খালেদা জিয়ার মামলার রায় বিবেচনায় ১০ ইস্যু

0
6

আদালত প্রতিবেদক (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জন আসামির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের আইনজীবীরা। এর ফলে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর ও তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন পুরান ঢাকার বকশিবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদারতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

যেসব অভিযোগ বিবেচ্য ছিল আদালতে

বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপসারে উল্লেখ করেন—(১) ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে দিয়ে প্রাইম মিনিস্টার কোম্পানিজ ফান্ড নামীয় সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় হিসাব খুলেছিলেন কিনা?

(২) ওই হিসাবে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ১২ লাখ ৫৫ হাজার ইউএস ডলার জমা করেছিলেন কিনা?

(৩) ওই ১২ লাখ ৫৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ৩১৬ টাকা প্রাইম মিনিস্টার কোম্পানিজ ফান্ডে জমা হয়েছিল কিনা?

(৪) ওই টাকা বৃদ্ধি পেয়ে চার কোটি ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে কিনা?

(৫) প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুই কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তরিত হয় কিনা এবং আসামি তারেক রহমান ও  মমিনুর রহমান প্রাইম ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন কিনা?

(৬) কাজী সালিমুল হক কামাল প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখা থেকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিউ ইস্কাটন শাখায় স্থানান্তর করেন কিনা?

(৭) কাজী সালিমুল হক কামাল অবৈধভাবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে লাভবান হয়ে ব্যক্তি বিশেষকে লাভবান করতে সহায়তা করেন কিনা?

(৮) খালেদা জিয়াসহ আসামিরা পরস্পর সহযোগিতায় অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে এবং অন্যদের লাভবান করার অসৎ মানসে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে টাকা স্থানান্তর করাতে পারেন কিনা এবং ২ কোটি ১০ লাখ  ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা  আত্মসাৎ করা হয় কিনা?

(৯) আসামিরা ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ করেছেন কিনা?

(১০) আসামিরা শাস্তির যোগ্য কিনা?

বিবেচ্য অংশটুকু উল্লেখ করে বিচারক বলেন, প্রসিকিউশন অভিযোগের বিবেচ্য বিষয় প্রমাণ করতে পেরেছে। আসামি পক্ষ ডিসপ্রুভ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here