‘র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ১০০, প্রশ্ন ফাঁসকারী নয় একজনও’

0
5

ঢাকা (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে প্রশ্নপত্র বিক্রির প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে গত দুই মাসে ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে এই গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করছে র‌্যাব। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতারা এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গত ২ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই সারাদেশে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িতদের অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে এবার প্রশ্নফাঁস হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যারা প্রশ্নফাঁসের নামে ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করতে চেয়েছে, তারা আটকা পড়েছে র‌্যাবের গোয়েন্দা জালে।

সারাদেশে র‌্যাবের ১৪টি ব্যাটালিয়নের পরিচালিত ৮০টি অভিযানে ১০০ জনকে ভুয়া প্রশ্নপত্র ছড়ানো ও বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে র‌্যাব-১ পরিচালিত ৯টি অভিযানে ১০ জন, র‌্যাব-২ এর ২টি অভিযানে ২ জন, র‌্যাব-৩ এর ৪টি অভিযানে ৪ জন, র‌্যাব-৪ এর ২টি অভিযানে ২ জন, র‌্যাব-৫ এর ৫টি অভিযানে ৬ জন, র‌্যাব-৬ এর ৫টি অভিযানে ৬ জন, র‌্যাব-৭ এর ৫টি অভিযানে ৫ জন, র‌্যাব-৮ এর ৫টি অভিযানে ৮ জন, র‌্যাব-৯ এর ১টি অভিযানে ৪ জন, র‌্যাব-১০ এর ৩টি অভিযানে ৬ জন, র‌্যাব-১১ এর ৯টি অভিযানে ১৩ জন, র‌্যাব-১২ এর ৮টি অভিযানে ৯ জন, র‌্যাব-১৩ এর ১৪টি অভিযানে ১৬ জন ও র‌্যাব-১৪ এর পরিচালিত ৮টি অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, এবার পরীক্ষার শুরুর আগে থেকেই এই প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে তারা সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন। যে কারণে এবার কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে শোনা যায়নি। তবে যারা ভুয়া প্রশ্নপত্র বানিয়ে সেগুলো বিক্রি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে ভুয়া গুজব ওঠে এবার সেটাও হয়নি।
গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি ১৪টি অভিযান পরিচালনা করে ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩। এই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক  বলেন, ‘এরা মূলত প্রতারক। প্রতারণার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের ফাঁদ পেতে টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল। তাদের কেউই সরাসরি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত নয়।’
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ায় ভুয়া প্রশ্নপত্র বানিয়ে প্রতারণা করতে চেয়েছিল এই প্রতারকরা। তবে প্রশ্ন ফাঁস হলে তাদের মাধ্যমে সাধারণ পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে যেতো বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।
বোর্ড প্রশ্নের মতো হুবহু প্রশ্নপত্র বানিয়ে সেগুলো নির্ধারিত পরীক্ষার আগে সরবরাহ করতো এসব প্রতারক বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেসবুক বা ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে প্রশ্নপত্র বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কাজটা কিছু অসাধু যুবক বেশকিছু দিন ধরে করে আসছিল। তারা টাকার বিনিময়ে নিজেরা প্রশ্নপত্র কিনে আনে। আবার সেই প্রশ্নপত্র নিজেদের গ্রুপে গ্রুপ মেম্বারদের কাছে বিক্রি করতো। এবার সেটা তারা পারেনি। কারণ মূল প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। যে কারণে তারা হুবহু বোর্ড প্রশ্নের মতো প্রশ্নপত্র বানিয়ে পরীক্ষার আগের রাতে টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করতো। এভাবে তারা প্রতারণা করে আসছিল।’
আটক বা গ্রেফতারকৃত সবাই প্রতারক হলে মূল প্রশ্নফাঁসকারী কারা? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। যারা প্রশ্নফাঁসের নামে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে তারা প্রতারক। এই প্রতারকদের অনেকে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ায় এবার গুজবও কম ছড়িয়েছে বলে দাবি র‌্যাব কর্মকর্তাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here