সোহেল তাজের স্ট্যাটাস নিয়ে আ’লীগে তোলপাড়

0
3

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘স্বৈরাচারী শাসন’ বিষয়ে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচারী শাসনের আটটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই স্ট্যাটাসটি দেন তিনি।এই স্ট্যাটাস নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে তোলপাড় চলছে।আ’লীগের একাধিক শীর্ষ  নেতার মতে, সোহেল তাজের এমন স্ট্যাটাস আওয়ামীলীগ সম্পর্কে  সাধারণ মানুষের মধ্যে নৈতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ সোহেল তাজ আওয়ামী পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ সদস্য।সে যদি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকে ইঙ্গিত করে এমন স্ট্যাটাস দিতে পারে তাহলে আওয়ামীলীগ সম্পর্কে মানুষের বাজে ধারনা আসতেই পারে। তাছাড়া বিএনপি-জামায়াত জোট দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামীলীগ তথা সরকারে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারি আখ্যা দিয়ে আসছে। তখন এমন স্ট্যাটাস তাদের বক্তব্যকে সমর্থণ করে। তাজের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘বঙ্গবন্ধু এবং তাজউদ্দীন আহমদ এর হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ তার জন্ম লগ্ন থেকে গণমানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন করেছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছে এই দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য I পরবর্তীতে একই ধারায় আওয়ামীলীগ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে I

ইদানিং কালে আমরা অনেকেই স্বৈরাচারী শাসন কি তা হয়তো ভুলে গিয়েছি I নতুন প্রজন্মের জন্য ছোট্ট করে নিম্নে কিছু নমুনা দিলাম যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে স্বৈরাচার কি তা চিহ্নিত করতে পারি I

স্বৈরাচারী শাসন চেকলিস্ট:

১. যখন সাধারণ মানুষ তার মুক্ত চিন্তা ব্যাক্ত করতে ভয় পায় I

২. যখন দল, সরকার এবং রাষ্ট্র একাকার হয়ে যায় আর সরকার কে সমালোচনা করলে সেটাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে আখ্যায়িত করা হয়

৩. যখন দেশের প্রচলিত নানা আইন এবং নতুন নতুন আইন সৃষ্টি/তৈরি করে তার অপব্যবহার করে রিমান্ডে নেয়া এবং নির্যাতন করা হয়

৪. বিনা বিচারে হত্যা ও গুম করে ফেলা হয় I

৫. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ কে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ব্যবহার করা হয়

৬. আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী পুলিশ সহ অন্যন্য সংস্থাকে পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়

৭. যখন সাধারণ নাগরিক সহ সকলের কথা বার্তা, ফোন আলাপ, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মনিটর ও রেকর্ড করা হয়

৮. যখন এই সমস্ত বিষয় রিপোর্ট না করার জন্য সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিকদের গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে হুমকি দেয়া হয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here