রাজবাড়ীতে বাড়ছে কলা চাষীর সংখ্যা

0
13

রাজবাড়ী (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে কলাচাষির সংখ্যা। উর্বর মাটি, উঁচু জমি, চাষে ঝুঁকি কম ও বিক্রয়ের সুবিধা থাকায় এ উপজেলার শত শত হেক্টর জমিতে চলছে কলার আবাদ। তবে উপজেলায় সবচেয়ে বেশি কলা উৎপাদন হয় ইসলামপুর ইউনিয়নে।

কলা ঢাকায় আনার জন্য বোঝাই করা হচ্ছে ট্রাকেকলা ঢাকায় আনার জন্য বোঝাই করা হচ্ছে ট্রাকেজেলার বালিয়াকান্দিতে চলতি মৌসুমে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা চাষ করেছেন সবরি, কাঁচা কলা, মদনা কলার। ধান, পাট, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচের তুলনায় কলা চাষে কম ঝুঁকি, অধিক লাভ ও বিক্রয়ের নিশ্চয়তার কারণে দিন দিন কলায় আগ্রহী হচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।

জেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কলার আবাদ হয়েছিলো ৬৫০ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে বালিয়াকান্দিতেই ১৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা কলার চাষাবাদ করে সফলতা পেয়েছেন। পাশাপাশি জেলার সদরে ২৯৫, পাংশায় ১৮৫, কালুখালীতে ১০, গোয়ালন্দে ১০ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হচ্ছে। যা চলতি ১৭-১৮ অর্থবছরে আরও বৃদ্ধি পাবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, কলা চাষের পরামর্শের জন্য কৃষকেরা অনেকবার যোগাযোগ করেও দেখা পাননি স্থানীয় উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাজী আব্দুর রব এর। এতে নানা সময়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কলাচাষিরা।

কলার বাগানকলার বাগান  কৃষকেরা জানান, চারা রোপণের ৯ থেকে ১১ মাসের মধ্যে কলা বিক্রির উপযোগী হয়। প্রতি একরে ১২’শ চারা রোপণ করা যায়। পরিচর্যাসহ এতে খরচ হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। কলা বিক্রি হয় প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো। জমিতে একবার কলা চাষ শুরু করলে ৫ বার পযর্ন্ত কলা পাওয়া যায়। এ উপজেলায় কাঁচাকলা, সবরি কলা এবং মদনা কলা এই তিন জাতের কলা চাষ করেন কৃষকরা। তবে কাঁচা কলার চাষাবাদ ও উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। ২৫ শতাংশ জমিতে ২৫০ থেকে ৩০০ গাছ রোপণ করা করা যায়। শুধুমাত্র দুইবার জৈব সার এবং একবার সেচ দিতে হয়।

বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের সফল কলাচাষিরা বলেন, ‘কলায় বিভিন্ন সময়ে পোকা লাগে। পোকা লাগলে আমরা কৃষি অফিস থেকে কোনোপ্রকার পরামর্শ বা সহযোগিতা মেলে না। ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কোনোদিন আমাদের এলাকায় বাগান দেখতে আসেন না। কোনও পরামর্শও দেন না।’

বাগান থেকে সংগ্রহ করা কলাবাগান থেকে সংগ্রহ করা কলাকলা ব্যবসায়ী মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে ভালো কলার আবাদ হয়। এ অঞ্চল থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ ট্রিপ কলা ট্রাক বোঝাই করে ঢাকায় নিয়ে যাই। বালিয়াকান্দির কলা দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্ট হওয়ায় এ কলার চাহিদা বেশি।’

তবে কৃষদের অভিযোগ অস্বীকার করে বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী আব্দুর রব জানান, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়া এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকি। বিভিন্ন সমস্যায় কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করে থাকি। তবে কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়তো কম হয়েছে।’

জেলা কৃষি অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (শস্য) ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রবের বিরুদ্ধে কৃষকদের যে অভিযোগ তা তদন্ত করা হবে। তার গাফলতি থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here