নারায়ণগঞ্জে প্রধান বাড়ির খপ্পরে শামীম ওসমান

0
12

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (বাংলা ২৪ বিডি নিউজ): নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানকে নিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির একটি ফেসবুক স্ট্যাটার্স নিয়ে গত ক’দিন ধরে তোলপাড় চলছে। ওই স্ট্যাটার্সে রনি শামীম ওসমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, পুলিশ বাহিনী বাদ দিয়ে রাস্তায় নামেন দেখি কার কত হেডম (শক্তি) আছে। এ নিয়ে শামীম ওসমান শিবিরে চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চলছে নানাভাবে রনিকে শায়েস্থা করার হুমকি-ধামকি। তবে সেটা সংবাদ মাধ্যম ও ফেসবুকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো রনি এত সাহস পেল কোথায়, শামীম ওসমানকে চ্যালেঞ্জ করার। তার পেছনে কে? কারা তাকে সাহস যোগাচ্ছে? কাদের শক্তিতে সে শামীম ওসমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্যমতে, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির পিছনে রয়েছে তার মামা এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান রিয়াদ, অপর মামাতো ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান।

ফেসবুকে রনির স্টাটাস

বৃহত্তর পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রধান বাড়িতে উপরোক্ত তিনজনই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিএনপির এক নিস্ট নেতাকর্মী হিসেবেই সুপরিচিতি রয়েছে। মোটকথা ওই পরিবারের জন্য আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলেও ভালো বিএনপি আসলেও ভালো। মানে আওয়ামীলীগের সময়েও নিরাপদ বিএনপি আসলেও নিরাপদ।
মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদের বাবা জালাল উদ্দিন প্রধান ওরফে জালা প্রধান বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তার দুই চাচা গিয়াস উদ্দিন প্রধান ও জসিম উদ্দিন প্রধান যথাক্রমে মৎস্যজীবি দল ও শ্রসিক দলের রাজনীতিতে ভাইটাল পদের অধিকারী। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাফেল প্রধানের বাবা মো. কাদির প্রধানও বিএনপির রাজনীতি করেছেন ব্যাপক সুনামের সহিত। রাফেলের চাচাতো ভাই বর্তমানে এনায়েতনগর ইউপির ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আতাউর রহমান প্রধান যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় কর্মী এবং অপর ভাই সাইফুর রহমান প্রধান কাউন্সিলর খোরশেদের আস্থাভাজন মহানগর যুবদলের রাজনীতিতে এখনও সম্পৃক্ত। রাফেল প্রধানের ফুফা মো. মোস্তফা কন্ট্রাকটর অর্থাৎ রনির বাবা রুপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভাইটাল পদের অধিকারী। মতি প্রধান, রিয়াদ প্রধান ও রাফেল প্রধানের নেপথ্য শেল্টার পেয়ে এতদিন মামলা মোকদ্দমা হতে নিরাপদেই ছিল রনিসহ গোষ্ঠির অন্যান্য সদস্যরা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ও আস্কারা পেয়ে রনি মাথায় উঠে। এ কারণেই জনপ্রিয় এমপি শামীম ওসমানকে হেডাম থাকলে পুলিশ ছাড়া রাজপথে আসুন, দেখবো কত হেডাম আছেসহ নানান বাজে মন্তব্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, বিএনপি করার অপরাধে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা একাধিক মামলায় জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়া, তখন ঠিক রিয়াদ ও রাফেলের আতœীয় হওয়ার সুবাদে কোন প্রকার মামলা বিহীনভাবেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসা বাড়িতেই দিন কাটাচ্ছে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মশিউর রহমান রনি গং। অথচ প্রায় ৯ বছর পুর্বে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের চাপে পড়ে মিছিলে অংশ নিয়ে গত সপ্তাহে ফতুল্লা মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলায় জেলে দিনানিপাত করছেন ফতুল্লার কাশিপুর শান্তিনগর এলাকার চা দোকনী চুন্নু দেওয়ান। আবার ঝুট ব্যবসায়ী ও আওয়ামীলীগ নেতা রকমত ওরফে কাইল্লা রকমতের ভাতিজি জামাই এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজকে জেল হাজতে যেতে হয়নি বরং স্ব-সম্মানে তাকে ছেড়ে দেয় ফতুল্লা থানা পুলিশ। অবশ্য সেদিন বিএনপি নেতা সিরাজকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় ছুটে গিয়েছিলেন এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামানসহ অনেক আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। আবদুল হামিদ নামে পশ্চিম মাসদাইর এলাকার এক যুবক জানান, রনি’রা রিয়াদ ও রাফেলের আতœীয়। তাই ওদের জন্য বিএনপি করা জায়েজ। যদি তাই না হতো তাহলে দেশব্যাপী পুলিশ যেভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে সেখানে রিয়াদ, রাফেলের বাপ-চাচারাও আসামী হতো। কিন্তু ওনাদের জন্য আর্শিবাদ হলো মতি প্রধান, রিয়াদ ও রাফেল। কারণ তারা আওয়ামীলীগ করেন। ক্ষোভের সাথে সে আরো বলে, এ যেন আওয়ামীলীগের ছায়াতলে বিএনপির নিরাপদ ‘বসবাস’।
এদিকে রিয়াদ শামীম ওসমানের উত্তসুরি অয়ন ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে তোলারাম কলেজে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী সংসদ তার চেম্বারে পরিনত হয়েছে। সব ধরনের অপকর্ম চলে এই রুমে। রিয়াদ ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ডে নানা অপকর্ম করলেও তার কোন চিন্তা নাই। আওয়ামীলীগ কখনো ক্ষমতাচ্যুত হলে তার কিছু হবে না। কারণ বিএনপিতে তার শেল্টার রয়েছে। ক্ষতি বা বদনাম যা হবে ওসমান পরিবারের। এমনটাই বলেছে তোলারাম কলেজের একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here