কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিরা ?

0
13

বিশেষ প্রতিবেদক (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ) : নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও হিজবুত তাহ্‌রীরের পলাতক জঙ্গিরা সরকারি দলের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতার পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন। এজন্য জঙ্গিরা নির্ভয়ে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের পলাতক বা সক্রিয়দের সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পেয়েছে দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পলাতক ও সক্রিয় জঙ্গিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতাকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিশেষ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এবং মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা সক্রিয়ভাবে জেএমবি ও জামায়াত নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। মুক্তাগাছা থানা পুলিশ কখনো জেএমবি বা জামায়াত নেতাদের গ্রেপ্তার করলে মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের ‘সা’ আদ্যক্ষরের সাবেক এক শীর্ষ নেতা থানায় তদবির করে থাকেন। এছাড়া দুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ‘সা’ আদ্যক্ষরের এক নেতা একইভাবে জেএমবি ও জামায়াত নেতাদের সহায়তা করে থাকেন। এর মধ্যে দুল্লা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর কাজী আনিসুর রহমানের পক্ষে ‘সা’ আদ্যক্ষরের নেতা মুক্তাগাছা থানায় তদবির করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মলাজানি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বজলুর রশীদ মাস্টার, শহীদুল্লাহ মাস্টার, সাহেব আলী মাস্টার, কাজীমুদ্দিন, আরমান মুন্সী, মামুদ আলী, জালাল, সাইফুল ইসলাম ডালিম, মো. তারা মিয়া, রেজাউল করিম রাজু, মো. জলিল, মাজাহারুল ইসলাম মাজা, সাজাদুল ইসলাম সাজা, শহীদ ময়নাল হক, আবদুুল মান্নান, বজলুর রহমান, আব্দুর রহিম, জনি মুন্সী প্রমুখ একসঙ্গে চলাফেরা করছেন। তারা মলাজানি স্কুল, জেএমবি সদস্য জলিলের বাড়ি, দুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার রেজা আনাম এবং তার ভাই জুলফিকার রেজা রিপনের (সাবেক জামায়াত নেতা বর্তমানে বিএনপিতে যোগদান করেছেন) ফিশারীর ভেতরে পাকা ঘরে, আবদুর রহিমের মুক্তাগাছা উপজেলা সদরের বাসায়, মাজাহারুল ইসলাম মাজার মালিকানাধীন হোতারভিটার আকাশি গাছের বাগানে নিয়মিত বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নতুন করে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পরও আইনের ফাঁক দিয়ে জেএমবি সংশ্লিষ্টরা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিন পেয়ে যায়। এ কারণে জঙ্গি তৎপরতা চলমান রয়েছে। বিশেষ প্রতিবেদনে সুপারিশে বলা হয়, জেএমবি এবং জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতাকারী সরকারি দলের নেতাদের সাংগঠনিকভাবে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেয়া যায়। পাশাপাশি কারাগারে আটক জঙ্গিদের সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের উপর নজরদারি বাড়ানো যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here