নারায়ণগঞ্জের সেই সাব রেজিস্টার বরখাস্ত

0
14

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সেই সাব রেজিস্ট্রার এসহাক আলী মন্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ঘুষ ছাড়া ফাইলে সাক্ষর করতেন না। এমনকি মিনিটে তিনটা ফাইলে সাক্ষর করতেন। শুধু তাই নয়, ঘুষের টাকা গুনে গুনে ড্রয়ারে রাখতেন। কম হলে ছুড়ে মারতেন। ঘুষ গ্রহনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে বোরবার দুপুরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন (আই জি আর) খান মোঃ আব্দুল মান্নান তাকে বরখাস্ত করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্টার (ডিআর) সাবিকুন্নাহার সাব রেজিষ্টার এসহাক আলী মন্ডলকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাবিকুন্নাহার বলেন, রোববার সকালেই সাব রেজিষ্টার এসহাক আলী মন্ডলকে আড়াইহাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে রূপগঞ্জের সাব রেজিষ্টার রেজাউল করিম বকশিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ওইদিন দুপুরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ রেজিস্ট্রেশন (আই জি আর) খান মোঃ আব্দুল মান্নান আড়াইহাজারে সরেজমিন পরিদর্শন আসেন এবং দলিল লিখকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘুষ গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে তাকে বরখাস্তকরেন।

এদিকে দলিল লিখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ভূইয়া জানান, একজন স্থায়ী সাব রেজিষ্টার পোস্টিং দেয়ার জন্য আই জি আর এর নিকট দাবী করা হয়। তিনি তাদের দাবী দ্রুত পুরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর দলিল লিখকদের কলম বিরতি স্থগিত ঘোষনা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডলের ঘুষ গগ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, টেবিলের ওপর কম্পিউটার। রয়েছে মুঠোফোন ও ফাইলের স্তুপ। প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর করার আগে টাকা গুনে ড্রয়ারে রাখেন তিনি। পাশ থেকে একজন ফাইল এগিয়ে দিচ্ছেন। এরমধ্যে একজন টাকা কম দেয়ায় টাকা ছুড়ে দিচ্ছেন। পরে আবার তার চাহিদা মত টাকা ড্রয়ারে রাখছেন। ড্রয়ারে টাকার অনেকগুলো নোট জমার পর নিজ হাতে তিনি প্যান্টের পকেটে গুজে রাখছেন। সরকারি কক্ষে বসে এভাবেই ঘুষের কারবার চালিয়েছেন আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মন্ডল।
দলিল লেখক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, ব্যাংক মরগেজ চুক্তিনামায় আগে কোন টাকা লাগতো না। কিন্তু সাব রেজিষ্টার এসহাক মন্ডল চুক্তিনামা সাক্ষর করতে ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতেন। পাওয়ার, পারিবারিক বন্টন দলিলে চালান বাদে সরকারকে কোন ফি দিত হত না। কিন্তু এ সাব রেজিষ্টার এসব দলিল থেকে সর্বনিন্ম ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। আগে হেবা দলিলে সরকারী ৬৪০ টাকা দিলে সাব রেজিস্টার সাক্ষর করতেন। এসহাক মন্ডলকে হেবা দলিলে স্বাক্ষর করাতে ২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হত। কোন দলিল লিখক ঘুষ নিয়ে তার সঙ্গে দরকষাকষি করলে তিনি দলিল ছুড়ে ফেলে দিয়ে নানা অশালীন বাক্য প্রয়োগ করতেন।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহের দুই তিন দিন অফিস করে আড়াইহাজার থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে গেলেও তার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছিল। তার অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জমি বেচাকেনা কমে গেছে। সাধারণ দলিল লিখকরা দলিল করাতে না পেয়ে অন্য পেশায় যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এক পর্যায়ে দলিল লিখক রা ঘুষ বন্ধ এবং সাব রেজিস্টার এসহাক আলী মন্ডলের অপসারণ দাবি করে কলম বিরতী পালন করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here