গাজীপুরে কৃষককে গলা কেটে হত্যা, ১৩ জনের ফাঁসি

0
11

গাজীপুর (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): গাজীপুরের কালীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক কৃষককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার মামলায় ১৩ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক ড. মো. ফজলে এলাহী ভূঁইয়া সোমবার দুপুরে ওই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ৭ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। বাকি ৬ আসামি পলাতক রয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরশাদী গ্রামের মৃত তালেব আলীর ছেলে ফালান, একই এলাকার ছোয়াদ আলীর ছেলে কাদির ও ছাদির আলী, নিজাম উদ্দিনের ছেলে কালাম, আফাজ উদ্দিনের ছেলে বাজিত, আজিজ ও ওসমান, খোদে নেওয়াজের ছেলে আ. ছামাদ, নিজাম উদ্দিনের ছেলে হুমায়ুন, মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে মানিক, মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে আলম এবং একই উপজেলার ইশ্বরপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে রুস্তম ও অহিদ আলীর ছেলে ফারুক।

রায় ঘোষণার সময় ফালান, আজিজ, ছামাদ, ফারুক, মানিক ও আলম আদালতে অনুপস্থিত ছিল। তারা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

গাজীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহমেদ ও কোর্ট ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ইশ্বরপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে কৃষক বিল্লাল ওরফে বিলুকে ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় রুস্তম আলী বাড়ি থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী ইশ্বরপুর বাজারে নিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশী কাদিরের গাছ থেকে সে কদু (লাউ) চুরি করেছে বলে অভিযোগ করে। এসময় বিলুর কাজের লোক জাকারিয়াকেও সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। তখন বিল্লাল ও জাকারিয়ার সঙ্গে কাদির ও সাদিরের বাকবিতণ্ডা হয়। ঘটনার সময় মামলার আসামিরা দা, কুড়াল, ছুড়ি ও রড নিয়ে হাজির হয়। এক পর্যায়ে তারা বিল্লালের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে ও কোপাতে থাকে। এসময় আত্মরক্ষার্থে বিল্লাল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে পার্শ্ববর্তী এক জমির রাস্তায় গিয়ে পড়ে যায়। তখন আসামিরা সেখানে গিয়ে কুড়াল দিয়ে বিল্লালের বুকে এলোপাতাড়ি কোপায় ও রড দিয়ে মারধর করে। এসময় তারা ছোরা দিয়ে বিল্লালের গলা কেটে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই বিল্লাল নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ছাদিরকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত ছাদির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর অন্য ছয় আসামিকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত শেষে কালীগঞ্জ থানার এসআই মনির উদ্দিন ১৯৯৭ সালের ১০ মে আদালতে ১৩ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে সোমবার ১৩ আসামির প্রত্যেককে দোষী সাব্যস্ত করে মামলার রায় দেন। রায়ে ১৩ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাসহ তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here