প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবল নিয়োগের দাবিতে স্মরণকালের চার কিলোমিটার মানববন্ধন

0
16

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ জনবল সংকটে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় লোক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বুধবার রেলওয়ে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে স্মরণকালের চার কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। সৈয়দপুরস্থ সর্বদলীয় সকল রেলওয়ে ট্রেড ইউনিয়ন, রেলওয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রেলওয়ে কমান্ডের ব্যানারে আয়োজন করা হয় ওই মানববন্ধন কর্মসূচী।
সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে রেলওয়ের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অংশ নেয়। রেলওয়ে কারখানার খাবার বিরতির সময় কারখানার সকল শ্রমিক কর্মচারীরা কারখানা থেকে বেরিয়ে যোগ দেন মানববন্ধনে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা জনবল সংকট নিরসনে অবলিম্বে লোক নিয়োগে দাবি জানিয়ে প্লাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। রেলওয়ে কারখানায় শুন্য পদে জনবল নিয়োগের দাবির আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য বলেন, সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুল মোমিন, নীলফামারী জেলা পরিষদ সদস্য যথাক্রমে সৈয়দপুর জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ও পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. শামীম চৌধুরী ছাড়াও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একরামুল হক, রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, রেলওয়ে কারিগর পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলী, জোবায়দুর রহমান শাহীন, বিএনপি নেতা ও পৌর প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক জিয়া, একেএম এহছানুল হক, জাতীয় পার্টি নেতা রাইসুল ইসলাম লাকী বসুনিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা রুহুল আলম মাস্টার ও জাসদ নেতা ফজলার রহমান।
বক্তারা দেশের বৃহৎ এ রেল কারখানার চরম জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এক সময় এ রেল কারখানায় ১০ হাজার লোক কাজ করতেন। কিন্তু লোক নিয়োগের ধারাবাহিকতা না থাকায় জনবল এখন ১ হাজার ৫০০ জনে এসে ঠেকেছে। জনবল অভাবে রেল কোচের যন্ত্রাংশ তৈরীর মেশিনপত্র চালানো যাচ্ছে না। মাসিক রেলওয়ে কোচ ও ওয়াগন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান জনবলের বেশীর ভাগ শ্রমিক কারিগরের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় প্রতি মাসেই অবসরে যাচ্ছেন দক্ষ শ্রমিক-কারিগররা। এ অবস্থায় কারখানার উৎপাদন বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন কারখানায় প্রায় ৩ হাজার শুন্য পদ রয়েছে। শুন্য পদে লোক নিয়োগ না হলে কারখানা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনাও বিলুপ্ত হবে। বক্তারা কারখানা বাঁচাতে অবিলম্বে শুন্য পদে লোক নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি দাবী জানান। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী দেয়ার হুশিয়ারী দেয়া হয় মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধন শেষে লোক নিয়োগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দেয়া একটি স্মারকলিপি রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) কুদরত-ই-খুদার হাতে তুলে দেন রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন। এ সময় কর্মসূচীর আয়োজক সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনের এ কর্মসূচীতে রেলওয়ের ১১টি ট্রেড ইউনিয়ন, রেলওয়ে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রেলওয়ে কমান্ড এবং সৈয়দপুর পৌর পরিষদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, জাসদ (ইনু), সৈয়দপুর বণিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের স্থানীয় শাখার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অংশ নেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here