীর ছেলে ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের আপন ছোট ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী বাবেক, তার ফুফাতো ভাই একই এলাকার শরফত আলীর ছেলে বাদল এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা একই এলাকার মমতাজউদ্দিনের ছেলে কবিরকে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায়। একই সময় আবদুল্যাহকান্দির শুকুর আলীর ছেলে ফারুককেও তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় সমাজ কল্যাণ অফিসের পরিত্যক্ত দালানের একটি কক্ষে আটক করে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরতা চালিয়ে হত্যাকান্ডের এই ঘটনা ঘটানো হয়।
ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে শফিকুল আরও বলেন, নিহত চারজনকে ডেকে নিয়ে প্রথমে মাইরের কাঁঠ দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায়ই তাদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরতা চালানো হয়। খুনীরা তাদেরকে ইট দিয়ে মাথা থেঁথলে দেয়, পুরুষাঙ্গ কেটে দেয় এবং ব্লেড দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয়। এসময় পানি খেতে চাইলে খুনীরা তাদের মুখে প্রসাব করে দেয়। পরে বারেক ঘটনাস্থলেই মারা যান। ফারুক, কবির ও বাদলকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনদিন মৃত্যুে সঙ্গে লড়াই করে তারা মারা যান।
মামলার বাদী শফিকুল আরও বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। তবে রায় দ্রুত কার্যকরসহ পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
ফোর মার্ডারের ঘটনায় ২৩জনকে পুলিশ অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। এদিকে এ হত্যাকান্ডের পর নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রভাবশালী আবুল বাশার কাশু বিএনপির নেতাকর্মী নিয়ে ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here