বাল্য বিয়েকে লাল কার্ড দিন

0
7

ইতি খাতুন (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): বাল্যবিবাহ আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি মারাত্মক ভাইরাসের নাম। বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থায় বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও পবিত্র বন্ধন বা বৈধ চুক্তি। আবার অন্য ভাবে বলা যায়, যার মাধ্যমে দু’জন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পরুষের মধ্যে দাম্পত্য সর্ম্পক স্থাপিত হয়। বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু’জন নারী ও পুরুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সর্ম্পক সামাজিক স্বীকৃতিলাভ করে। তবে বাল্যবিবাহ দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। আমাদের যাপিত জীবনে আধুনিকতা ও উন্নয়নের ছোয়া লাগলেও বাল্যবিবাহের প্রবনতা পুরোপুরি আজও কমেনী। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বাল্যবিবাহ, যা গ্রাম গন্ডি পেড়িয়ে সারাদেশে ব্যাধির মত ছড়াচ্ছে এই সমস্যা। বাল্যবিবাহ শুধু দরিদ্র্য, অল্প শিক্ষিত, পরিবারেই ঘটছে তা নয়, অনেক শিক্ষিত পরিবারেও ঘটছে হরদম। বাবা-মার অসচেতনতা মূলক দায়দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার বাসনা এই বাল্যবিবাহে ধ্বংস হয় একটি মন,একটি পরিবার,একটি সমাজ, সর্বোপরি একটি রাষ্ট্র। আর বর্তমান পৃথিবী হারাচ্ছে আগমীর পৃথিবীকে, এবং দেশ হারাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশ গড়ার হাতিয়ার গুলো। এক কথায় বলা যায় বাল্যবিবাহে পুড়ছে দেশের ভবিষ্যৎ।
আমাদের দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়তে হলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতেই হবে। এইজন্যে রাষ্ট্র ও জনতার ঐক্যবন্ধতার দরকার। আমরা জানি, বাল্যকাল বা পূর্ন বয়স্ক হওয়ার পূর্বে যে বিবাহ সর্ম্পূন হয় তাকে বাল্যবিবাহ বলে। বাল্যবিবাহ মানেই অন্ধকারে আবদ্ধ হলো যেন তাদের জীবন। বাল্যবিবাহের শিকার ছেলে মেয়ের শিক্ষা স্বাস্থ্য বিনোদনের মত মৌলিক মানবাধিকার লংঘিত হয় যা তাকে সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিইডিএসের ২০১৭ সালের জরিপে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে বাল্য বিবাহের সংখ্যা ৪৭ শতাংশ (১৮ বছরের নিচে ) অন্যদিকে (১৫ বছরের নিচে) বিবাহের সংখ্যা ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে আশার খবর বাল্য বিবাহ অনেকাংশেই রদ করা গিয়েছে। বাল্যবিবাহের কুফল সর্ম্পকে সমাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। এমন কী এখন বাল্যবিবাহের ঝুকির মধ্যে রয়েছে, এমন অল্প বয়সী মেয়ে নিজের বিবাহ নিজেই ঠেকিয়ে দিচ্ছে, সমাজে এর দৃষ্টান্ত ও তৈরি হয়েছে তারপরও এই ব্যাধি পুরোপুরি র্নিমূল করা সম্ভাব হচ্ছেনা। জরিপ অনুযায়ী বাল্যবিাহের প্রবণ ১০ জেলা হচ্ছে, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগা, গাইবান্ধা, নাটোর, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, জামালপুর, কুষ্টিয়া ও খুলনা। বাল্যবিবাহের বিভিন্ন কারণ লক্ষ্য করা যায়, তার প্রধান কারন দারিদ্র্যতা, নিরক্ষতা, সামাজিক চাপ, নিরাপত্তার অভাব, যৌন নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, ইভটিজিং অশিক্ষা, অসচেতনতা, বোঝা স্বরূপভাব, অর্থাভাব, কুসংস্কার, অপরিনত বয়সে প্রেমে জড়িয়ে পড়া, অবহেলা, পুরোনো ধ্যানধারণা, বেকারত্ব, প্রাকৃতিক র্দূযোগ প্রবন এলাকা,পারিবারিক ভাঙ্গন, ও অবক্ষয় , প্রশাসনের ব্যর্থতা ইত্যাদি। আজকের শিশু ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
বাল্য বিবাহ পরিমান না কমালে, নারীর প্রতি সহিংসতা, মাতৃমৃত্যুর ঝুকি, অপরিনত গর্ভধারন, প্রতিবন্ধি সন্তান জন্ম দেওয়া, অপুষ্টি জনিত সমস্যা, প্রসাব কালিন শিশু মৃত্যুর ঝুকি, প্রসাব কালিন খিচুনি, প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, মানসিক অশান্তি, বিবাহ বিচ্ছেদ, পরকীয়া, আত্মহত্যা, জরায়ুর ক্যান্সার, ও নবজাতকের বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা, অপরিকল্পিত পরিবার, দাম্পত্য কলহ, পতিতা বৃদ্ধি, নারির শিক্ষার হার হ্রাস, স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার হার বৃদ্ধি, নারীদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বি হওয়ার ক্ষমতা ও সুযোগ কমে যাওয়া সহ নানানবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে। বাল্যবিবাহ নিমূল করা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। বাল্যবিবহের অন্যতম কারন গুলো চিহ্নিত করে, এবং বাবা মার সদিচ্ছাই পারে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে। শুধু তাই নয় স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া, গণমাধ্যম পত্র-পত্রিকায় আন্দোল গড়ে তোলা, বাল্যবিবাহ বন্ধে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বরেরা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারে। বাল্যবিবাহ রোধে যুবকদের নেতৃত্ব সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে,প্রশাসন মাইক এর মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং গ্রামে বাল্যবিবাহের শাস্তি কী হতে পারে তা যদি প্রচার করতো, তাহলে অনেক বাল্যবিাহ রোধ করা সম্ভাব হতো। বাবা-মার পাশাপাশি বাল্যবিাহ রোধে কাজিরা যদি টাকার কাছে হার না মেনে শপদ নিতো তাহলে বাল্যবিবাহ র্নিমূল করা সম্ভাব হতো।
অবশেষে আমি অনুরোধ করি সকল বাবা-মাকে আসুন, আমরা সবাই বাল্যবিবাহকে লাল র্কাড দেই,আমাদের দেশের সরকার দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন,আপোষহীন ভাবে বাল্যবিবাহর বিরুব্দে সংগ্রাম করে যাচ্ছে আমরা তাদের সাথে সামিল হই। এবং বলি আমার মেয়ের বিয়ে আঠারো বছরের আগে নয়, আঠারো বছর পরে হলে ভালো হয়। আমরা বাল্যবিবাহ বন্ধ করবো, সোনার বাংলাদেশ গড়তে সন্তানকে সহযোগীতা করবো,কন্যা সন্তান মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয় ইনশাআল্লাহ।

এসএসসি পরিক্ষার্থী ২০১৮
লুৎফর রহমান বালিকা উচ্চ-বিদ্যালয়,
পদ্দোপাড়া,
পাকুল্ল্যা,
সোনাতলা
বগুড়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here