না’গঞ্জে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির সমাবেশ শেষে হামলা, আহত ৪

0
12

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা কমিটির জেলা শাখার বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারের ভেতরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা কমিটির জেলা শাখার সদস্য কবি আরিফ বুলবুলসহ (৪৫) সংগঠনটির ৫ সদস্য আহত হন। আহত আরিফ বুলবুলকে কুপিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীরা। তার অপর সহযোগিদের রড এবং লাঠি সোটা দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। আহত আরিফ বুলবুলের মাথায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সুপারিশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবদুল মান্নান। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত আরিফ বুলবুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেবার প্রস্তুতি চলছিল।
আহত অন্যরা হলেন, সংগঠনের সদস্য কবি ও ছড়াকার আহম্মেদ বকুল, গায়েনের প্রধান গায়ক শাহীন মাহমুদ, সমগীতের অমল আকাশ প্রমুখ। ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা হাসপাতালে ছুটে যান। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতা কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
এদিকে গতকালের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলা শাখার সভাপতি রফিউর রাব্বি, সিপিবি জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা শাখার সমন্বয়ক নিখিল দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির হিমাংশু সাহা প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা হাসপাতালে রফিউর রাব্বি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এ ধরণের হামলা তারাই করেছে যারা সংস্কৃতি এবং সুন্দরবনের শত্রু এবং সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে শক্তি। আমরা চাই সরকার এ ঘটনার বিচার করুক। সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে বার বার এ ধরণের হামলা হচ্ছে। আমরা চাই এর শেষ হোক।
ঘটনা সম্পর্কে সাংস্কৃতিক কর্মী আরিফ বুলবুলের সঙ্গী এবং হামলায় আহত কবি আহম্মেদ বাবুল বলেন, আজ রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের প্রতিবাদে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সারাদেশ ব্যাপি প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনারে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শাখার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। ওই সময় আরিফ বুলবুল, কবি আহম্মেদ বাবুল, শাহীন মাহমুদ ও অমল আকাশসহ কয়েকজন সাংস্কৃতিক কর্মী শহীদ মিনারের ভেতরে ফুচকা খেয়ে সেখানেই বৃষ্টির কারণে অপেক্ষা করছিলেন। ওই সময় শহীদ মিনারের পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে কয়েকজন তরুণ ধারালো অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে অতর্কিতে তাদের উপর হামলা করে। হামলাকারীরা সবাই বয়সে তরুণ এবং তাদের প্রত্যেকের ২০ থেকে ২৫ এর মধ্যে। কিছু বুঝে উঠার আগেই হামলাকারীরা আরিফ বুলবুলের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। আর তাদের লাঠি সোটা দিয়ে বেধড়ক পেটায়। হামলাকারীদের কাউকেই চিনতে পারেননি আহতরা।
নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এমএ মান্নান বলেন, রোগির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথার দুই পাশে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান খান বলেন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা কমিটির সমাবেশ শেষ হয়ে যাবার পর ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তাছাড়া ঘটনার সময় বৃষ্টি থাকায় শহীদ মিনারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা শহীদ মিনারের বিপরীত পাশে থাকা সোনালী ব্যাংকের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তবে পুলিশ এ ব্যাপারে খোঁজ খবর শুরু করেছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশ
এদিকে আজ বিকেলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে সুন্দরবন রক্ষা এবং রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ-বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করার দাবিতে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সম্প্রতি জাতীসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বরাত দিয়ে সরকার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আবারো যে মিথ্যাচার শুরু করেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক ও সমাবেশের সভাপতি রফিউর রাব্বি বলেন, ‘ইউনেস্কোর বরাত দিয়ে সরকার আজ যে মিথ্যাচার করছে তা সরকারের দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। রামপাল নিয়ে দেশের ও বিশ্বের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ ও গবেশণায় তারা রামপালের জন্য সুন্দরবনের ক্ষতির বিষয়ে বহুবার সরকারকে জানালেও সরকার তাতে কর্ণতাত না করে সুন্দরবন ধ্বংসের সমস্ত আয়োজন অব্যাহত রেখেছে। সরকারের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ আজ সেখানে লুটপাটের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে। শত শত একর জমি দখল করে তারা বানিজ্য-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। একগুয়েমী পরিহার করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আমরা দাবি জানাই। সুন্দরবন ধ্বংস যুদ্ধাপরাধের চেয়ে কোনও ছোট অপরাধ নয়। সুন্দরবন ধ্বংস হলে একদিন এর সাথে যুক্ত সকলকেই বিচারের আওতায় আসতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, ওয়র্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক জাকির হোসেন, সিপিবির জেলা সংগঠক বীমল কান্তি দাস, গণসংহতি আন্দোলনের শহর সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, ন্যাপ জেল সম্পাদক এড আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সংগঠক রাশিদা আক্তার প্রমূখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার ভারতীয় কোম্পানী এনটিপিসির মাধ্যমে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, অথচ শ্রীলঙ্কাও এই এনটিপিসির মাধ্যমে সে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণকরেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এর ভয়াবহতা ও ক্ষতি অনুধাবন করে তারা সে প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের দেশে এই রামপালের প্রভাবে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here